আজ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬%

আক্কেলপুরে হোটেলে নাশতার সময় ৫ লাখ টাকার ব্যাগ উধাও

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:38:56 pm, Friday, 2 October 2026
  • 69

আক্কেলপুরে হোটেলে নাশতার সময় ৫ লাখ টাকার ব্যাগ উধাও

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হোটেলে নাশতা করতে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগ উধাও হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ধান ব্যবসায়ী। হোটেল থেকে পাশের চায়ের দোকানে যাওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই চেয়ারে রাখা টাকার ব্যাগটি উধাও হয়ে যায়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে এস এম হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হোটেলের ক্যাশিয়ারসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টা পর ব্যবসায়ী মো. লিটন হোসেন আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগকারী লিটন হোসেনের বাড়ি বগুড়ার শেরপুরে। তিনি ট্রাকে করে নওগাঁর ধামইরহাটে ধান কিনতে যাচ্ছিলেন। পথে আক্কেলপুর শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে ট্রাক থামিয়ে চালক আলম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে নাশতা করতে যান। তার সঙ্গে ধান কেনার পাঁচ লাখ টাকা ছিল।

লিটন হোসেন বলেন, নাশতার সময় টাকার ব্যাগটি পাশের একটি চেয়ারে রেখে তিনি খাবার খান। নাশতা শেষে হাত ধুয়ে ক্যাশে থাকা নারী ক্যাশিয়ারকে বিল দিয়ে পাশের দোকানে চা খেতে যান। কিছুক্ষণ পর ব্যাগের কথা মনে পড়লে দ্রুত হোটেলে ফিরে আসেন। তখন ক্যাশে নারী ক্যাশিয়ারও ছিলেন না। গিয়ে দেখেন, চেয়ারে রাখা টাকার ব্যাগটি নেই। হোটেল থেকে বের হয়ে চায়ের দোকানে যাওয়ার পর এক মিনিটের মধ্যেই ব্যাগটি উধাও হয়।

ওই সময় বাইরে থেকে কেউ হোটেলে ঢোকেননি। পরে হোটেল মালিকের স্ত্রী ও কর্মচারীদের কাছে ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলেও তারা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপর পুলিশকে খবর দেন তিনি। ট্রাকচালক আলম হোসেন বলেন, লিটন তাকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে নাশতা করতে ঢোকেন। তার কাছে ধান কেনার পাঁচ লাখ টাকা ছিল। লিটন পাশের চেয়ারে টাকার ব্যাগ রেখে নাশতা করছিলেন।

তার নাশতা খাওয়া শেষ হওয়ায় তিনি হোটেলের পাশের চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন। কিছুক্ষণ পর লিটনও সেখানে এসে চায়ের অর্ডার করেন। তিনি টাকার ব্যাগের কথা জিজ্ঞাসা করলে লিটন দ্রুত হোটেলে গিয়ে দেখেন, ব্যাগটি নেই। আলম হোসেন আরও বলেন, এক মিনিটের মধ্যেই পাঁচ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগটি উধাও হয়ে যায়। পরে কে টেবিল পরিষ্কার করেছেন, তা হোটেল মালিক ও কর্মচারীরা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।

খবর পেয়ে আক্কেলপুর থানার পুলিশ হোটেলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে হোটেলের ক্যাশিয়ার মাহফুজা খাতুন (৫০), তার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং দুই কর্মচারী মিন্টু (৪০) ও আবিদকে (৩০) থানায় নিয়ে যায়। হোটেল মালিক সোলাইমান আলীর বাড়ি পাশের কালাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামে। তিনি ভাড়া নিয়ে হোটেলটি চালান। সোলাইমান আলী বলেন, শুক্রবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় সাধারণত খরিদ্দার কম থাকে।

তবে সকালে নাশতার সময় কিছুটা ভিড় হয়। তিনি স্ত্রীকে ক্যাশে রেখে বাজারে গিয়েছিলেন। পরে হোটেলে এসে পুলিশ দেখতে পান। হোটেলের কেউ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বাসা ও হোটেলের বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও টাকা পাওয়া যায়নি। হোটেলে কোনো সিসি ক্যামেরাও নেই। আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হোটেলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

হোটেল মালিকের স্ত্রী ও কর্মচারীদের কথাবার্তায় অসংগতি পাওয়া গেছে। তবে তারা টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আক্কেলপুর থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, লিটন হোসেন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি: সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি বড় ভাইয়ের

আক্কেলপুরে হোটেলে নাশতার সময় ৫ লাখ টাকার ব্যাগ উধাও

Update Time : 11:38:56 pm, Friday, 2 October 2026

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হোটেলে নাশতা করতে গিয়ে পাঁচ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগ উধাও হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক ধান ব্যবসায়ী। হোটেল থেকে পাশের চায়ের দোকানে যাওয়ার এক মিনিটের মধ্যেই চেয়ারে রাখা টাকার ব্যাগটি উধাও হয়ে যায়। শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে এস এম হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হোটেলের ক্যাশিয়ারসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

ঘটনার প্রায় নয় ঘণ্টা পর ব্যবসায়ী মো. লিটন হোসেন আক্কেলপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগকারী লিটন হোসেনের বাড়ি বগুড়ার শেরপুরে। তিনি ট্রাকে করে নওগাঁর ধামইরহাটে ধান কিনতে যাচ্ছিলেন। পথে আক্কেলপুর শহরের উপজেলা পরিষদের সামনে ট্রাক থামিয়ে চালক আলম হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে নাশতা করতে যান। তার সঙ্গে ধান কেনার পাঁচ লাখ টাকা ছিল।

লিটন হোসেন বলেন, নাশতার সময় টাকার ব্যাগটি পাশের একটি চেয়ারে রেখে তিনি খাবার খান। নাশতা শেষে হাত ধুয়ে ক্যাশে থাকা নারী ক্যাশিয়ারকে বিল দিয়ে পাশের দোকানে চা খেতে যান। কিছুক্ষণ পর ব্যাগের কথা মনে পড়লে দ্রুত হোটেলে ফিরে আসেন। তখন ক্যাশে নারী ক্যাশিয়ারও ছিলেন না। গিয়ে দেখেন, চেয়ারে রাখা টাকার ব্যাগটি নেই। হোটেল থেকে বের হয়ে চায়ের দোকানে যাওয়ার পর এক মিনিটের মধ্যেই ব্যাগটি উধাও হয়।

ওই সময় বাইরে থেকে কেউ হোটেলে ঢোকেননি। পরে হোটেল মালিকের স্ত্রী ও কর্মচারীদের কাছে ব্যাগটি ফেরত দেওয়ার অনুরোধ করলেও তারা টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এরপর পুলিশকে খবর দেন তিনি। ট্রাকচালক আলম হোসেন বলেন, লিটন তাকে সঙ্গে নিয়ে হোটেলে নাশতা করতে ঢোকেন। তার কাছে ধান কেনার পাঁচ লাখ টাকা ছিল। লিটন পাশের চেয়ারে টাকার ব্যাগ রেখে নাশতা করছিলেন।

তার নাশতা খাওয়া শেষ হওয়ায় তিনি হোটেলের পাশের চায়ের দোকানে গিয়ে বসেন। কিছুক্ষণ পর লিটনও সেখানে এসে চায়ের অর্ডার করেন। তিনি টাকার ব্যাগের কথা জিজ্ঞাসা করলে লিটন দ্রুত হোটেলে গিয়ে দেখেন, ব্যাগটি নেই। আলম হোসেন আরও বলেন, এক মিনিটের মধ্যেই পাঁচ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগটি উধাও হয়ে যায়। পরে কে টেবিল পরিষ্কার করেছেন, তা হোটেল মালিক ও কর্মচারীরা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি।

খবর পেয়ে আক্কেলপুর থানার পুলিশ হোটেলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে হোটেলের ক্যাশিয়ার মাহফুজা খাতুন (৫০), তার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩২) এবং দুই কর্মচারী মিন্টু (৪০) ও আবিদকে (৩০) থানায় নিয়ে যায়। হোটেল মালিক সোলাইমান আলীর বাড়ি পাশের কালাই উপজেলার মহেশপুর গ্রামে। তিনি ভাড়া নিয়ে হোটেলটি চালান। সোলাইমান আলী বলেন, শুক্রবার সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় সাধারণত খরিদ্দার কম থাকে।

তবে সকালে নাশতার সময় কিছুটা ভিড় হয়। তিনি স্ত্রীকে ক্যাশে রেখে বাজারে গিয়েছিলেন। পরে হোটেলে এসে পুলিশ দেখতে পান। হোটেলের কেউ টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বাসা ও হোটেলের বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও টাকা পাওয়া যায়নি। হোটেলে কোনো সিসি ক্যামেরাও নেই। আক্কেলপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রশিদ বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ হোটেলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

হোটেল মালিকের স্ত্রী ও কর্মচারীদের কথাবার্তায় অসংগতি পাওয়া গেছে। তবে তারা টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আক্কেলপুর থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, লিটন হোসেন থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।