আজ শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
১৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৫°C
সর্বোচ্চ: ৩০°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৯%

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪১ হাজারেরও বেশি কর্মীর তথ্য ফাঁস

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:27:14 am, Friday, 30 October 2026
  • 21

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪১ হাজারেরও বেশি কর্মীর তথ্য ফাঁস

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (ডিএইচএস) ৪১ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য প্রকাশ করেছে একটি অলাভজনক তথ্য ফাঁসকারী গোষ্ঠী। বুধবার গোষ্ঠীটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই ফাঁস হওয়া তথ্যের তালিকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযান বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস’ (ডিডিওএস) নামের সংগঠনের বরাতে জানায়, ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামে পরিচিত একটি হ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠীর কাছ থেকে তারা এসব সংবেদনশীল তথ্য পেয়েছে। ওই গোষ্ঠী ‘আইসপিক’ নামের একটি অনুসন্ধান সরঞ্জাম তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে কর্মীদের নাম, কার্যালয় ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খোঁজা যায়।

ডিডিওএসের বিবৃতিতে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত কর্মী মাইয়া আরসন ক্রিউ বলেন, ‘আকার ও প্রভাব—উভয় বিবেচনাতেই এই তথ্যভান্ডার বিশাল।’ তিনি বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে নজিরবিহীন ধারণা দেয়।

মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা, যার মধ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টও (আইসিই) রয়েছে, সেগুলোতে কারা কী কাজ করেন, তা এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প যে কঠোর অভিবাসন অভিযান শুরু করেন, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিএইচএস ও আইসিই।

ডিডিওএসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্ট এ তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ফাঁস হওয়া তথ্যের মাধ্যমে গোপন ও ছদ্মবেশী অভিযান তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, সরকারের তথ্য ফাঁসকারীদের শনাক্ত করার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ডিএইচএসের ক্রমবর্ধমান প্রত্যর্পণ ও বহিষ্কার কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদেরও শনাক্ত করা সম্ভব।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানে হাজার হাজার নথিবিহীন অভিবাসীকে আটক ও বহিষ্কার করা হয়েছে। এ অভিযানের জালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরাও পড়েছেন।

গত মাসে ডিএইচএস জানায়, তারা ‘অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া শহরগুলোতে’ অভিযান জোরদার করতে যাচ্ছে। এসব শহরে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা সীমিত রাখার নীতি অনুসরণ করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এ ঘোষণার মাধ্যমে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেয়।

নির্দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের এক তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গত কয়েক মাসে ডিএইচএস গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের সময়কার অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রমকেও ছাড়িয়ে গেছে প্রশাসনটি।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে ডিএইচএস ও এর অধীন আইসিইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ‘প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করেছে’।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

পাবনায় বিএনপি নেতাসহ দুজনকে গুলি করে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৪১ হাজারেরও বেশি কর্মীর তথ্য ফাঁস

Update Time : 01:27:14 am, Friday, 30 October 2026

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (ডিএইচএস) ৪১ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য প্রকাশ করেছে একটি অলাভজনক তথ্য ফাঁসকারী গোষ্ঠী। বুধবার গোষ্ঠীটির দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই ফাঁস হওয়া তথ্যের তালিকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী অভিযান বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তাদের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি ‘ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস’ (ডিডিওএস) নামের সংগঠনের বরাতে জানায়, ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামে পরিচিত একটি হ্যাকটিভিস্ট গোষ্ঠীর কাছ থেকে তারা এসব সংবেদনশীল তথ্য পেয়েছে। ওই গোষ্ঠী ‘আইসপিক’ নামের একটি অনুসন্ধান সরঞ্জাম তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে কর্মীদের নাম, কার্যালয় ও দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য খোঁজা যায়।

ডিডিওএসের বিবৃতিতে সংগঠনটির সঙ্গে যুক্ত কর্মী মাইয়া আরসন ক্রিউ বলেন, ‘আকার ও প্রভাব—উভয় বিবেচনাতেই এই তথ্যভান্ডার বিশাল।’ তিনি বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামো সম্পর্কে নজিরবিহীন ধারণা দেয়।

মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সংস্থা, যার মধ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টও (আইসিই) রয়েছে, সেগুলোতে কারা কী কাজ করেন, তা এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাম্প যে কঠোর অভিবাসন অভিযান শুরু করেন, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ডিএইচএস ও আইসিই।

ডিডিওএসের সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্ট এ তথ্য ফাঁসের ঘটনাকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, ফাঁস হওয়া তথ্যের মাধ্যমে গোপন ও ছদ্মবেশী অভিযান তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা, সরকারের তথ্য ফাঁসকারীদের শনাক্ত করার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ডিএইচএসের ক্রমবর্ধমান প্রত্যর্পণ ও বহিষ্কার কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদেরও শনাক্ত করা সম্ভব।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী অভিযানে হাজার হাজার নথিবিহীন অভিবাসীকে আটক ও বহিষ্কার করা হয়েছে। এ অভিযানের জালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরাও পড়েছেন।

গত মাসে ডিএইচএস জানায়, তারা ‘অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া শহরগুলোতে’ অভিযান জোরদার করতে যাচ্ছে। এসব শহরে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা সীমিত রাখার নীতি অনুসরণ করা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এ ঘোষণার মাধ্যমে অভিবাসনবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেয়।

নির্দলীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউটের এক তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে গত কয়েক মাসে ডিএইচএস গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে। এ ক্ষেত্রে তার পূর্বসূরি জো বাইডেনের সময়কার অভিবাসন আইন প্রয়োগের কার্যক্রমকেও ছাড়িয়ে গেছে প্রশাসনটি।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম ১৮ মাসে ডিএইচএস ও এর অধীন আইসিইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ‘প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে বহিষ্কার করেছে’।