আজ রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৪°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে বিএনপি: শফিকুর রহমান

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:55:56 pm, Sunday, 25 October 2026
  • 10

নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে বিএনপি: শফিকুর রহমান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিএনপি নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে। আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি। নাউজুবিল্লাহ। একজনের গায়ে কোনো কাপড় নেই, আরেকজনের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় আছে। তো যার গায়ে কাপড় নেই, সে বলছে, ওই দেখো, ওর গায়ে কোনো জামা নেই। তিনি আরও বলেন, আপনারা নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি। আপনাদের দলের নাটোরের এমপি বলেছেন, তাদের সফলতার পেছনে আওয়ামী লীগের ভাইয়েরা রয়েছেন, আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ দেবেন। নিজের দল বিএনপিকে ধন্যবাদ দিতে পারছেন না। শফিকুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতাকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এবং আপনাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দিচ্ছেন।

তারপর বলছেন, সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে। এখানে ইঙ্গিত করে বলছেন, আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে, তাহলে আপনারা সরকারে এসেছেন কেন? এই টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র ও মাদক আসে কেন? ঠেকাতে পারেন না কেন? যে সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঠেকানোর যোগ্যতা নেই, সেই সরকারের দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নেই।

জামায়াতের আমির বলেন, জনগণকে কার্ড দেবেন, দিচ্ছেন, দিন। কিন্তু কয়জনকে কার্ড দিয়েছেন? কয়জনকে দেবেন? কখন দেবেন? এর আগে গরিব-ধনী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার ঘাড়ে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন, একটার পর একটা। মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, প্রবাসে অস্থিরতার কারণে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা দেশে ফিরে আসছেন।

তাদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। চাঁদাবাজির জ্বালায় অতিষ্ঠ জনগণ। এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছে। দুই দিন আগে গণমাধ্যমে দেখলাম, পঞ্চগড়ে চারটি লাউ নাকি এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা মনের জ্বালায় এগুলো খাল-বিলে ফেলে দিচ্ছেন, উপযুক্ত দাম না পেয়ে। রাজধানীতে আপনারা এক টাকায় কি একটি লাউ কিনতে পারেন?

৪০, ৫০, ৬০ টাকা লাগে। ওই চাঁদাবাজদের কারণে এই কর আপনাদের ওপর বসেছে। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি, দখলদারি বন্ধ করতে পারেননি। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার জনগণকে উন্মুক্ত সেবা দিয়ে আসছিল বছরের পর বছর, দশকের পর দশক। সেটার ওপর আপনারা লুটের ঝাঁপটা দিয়েছেন। রাতের অন্ধকারে সেখানে হামলে পড়েছেন, ভাঙচুর করেছেন, লুটপাট করেছেন।

অপরাধে এমপিকে শুধু পদত্যাগ করিয়েছেন। কেন? আপনাদের আইন নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নেই? যিনি অপরাধ করলেন, তার পদত্যাগের মাধ্যমেই সব শেষ হয়ে যাবে? তাকে আইনের আওতায় আনেননি কেন? হোয়াইটওয়াশ দিয়ে সবকিছু উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। জনগণকে বোকা ভাববেন না। সবকিছু জনগণ বোঝে। জামায়াতে ইসলামী আমির বলেন, চাঁদা ও দখলদারি আপনাদের কাছে এতটাই মারাত্মক যে নিজেদের লোকেরাও পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে কুণ্ঠিত হন না।

বহু জায়গায় বিএনপির লোকেরা বলেন, ‘হায়রে আমার দল! দশকের পর দশক এই দল করলাম। এখন স্বয়ং আমার কাছেও চাঁদা চায়। ’ আল্লাহই জানেন, সর্বোচ্চ ব্যক্তির কাছেও কোনো পাগল কোনো দিন গিয়ে তার দলের চাঁদা চেয়ে বসে কি না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ চলতে পারে না। এসব পাহাড়সম ব্যর্থতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সাত মাসের সরকার কিছু ভুলত্রুটি করেছে। কিন্তু আপনারা এত তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামলেন কেন? ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে এত তাড়াতাড়ি অগ্রাহ্য করলেন কেন? সমাজের সব জায়গা এত তাড়াতাড়ি দখলে নিলেন কেন? দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসক বানিয়ে মানুষের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিলেন কেন? এত তাড়াতাড়ি লোভ সামলাতে না পেরে জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুললেন কেন?

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত মারাত্মক অবনতি কেন? তিনি বলেন, আমাদের সালাউদ্দিন সাহেব খুবই পারদর্শী লোক, সব মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে। এমনকি আইন মন্ত্রণালয়, শেষ পর্যন্ত দেখলাম ধর্ম মন্ত্রণালয়ও। কিন্তু শুধু নিজের মন্ত্রণালয় দেখার সুযোগ পান না। সংসদে দাঁড়িয়ে তার দলের একজন সিনিয়র সংসদ সদস্য বলেছেন, মাদক বন্ধ হবে কীভাবে? মাদকের সবচেয়ে বড় চালান তো আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির এলাকা দিয়ে।

তিনি বলেন, দিনের বেলা ৫০টা ট্রাকে ডাকাতি হয়েছে, বিষয়টি স্পষ্ট। জনগণকে সংবিধান সংশোধনের নামে ধোঁকা দেওয়ার পথ পরিহার করে আপনার ওপর যে দায়িত্ব রয়েছে, সেদিকে মনোযোগ দিন। তা না হলে সরে দাঁড়ান। জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা নেমেছি জনগণের অধিকারের দাবি নিয়ে।

প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই দাবি বাস্তবায়নে আমাদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমরা কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করি। তিনি বলেন, জন্ম যখন নিয়েছি, আমরা জানি মৃত্যু আমাদের সঙ্গেই। কিন্তু অপমানের মৃত্যুবরণ করতে চাই না। জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করে সেই মৃত্যু কবুল করতে চাই। সেটি হবে গর্বের। আমাদের নেতারা দেখিয়ে দিয়েছেন, কোনো অপশক্তির কাছে তারা মাথা নত করেননি।

আমরাও করব না, ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি, প্রিয় জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। প্রথম লংমার্চ হয়েছে। এর আগে ভারত নিয়ে অনেক হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, লংমার্চে জনগণের কোনো সাড়া নেই। যে লংমার্চে জনগণের কোনো সাড়া নেই, সেটি নিয়ে এত পেরেশানি কেন? সাড়া আছে কি না, জনগণই তার সাক্ষী। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি।

বিশৃঙ্খলায় আমরা বিশ্বাস করি না। কেউ যেন আমাদের ওপর বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করেন। তিনি আরও বলেন, আজনগণের অধিকারের দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমাদের প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

দেশের জনগণ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা অতীতের গুনে ধরা, বস্তাপচা রাজনীতি আর দেখতে চান না। তারা পরিবর্তন ও সংস্কার চান।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

টঙ্গীতে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের মামলা: মাদ্রাসা শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর

নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে বিএনপি: শফিকুর রহমান

Update Time : 02:55:56 pm, Sunday, 25 October 2026

বিএনপি নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, আপনারা নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে। আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছি। নাউজুবিল্লাহ। একজনের গায়ে কোনো কাপড় নেই, আরেকজনের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত কাপড় আছে। তো যার গায়ে কাপড় নেই, সে বলছে, ওই দেখো, ওর গায়ে কোনো জামা নেই। তিনি আরও বলেন, আপনারা নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলো, এখন বেইমানি করে কেন? তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি। আপনাদের দলের নাটোরের এমপি বলেছেন, তাদের সফলতার পেছনে আওয়ামী লীগের ভাইয়েরা রয়েছেন, আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ দেবেন। নিজের দল বিএনপিকে ধন্যবাদ দিতে পারছেন না। শফিকুর রহমান আরও বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতাকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এবং আপনাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় স্থান দিচ্ছেন।

তারপর বলছেন, সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে। এখানে ইঙ্গিত করে বলছেন, আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে, তাহলে আপনারা সরকারে এসেছেন কেন? এই টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র ও মাদক আসে কেন? ঠেকাতে পারেন না কেন? যে সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় ঠেকানোর যোগ্যতা নেই, সেই সরকারের দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নেই।

জামায়াতের আমির বলেন, জনগণকে কার্ড দেবেন, দিচ্ছেন, দিন। কিন্তু কয়জনকে কার্ড দিয়েছেন? কয়জনকে দেবেন? কখন দেবেন? এর আগে গরিব-ধনী, শিশু, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার ঘাড়ে করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন। আপনাদের দুর্নীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন, একটার পর একটা। মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ। তিনি বলেন, প্রবাসে অস্থিরতার কারণে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা দেশে ফিরে আসছেন।

তাদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। চাঁদাবাজির জ্বালায় অতিষ্ঠ জনগণ। এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছে। দুই দিন আগে গণমাধ্যমে দেখলাম, পঞ্চগড়ে চারটি লাউ নাকি এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা মনের জ্বালায় এগুলো খাল-বিলে ফেলে দিচ্ছেন, উপযুক্ত দাম না পেয়ে। রাজধানীতে আপনারা এক টাকায় কি একটি লাউ কিনতে পারেন?

৪০, ৫০, ৬০ টাকা লাগে। ওই চাঁদাবাজদের কারণে এই কর আপনাদের ওপর বসেছে। তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেননি, দখলদারি বন্ধ করতে পারেননি। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টার জনগণকে উন্মুক্ত সেবা দিয়ে আসছিল বছরের পর বছর, দশকের পর দশক। সেটার ওপর আপনারা লুটের ঝাঁপটা দিয়েছেন। রাতের অন্ধকারে সেখানে হামলে পড়েছেন, ভাঙচুর করেছেন, লুটপাট করেছেন।

অপরাধে এমপিকে শুধু পদত্যাগ করিয়েছেন। কেন? আপনাদের আইন নেই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নেই? যিনি অপরাধ করলেন, তার পদত্যাগের মাধ্যমেই সব শেষ হয়ে যাবে? তাকে আইনের আওতায় আনেননি কেন? হোয়াইটওয়াশ দিয়ে সবকিছু উড়িয়ে দিতে চেয়েছেন। জনগণকে বোকা ভাববেন না। সবকিছু জনগণ বোঝে। জামায়াতে ইসলামী আমির বলেন, চাঁদা ও দখলদারি আপনাদের কাছে এতটাই মারাত্মক যে নিজেদের লোকেরাও পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে কুণ্ঠিত হন না।

বহু জায়গায় বিএনপির লোকেরা বলেন, ‘হায়রে আমার দল! দশকের পর দশক এই দল করলাম। এখন স্বয়ং আমার কাছেও চাঁদা চায়। ’ আল্লাহই জানেন, সর্বোচ্চ ব্যক্তির কাছেও কোনো পাগল কোনো দিন গিয়ে তার দলের চাঁদা চেয়ে বসে কি না। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশ চলতে পারে না। এসব পাহাড়সম ব্যর্থতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

একটি বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, সাত মাসের সরকার কিছু ভুলত্রুটি করেছে। কিন্তু আপনারা এত তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামলেন কেন? ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে এত তাড়াতাড়ি অগ্রাহ্য করলেন কেন? সমাজের সব জায়গা এত তাড়াতাড়ি দখলে নিলেন কেন? দলীয় ক্যাডারদের প্রশাসক বানিয়ে মানুষের ঘাড়ের ওপর চাপিয়ে দিলেন কেন? এত তাড়াতাড়ি লোভ সামলাতে না পেরে জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুললেন কেন?

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এত মারাত্মক অবনতি কেন? তিনি বলেন, আমাদের সালাউদ্দিন সাহেব খুবই পারদর্শী লোক, সব মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে। এমনকি আইন মন্ত্রণালয়, শেষ পর্যন্ত দেখলাম ধর্ম মন্ত্রণালয়ও। কিন্তু শুধু নিজের মন্ত্রণালয় দেখার সুযোগ পান না। সংসদে দাঁড়িয়ে তার দলের একজন সিনিয়র সংসদ সদস্য বলেছেন, মাদক বন্ধ হবে কীভাবে? মাদকের সবচেয়ে বড় চালান তো আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির এলাকা দিয়ে।

তিনি বলেন, দিনের বেলা ৫০টা ট্রাকে ডাকাতি হয়েছে, বিষয়টি স্পষ্ট। জনগণকে সংবিধান সংশোধনের নামে ধোঁকা দেওয়ার পথ পরিহার করে আপনার ওপর যে দায়িত্ব রয়েছে, সেদিকে মনোযোগ দিন। তা না হলে সরে দাঁড়ান। জামায়াতের আমির বলেন, আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমরা নেমেছি জনগণের অধিকারের দাবি নিয়ে।

প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই দাবি বাস্তবায়নে আমাদের বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আমরা কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করি। তিনি বলেন, জন্ম যখন নিয়েছি, আমরা জানি মৃত্যু আমাদের সঙ্গেই। কিন্তু অপমানের মৃত্যুবরণ করতে চাই না। জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করে সেই মৃত্যু কবুল করতে চাই। সেটি হবে গর্বের। আমাদের নেতারা দেখিয়ে দিয়েছেন, কোনো অপশক্তির কাছে তারা মাথা নত করেননি।

আমরাও করব না, ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি, প্রিয় জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। প্রথম লংমার্চ হয়েছে। এর আগে ভারত নিয়ে অনেক হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, লংমার্চে জনগণের কোনো সাড়া নেই। যে লংমার্চে জনগণের কোনো সাড়া নেই, সেটি নিয়ে এত পেরেশানি কেন? সাড়া আছে কি না, জনগণই তার সাক্ষী। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি।

বিশৃঙ্খলায় আমরা বিশ্বাস করি না। কেউ যেন আমাদের ওপর বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করেন। তিনি আরও বলেন, আজনগণের অধিকারের দাবিতে আমরা মাঠে নেমেছি। আমরা কোনো দলীয় দাবি বা ১১-দলীয় জোটের কোনো দাবি নিয়ে মাঠে নামিনি। আমাদের প্রতিটি দাবি জনগণের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। গণভোটে ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

দেশের জনগণ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা অতীতের গুনে ধরা, বস্তাপচা রাজনীতি আর দেখতে চান না। তারা পরিবর্তন ও সংস্কার চান।