জানুয়ারি নয়, বরং ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ও মৃত্যুর হিসাব গণনা শুরু হয়েছিল। সেই হিসাবে মাত্র সাড়ে তিন মাসে দেশের যেকোনো সময়ের চেয়ে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই কদিনে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৮৪০ শিশুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে যত কথাই বলা হোক না কেন, কোনোভাবেই যে হাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, তার প্রমাণ এই মৃত্যুর সংখ্যা। তারা বলছেন, জ্বর ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই শিশুকে করোনার মতো আইসোলেশনে নিয়ে গেলে পরিস্থিতির তীব্রতা এতটা হতো না। এমনকি সরকারের দেওয়া টিকা কর্মসূচিও কাজে না আসায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে দাবি করে তারা বলছেন, টিকার মান যাচাইসহ আক্রান্ত বা উপসর্গ দেখা দিলেই ওই শিশুকে আইসোলেশনে নিয়ে গেলে এখনো সময় আছে রোগটি নিয়ন্ত্রণের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম সন্দেহে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৮৫ জন। এই ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৭৫১ এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা মোট এক লাখ ২৮ হাজার ৩১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১২১, আর গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ১৮০। গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ সাত হাজার ৩৬৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৭৪৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
2:09 am, Sunday, 2 August 2026
শিরোনাম :

















