মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বিস্তৃত হওয়া এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগের পটভূমিতে বিশ্ববাজারে তেলের দর বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য প্রতি ব্যারেলে ১১৬ ডলার অতিক্রম করেছে।
গত এপ্রিলের পর এটি সর্বোচ্চ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ। শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে ওঠে। এক সপ্তাহে িই তেলের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। দুই মাসের মধ্যে এটি এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধি। বর্তমানে তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও শুক্রবার প্রতি ব্যারেল ১০৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই তেলের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশের বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির খরচ বাড়ছে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির খরচও বেড়েছে। দেশটির মোটরচালক সংগঠন এএএর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম বেড়ে ৪ দশমিক ২৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত মে মাসে দাম উঠেছিল সর্বোচ্চ ৪ দশমিক ৫৫ ডলারে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে পেট্রলের দাম এখনো ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে রয়েছে। শুক্রবার ডিজেলের দামও কিছুটা বেড়ে প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ৩১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ডিজেলের দাম সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৫১ ডলারে উঠেছিল। বর্তমান দাম সেই সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি। ইরানে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ কত দিন চলবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে।
শিগগিরই সংঘাতের অবসান হবে এমন সম্ভাবনা কম ধরে নিচ্ছেন তারা। শুক্রবারের ফিউচারস চুক্তির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসজুড়েও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে থাকতে পারে। হরমুজ প্রণালিতে হামলা, সরবরাহে ধাক্কা মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরো গভীর হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার ঘটনা বেড়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। এ সপ্তাহে ইরান সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবের একটি বিমানবন্দরে হামলা চালায়। এতে দুজন নিহত হন। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র দেশটি থেকে কিছু কূটনৈতিক কর্মী সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ডয়চে ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানিবাহী জাহাজে হামলার সংখ্যা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সংঘাতের কারণে অঞ্চলটি থেকে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সেপ্টেম্বরে তেল পরিবহন কিছুটা বাড়লেও চলতি মাসে তা আবার কমেছে। শেয়ারবাজারেও চাপ তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও। শুক্রবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। এর আগের দিনও প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বিক্রির চাপে সূচকটির পতন হয়েছিল।
আগামী কয়েক মাসে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিয়েও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। তাদের আশঙ্কা, আগে যতটা ধারণা করা হয়েছিল, তেলের দাম তার চেয়ে দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে। এদিকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক বাহিনী মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা আরো বাড়ছে।





















