আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৯%

এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা আগামী এক মাসের মধ্যে: শিক্ষামন্ত্রী

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:18:48 pm, Saturday, 31 October 2026
  • 17

এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা আগামী এক মাসের মধ্যে: শিক্ষামন্ত্রী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আগামী এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের একটি বছর যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারের পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫।

অন্যদিকে, এবারের পরীক্ষায় মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৩ জন। তিনি বলেন, ‘যারা এক ও দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের পরীক্ষা আমরা এক মাসের মধ্যে নিয়ে নেব। তাহলে যেন তাদের আগামী দিনে আর একটি বছর নষ্ট না হয়। এটি হচ্ছে আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা। ’ পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সময় নির্ধারণের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাত কিংবা ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলেও এতে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাবে না।

আবার পরীক্ষা নিতে বেশি দেরি হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তির কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে কোনোভাবেই এক মাসের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে না। ১ থেকে ৭ নভেম্বর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা পড়ার পর উত্তরপত্রগুলো পুনরায় যাচাই করা হবে। তিনি বলেন, গত এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়েছিল। সেগুলো যাচাইয়ের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করে এবং নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এ জন্য পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি খাতা মূল্যায়নে গুরুতর ভুল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে পরীক্ষা গ্রহণ থেকে শুরু করে ফল প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান, যে যা করেছে তার সঠিকভাবে মূল্যায়িত হওয়া। কাউকে যেন অবমূল্যায়িত করা না হয়। স্বচ্ছ ফল আমাদের দিতে হবে। ’ এবারের ফলাফলে শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্বলতা ও ঘাটতি উঠে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, এটি শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র। এসব ঘাটতি চিহ্নিত করে কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো কাজ করবে।

পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাসের হার কমাকে সন্তোষজনক মনে করেন না শিক্ষামন্ত্রী এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাসের হার কমে যাওয়াকে তিনি সন্তোষজনক হিসেবে দেখছেন না।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পদ্ধতি, অভিভাবকদের দায়িত্ব, শিক্ষার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা বের করতে হবে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইংরেজি বিষয়ে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে ১৩ হাজার ৮৪৯ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে।

ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনে কাছাকাছি অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এগুলো একীভূত করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে কোনো শিক্ষকের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়মিত হতে হবে, বাড়িতে পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং মোবাইল ফোনের আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।

শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বাজেট বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিচ্ছে। আগের বছরগুলোতে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার বেশি থাকার পেছনে কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তা তদন্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুনর্নিরীক্ষণের কাজ শেষ হলে আগের ফলাফলে কোনো ধরনের ভুল বা অসংগতি ছিল কি না, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি পরীক্ষক ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ-সংক্রান্ত শর্ত শিথিল করা হবে কি না, জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কী ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে, সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

তবে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ সবার জন্য থাকবে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে এবার প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে। অন্যদিকে, পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। এনসিটিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এসব বিষয় খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষকদের মধ্যে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তনের ঘটনাই এর একটি প্রমাণ। তিনি আরও জানান, কিছু জায়গায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষার ফল পরিবর্তনের চেষ্টাও করা হয়েছে। এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে।

বাকি অভিযোগগুলোও তদন্ত করে দেখা হবে। শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম, পরীক্ষকদের দায়িত্ব পালন এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা রয়েছে। এসব সমস্যা একে একে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

এইচএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি ও আইসিটিতে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী ফেল

এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা আগামী এক মাসের মধ্যে: শিক্ষামন্ত্রী

Update Time : 01:18:48 pm, Saturday, 31 October 2026

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা আগামী এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষার্থীদের একটি বছর যেন নষ্ট না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারের পরীক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। সব মিলিয়ে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫।

অন্যদিকে, এবারের পরীক্ষায় মোট অকৃতকার্য হয়েছে ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৪১৩ জন। তিনি বলেন, ‘যারা এক ও দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের পরীক্ষা আমরা এক মাসের মধ্যে নিয়ে নেব। তাহলে যেন তাদের আগামী দিনে আর একটি বছর নষ্ট না হয়। এটি হচ্ছে আমাদের পরবর্তী পরিকল্পনা। ’ পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সময় নির্ধারণের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাত কিংবা ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলেও এতে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাবে না।

আবার পরীক্ষা নিতে বেশি দেরি হলে বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তির কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে কোনোভাবেই এক মাসের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হবে না। ১ থেকে ৭ নভেম্বর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী জানান, আগামী ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা পড়ার পর উত্তরপত্রগুলো পুনরায় যাচাই করা হবে। তিনি বলেন, গত এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ১৩ লাখ উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন জমা পড়েছিল। সেগুলো যাচাইয়ের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করে এবং নতুন করে ৩ হাজার ৭৯ জন জিপিএ-৫ অর্জন করে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে কাজ করছে মন্ত্রণালয়। এ জন্য পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি খাতা মূল্যায়নে গুরুতর ভুল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে পরীক্ষা গ্রহণ থেকে শুরু করে ফল প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান, যে যা করেছে তার সঠিকভাবে মূল্যায়িত হওয়া। কাউকে যেন অবমূল্যায়িত করা না হয়। স্বচ্ছ ফল আমাদের দিতে হবে। ’ এবারের ফলাফলে শিক্ষার্থীদের শেখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দুর্বলতা ও ঘাটতি উঠে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, এটি শিক্ষাব্যবস্থার বাস্তব চিত্র। এসব ঘাটতি চিহ্নিত করে কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডগুলো কাজ করবে।

পাশাপাশি অভিভাবক ও শিক্ষকদেরও এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পাসের হার কমাকে সন্তোষজনক মনে করেন না শিক্ষামন্ত্রী এবার এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা কমে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাসের হার কমে যাওয়াকে তিনি সন্তোষজনক হিসেবে দেখছেন না।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পদ্ধতি, অভিভাবকদের দায়িত্ব, শিক্ষার পরিবেশসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করে কোথায় ঘাটতি রয়েছে, তা বের করতে হবে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইংরেজি বিষয়ে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৮ জন এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে ১৩ হাজার ৮৪৯ জন শিক্ষার্থী ফেল করেছে।

ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা কাটাতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে। প্রয়োজনে কাছাকাছি অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে এগুলো একীভূত করা যায় কি না, তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে কোনো শিক্ষকের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা ও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে নিয়মিত হতে হবে, বাড়িতে পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে এবং মোবাইল ফোনের আসক্তি ও মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।

শিক্ষার্থীদের দেশের ভবিষ্যৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য বাজেট বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে গড়ে তুলতে সরকার প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দিচ্ছে। আগের বছরগুলোতে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার বেশি থাকার পেছনে কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তা তদন্ত করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

পুনর্নিরীক্ষণের কাজ শেষ হলে আগের ফলাফলে কোনো ধরনের ভুল বা অসংগতি ছিল কি না, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি পরীক্ষক ও শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জিপিএ-সংক্রান্ত শর্ত শিথিল করা হবে কি না, জানতে চাইলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় কী ধরনের মানদণ্ড অনুসরণ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে, সেটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্ত।

তবে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ সবার জন্য থাকবে। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে এবার প্রায় ১৩ লাখ ৪০ হাজার আসন রয়েছে। অন্যদিকে, পাস করা শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১২ লাখ। এনসিটিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং প্রশ্নপত্র তৈরি ও উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে এসব বিষয় খতিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষকদের মধ্যে অনেক দুর্বলতা রয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ৪৫ হাজার শিক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তনের ঘটনাই এর একটি প্রমাণ। তিনি আরও জানান, কিছু জায়গায় এমসিকিউ প্রশ্নপত্র পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি সংঘবদ্ধভাবে পরীক্ষার ফল পরিবর্তনের চেষ্টাও করা হয়েছে। এ ধরনের কয়েকটি ঘটনা ইতোমধ্যে শনাক্ত হয়েছে।

বাকি অভিযোগগুলোও তদন্ত করে দেখা হবে। শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, পরীক্ষা পদ্ধতি, শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম, পরীক্ষকদের দায়িত্ব পালন এবং প্রশ্নপত্র প্রণয়নসহ শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা রয়েছে। এসব সমস্যা একে একে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।