আজ শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৩°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬%

নলডাঙ্গায় দেড় কোটি টাকার রাস্তা সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:45:28 pm, Saturday, 24 October 2026
  • 13

নলডাঙ্গায় দেড় কোটি টাকার রাস্তা সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দে বাস্তবায়নাধীন একটি রাস্তা সংস্কার কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে গাইডওয়ালের ইট খুলে যাওয়া, মাটি দেবে যাওয়া এবং কয়েকটি স্থানে প্রয়োজনীয় গাইডওয়াল না থাকার চিত্র দেখা গেছে।

এতে কাজের গুণগত মান ও সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কটি খাজুরা বটতলা (তৈয়ব হাজীর বাড়ি) থেকে খাজুরা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে নীলপদ্মের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত। যার মোট দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬২০ মিটার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এ কাজ করা হচ্ছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গাইডওয়ালের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ইট খুলে পড়েছে।

বিশেষ করে তৈয়ব হাজীর পুকুর সংলগ্ন স্থানে ইট খসে পড়তে দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে লতাপাতা ও ডালপালা দিয়ে তার ওপর মাটি চাপা দিয়ে ত্রুটি ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মরহুম লেদন হাজীর বাড়ির পুকুরসংলগ্ন এলাকায় মাটি দেবে গেছে। সেখানেও লতাপাতা বিছিয়ে ওপর দিয়ে মাটি ফেলা হয়েছে। খাজুরা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন সরদারের পুকুর সংলগ্ন এলাকায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোন গাইডওয়ালই নির্মাণ করা হয়নি।

স্থানীয় এলাকাবাসী মো. রুস্তম আলী, শ্রী নন্দন কুমার, সামাদ আলী বলেন, পুকুর সংলগ্ন অংশে যথাযথ গাইডওয়াল ও সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকলে ভারী বৃষ্টিপাত ও পানির স্রোতে সহজেই মাটির ক্ষয় হবে। এতে সড়কের পাশের অংশ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং যাতায়াতে মারাত্মক দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। সরকারি বিপুল অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজের টেকসই মান রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সড়কের প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। যেসব স্থানে ইট খুলে গেছে বা মাটি দেবে গেছে, সেখানে কারিগরি নির্দেশনা মেনে স্থায়ী মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া যেসব স্থানে গাইডওয়াল অনুপস্থিত। সেখানে অনুমোদিত নকশা (Approved Design) অনুযায়ী গাইডওয়াল নিশ্চিত করা।

কার্যাদেশ, প্রকল্প বরাদ্দ ও মূল বাস্তবায়নের মধ্যে কোনো দুর্নীতি বা অসংগতি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি খাজুরা এলাকার হাজারো মানুষের নিত্যদিনের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের এ কাজের মান নিশ্চিত করবে। সরকারি অর্থ অপচয় রোধ করবে এবং জনগণের জন্য নিরাপদ যাতায়াত সুগম করবে।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা মো. শমসের আলী বলেন, সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কর্ণফুলী টানেলে ৬ দিন রাতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, হতে পারে ১০ মিনিটের অপেক্ষা

নলডাঙ্গায় দেড় কোটি টাকার রাস্তা সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ

Update Time : 12:45:28 pm, Saturday, 24 October 2026

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার ৩ নম্বর খাজুরা ইউনিয়নের প্রায় দেড় কোটি টাকা বরাদ্দে বাস্তবায়নাধীন একটি রাস্তা সংস্কার কাজে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন স্থানে গাইডওয়ালের ইট খুলে যাওয়া, মাটি দেবে যাওয়া এবং কয়েকটি স্থানে প্রয়োজনীয় গাইডওয়াল না থাকার চিত্র দেখা গেছে।

এতে কাজের গুণগত মান ও সড়কের স্থায়িত্ব নিয়ে চরম প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সড়কটি খাজুরা বটতলা (তৈয়ব হাজীর বাড়ি) থেকে খাজুরা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে নীলপদ্মের বাড়ি পর্যন্ত বিস্তৃত। যার মোট দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৬২০ মিটার। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এ কাজ করা হচ্ছে। সড়কটির বিভিন্ন স্থানে গাইডওয়ালের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ইট খুলে পড়েছে।

বিশেষ করে তৈয়ব হাজীর পুকুর সংলগ্ন স্থানে ইট খসে পড়তে দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে লতাপাতা ও ডালপালা দিয়ে তার ওপর মাটি চাপা দিয়ে ত্রুটি ঢাকার চেষ্টা করা হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মরহুম লেদন হাজীর বাড়ির পুকুরসংলগ্ন এলাকায় মাটি দেবে গেছে। সেখানেও লতাপাতা বিছিয়ে ওপর দিয়ে মাটি ফেলা হয়েছে। খাজুরা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক মোসলেম উদ্দিন সরদারের পুকুর সংলগ্ন এলাকায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কোন গাইডওয়ালই নির্মাণ করা হয়নি।

স্থানীয় এলাকাবাসী মো. রুস্তম আলী, শ্রী নন্দন কুমার, সামাদ আলী বলেন, পুকুর সংলগ্ন অংশে যথাযথ গাইডওয়াল ও সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকলে ভারী বৃষ্টিপাত ও পানির স্রোতে সহজেই মাটির ক্ষয় হবে। এতে সড়কের পাশের অংশ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং যাতায়াতে মারাত্মক দুর্ভোগ সৃষ্টি হতে পারে। সরকারি বিপুল অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কাজের টেকসই মান রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সড়কের প্রকৃত অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা। যেসব স্থানে ইট খুলে গেছে বা মাটি দেবে গেছে, সেখানে কারিগরি নির্দেশনা মেনে স্থায়ী মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া যেসব স্থানে গাইডওয়াল অনুপস্থিত। সেখানে অনুমোদিত নকশা (Approved Design) অনুযায়ী গাইডওয়াল নিশ্চিত করা।

কার্যাদেশ, প্রকল্প বরাদ্দ ও মূল বাস্তবায়নের মধ্যে কোনো দুর্নীতি বা অসংগতি রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি খাজুরা এলাকার হাজারো মানুষের নিত্যদিনের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দের এ কাজের মান নিশ্চিত করবে। সরকারি অর্থ অপচয় রোধ করবে এবং জনগণের জন্য নিরাপদ যাতায়াত সুগম করবে।

এ বিষয়ে নলডাঙ্গা উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কর্মকর্তা মো. শমসের আলী বলেন, সড়কটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।