চট্টগ্রাম থেকে ওমানের সালালাহ শহরে প্রথমবারের মতো সরাসরি ফ্লাইট চালু করছে দেশটির স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা সালাম এয়ার। আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই রুটে সপ্তাহে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করবে সংস্থাটি।
এতে মাঝপথে অন্য বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি ছাড়াই চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি সালালাহ যাওয়ার সুযোগ পাবেন যাত্রীরা। বিশেষ করে ওমানের ধোফার অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের যাতায়াতে নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বুধবার রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সালালাহর উদ্দেশে ছেড়ে যাবে ফ্লাইটটি।
গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় লাগবে ৬ ঘণ্টা ২০ মিনিট। প্রাথমিকভাবে ১৮০ আসনের উড়োজাহাজ দিয়ে এ রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ২৯৪ টাকা। এত দিন চট্টগ্রাম থেকে সালালাহ যেতে যাত্রীদের বিভিন্ন রুট ব্যবহার করে অন্য বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি নিতে হতো। নতুন ফ্লাইট চালু হলে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।
ওমানের দক্ষিণাঞ্চলের ধোফার গভর্নরেটের প্রধান শহর সালালাহ। এ অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের যাতায়াতের পাশাপাশি অন্যান্য যাত্রীও নতুন রুটের সুবিধা পেতে পারেন। জানা গেছে, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বর্তমানে সপ্তাহে শতাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। ফ্লাইদুবাই, এয়ার এরাবিয়া ও সালাম এয়ারের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস এবং বেসরকারি ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের জেদ্দা ও মদিনা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি, দুবাই ও শারজাহ এবং ওমানের মাসকাট। নতুন করে সালালাহ যুক্ত হলে ওমানে সরাসরি যাতায়াতের গন্তব্য বাড়বে। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহীম খলিল বলেন, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক রুট ও যাত্রীসেবা বাড়াতে আমরা সবসময় সচেষ্ট আছি।
সালাম এয়ারের নতুন এই সালালাহ রুট চালুর ফলে আমাদের প্রবাসীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে এবং বিমানবন্দরের কার্যক্রমের পরিধি আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। বিমানবন্দর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে ৯ লাখ ৭৭ হাজার ৬৭৪ জন আন্তর্জাতিক যাত্রী যাতায়াত করেছেন। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৯ লাখ ৮২ হাজার ৫৪০ জনে।
২০২৫ সালেও আন্তর্জাতিক যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ ছিল। নতুন রুটটি সারা বছর চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে সালাম এয়ার। তবে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা অব্যাহত রাখা ও ভবিষ্যতে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি নির্ভর করবে যাত্রীদের সাড়া ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ওপর। সালাম এয়ারের চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক রিজুয়ানুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, একটি নতুন গন্তব্য চালু করতে অনেক শ্রম ও অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।
আমাদের মূল পরিকল্পনা এই রুটটি সারা বছর পরিচালনা করার। চট্টগ্রাম অঞ্চলের যাত্রীদের কাছ থেকে কাক্সিক্ষত সহযোগিতা পেলে আমরা এই রুটটিকে স্থায়ী ও আরও সম্প্রসারিত করতে পারব। জানা গেছে, সালালাহ থেকে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন রুটটি চালু করছে সালাম এয়ার। গত ২৬ আগস্ট সংস্থাটি জানায়, সালালাহতে নিজস্ব বিমান পরিচালনা ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে তারা।
প্রাথমিকভাবে এ ঘাঁটি থেকে সৌদি আরবের জেদ্দা, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও ভারতের কালিকটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সালাম এয়ারের ঘোষণায় বলা হয়, নতুন ঘাঁটির মাধ্যমে সালালাহ ও ধোফার অঞ্চলের বাসিন্দা এবং প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সারা বছরের যাতায়াতের চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে সংস্থাটি। পাশাপাশি ওমানের এ অঞ্চলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যগুলোর যোগাযোগ বাড়বে।
নতুন কার্যক্রমে এয়ারবাস এ৩২০নিও ও এ৩২১নিও উড়োজাহাজ ব্যবহারের কথা জানিয়েছে বিমান সংস্থাটি। ভাড়া ও ব্যাগেজ সুবিধা : সালাম এয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩৯ হাজার ২৯৪ টাকার সর্বনিম্ন ভাড়ায় ৫ কেজি কেবিন ব্যাগেজের সুবিধা রয়েছে। ৪১ হাজার ৫৩৪ টাকার প্যাকেজে ১৫ কেজি কেবিন ব্যাগেজ ও ৫ কেজি হ্যান্ড ব্যাগেজ এবং ৪২ হাজার ৫০০ টাকার প্যাকেজে ২০ কেজি চেক-ইন ব্যাগেজ ও ৫ কেজি হ্যান্ড ব্যাগেজ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।





















