চাকসুর সপ্তম ক্যাবিনেট যে পরিমাণ কাজ করেছে, অতীতের কোনো ক্যাবিনেট তা করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না বলে চ্যালেঞ্জ করেছেন চাকসু ভিপি। তবে পরবর্তী সংসদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে আগামী দিনেও তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
চাকসু প্রকাশিত বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সাময়িকী ‘নবদিগন্ত’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এসব কথা বলেন। চাকসুর কার্যকাল শেষ হলেও শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, শিক্ষার্থীদের সেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।
চাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে কাজ করে যাব। প্রয়োজনে অন্য ব্যানারে হলেও ইশতেহার বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। দায়িত্ব পালনকালে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ইশতেহার নিয়ে ক্যাবিনেটের সদস্যদের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেছি। কমিটি গঠন করে যেসব জায়গায় ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট দায়িত্ব দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেছি।
যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, সেগুলোর ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে হবে। চাকসুর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ভিপি বলেন, সংসদের সদস্যদের অনেকেই শুরুতে সাংগঠনিকভাবে কাজ পরিচালনায় নতুন ছিলেন। তবে এক বছরের দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে তাঁদের কাজের অভিজ্ঞতা বেড়েছে। ভবিষ্যতে তাঁদের অনেকে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্বে আসবেন।
চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাইদের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ছোট-বড় বিভিন্ন কর্মসূচিতে জিএস আন্তরিকতার সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছেন। কোন কর্মসূচিতে গেলে সম্মান বাড়বে কিংবা কমবে, তা বিবেচনা না করে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণে অংশ নিয়েছেন। চাকসুর সদস্যদের জবাবদিহির বিষয়ে ভিপি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
কোনো সদস্য অনৈতিক বা আর্থিক অনিয়মে জড়িয়ে পড়লে কিংবা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করলে শিক্ষার্থীদের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এ কারণে দায়িত্ব পালনকালে সদস্যদের বারবার প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছি আমি। চাকসুর কার্যক্রম সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি থাকলেও কোনো কারণে ফেসবুক আইডি হারিয়ে গেলে সেসব স্মৃতি হারিয়ে যেতে পারে।
তাই দায়িত্ব পালনকালে করা কাজগুলো বই, ম্যাগাজিন ও জার্নালের মতো প্রকাশনার মাধ্যমে সংরক্ষণ করা জরুরি। তিনি বলেন, বিশ বছর কিংবা পঞ্চাশ বছর পরও যেন দায়িত্ব পালনের সময় করা কাজগুলো দেখানো যায়, সেই চিন্তা থেকেই স্থায়ী প্রকাশনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একটি বই বা ম্যাগাজিন পরবর্তী ছাত্র সংসদের সদস্যদের কাজ করার অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
আগের চাকসুগুলোর কার্যক্রম ও প্রকাশনা সংগ্রহের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, আশি-একাশির চাকসুর সময়ের কোনো সাময়িকী বা প্রকাশনা খুঁজে বের করার চেষ্টা করেও সহজে তা পাইনি। এ অভিজ্ঞতা থেকেই বর্তমান চাকসুর কাজগুলো সংরক্ষণ করে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি।






















