11:33 pm, Sunday, 2 August 2026

রাশিয়ায় পড়তে গিয়ে নিহত শিক্ষার্থী অনিক

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:00:55 pm, Sunday, 2 August 2026
  • 9
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

গিয়েছিলেন রাশিয়ায় পড়াশোনা করতে—তবে সেই ভাগ্য আর হলো না। ফিরতে হলো লাশ হয়ে। বলছি রাশিয়ায় নিহত শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিকের কথা। আজ তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রাশিয়া থেকে অনিকের মরদেহ দেশে আসার পর বাদ জোহর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সওড়াতলা মসজিদসংলগ্ন মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মসজিদসংলগ্ন গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা। তিনি বলেন, প্রবাসে আমাদের দেশের মানুষ প্রায়ই মারা যাচ্ছেন। তাদের মরদেহ দেশে আনতে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুকভরা আশা নিয়ে রাশিয়ায় পড়তে গিয়েছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলার মেধাবী শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিক (২৭)। তিনি রাশিয়ার সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির (South Ural State University, Chelyabinsk, Russia) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা মনোয়ার বিশ্বাস জমি বিক্রি করে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রায় দেড় মাস আগে রাশিয়ায় খুন হন অনিক। দুর্বৃত্তরা তাকে ছয়তলা ভবন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। অবশেষে নিহত অনিকের মরদেহ দেশে আনেন তার পরিবার। ছোটবেলায় অনিক খোর্দ আইলচারা দাখিল মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে পোড়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেধার সঙ্গে এসএসসি পাস করেন। এরপর কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ায় যান। দুই ভাইয়ের মধ্যে অনিক ছিলেন ছোট। তার বাবা একজন কৃষক। এলাকায় অনিকের বেশ সুনাম রয়েছে। অনিকের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এলাকার মানুষ শোকে স্তব্ধ। অনিকের পরিবারের প্রশ্ন, ‘অনিকের খুনিদের কি বিচার হবে না?’

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

রাশিয়ায় পড়তে গিয়ে নিহত শিক্ষার্থী অনিক

Update Time : 09:00:55 pm, Sunday, 2 August 2026

গিয়েছিলেন রাশিয়ায় পড়াশোনা করতে—তবে সেই ভাগ্য আর হলো না। ফিরতে হলো লাশ হয়ে। বলছি রাশিয়ায় নিহত শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিকের কথা। আজ তার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে রাশিয়া থেকে অনিকের মরদেহ দেশে আসার পর বাদ জোহর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সওড়াতলা মসজিদসংলগ্ন মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মসজিদসংলগ্ন গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমীর হামজা। তিনি বলেন, প্রবাসে আমাদের দেশের মানুষ প্রায়ই মারা যাচ্ছেন। তাদের মরদেহ দেশে আনতে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুকভরা আশা নিয়ে রাশিয়ায় পড়তে গিয়েছিলেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলার মেধাবী শিক্ষার্থী খালেকুজ্জামান অনিক (২৭)। তিনি রাশিয়ার সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটির (South Ural State University, Chelyabinsk, Russia) শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা মনোয়ার বিশ্বাস জমি বিক্রি করে ছেলের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রায় দেড় মাস আগে রাশিয়ায় খুন হন অনিক। দুর্বৃত্তরা তাকে ছয়তলা ভবন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে। অবশেষে নিহত অনিকের মরদেহ দেশে আনেন তার পরিবার। ছোটবেলায় অনিক খোর্দ আইলচারা দাখিল মাদ্রাসায় পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরে পোড়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মেধার সঙ্গে এসএসসি পাস করেন। এরপর কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ায় যান। দুই ভাইয়ের মধ্যে অনিক ছিলেন ছোট। তার বাবা একজন কৃষক। এলাকায় অনিকের বেশ সুনাম রয়েছে। অনিকের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। এলাকার মানুষ শোকে স্তব্ধ। অনিকের পরিবারের প্রশ্ন, ‘অনিকের খুনিদের কি বিচার হবে না?’