1:53 am, Sunday, 2 August 2026

হাম ও হাম সন্দেহে মৃত্যুতে রেকর্ড

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:21:08 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 10
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জানুয়ারি নয়, বরং ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ও মৃত্যুর হিসাব গণনা শুরু হয়েছিল। সেই হিসাবে মাত্র সাড়ে তিন মাসে দেশের যেকোনো সময়ের চেয়ে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই কদিনে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৮৪০ শিশুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে যত কথাই বলা হোক না কেন, কোনোভাবেই যে হাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, তার প্রমাণ এই মৃত্যুর সংখ্যা। তারা বলছেন, জ্বর ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই শিশুকে করোনার মতো আইসোলেশনে নিয়ে গেলে পরিস্থিতির তীব্রতা এতটা হতো না। এমনকি সরকারের দেওয়া টিকা কর্মসূচিও কাজে না আসায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে দাবি করে তারা বলছেন, টিকার মান যাচাইসহ আক্রান্ত বা উপসর্গ দেখা দিলেই ওই শিশুকে আইসোলেশনে নিয়ে গেলে এখনো সময় আছে রোগটি নিয়ন্ত্রণের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম সন্দেহে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৮৫ জন। এই ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৭৫১ এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা মোট এক লাখ ২৮ হাজার ৩১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১২১, আর গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ১৮০। গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ সাত হাজার ৩৬৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৭৪৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই তথ্য বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যুর ইতিহাসে রেকর্ড উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে হামে আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক একটি বিষয় ছিল। বিশেষ করে বসন্তকালে হাম ও পক্স সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু চলতি বছর যা ঘটছে, তা এ দেশে আগে কখনো হয়নি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বাংলাদেশে হাম একটি বহু পুরোনো সংক্রামক রোগ। টিকাদান কর্মসূচি চালুর আগে এটি ছিল শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। গত চার দশকে বাংলাদেশ টিকাদানের মাধ্যমে হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের ঘাটতি, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব এবং কিছু এলাকায় কম টিকা গ্রহণের কারণে আবারও সংক্রমণ বেড়েছে। আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে দেশে টিকাদান কর্মসূচি হয়নি। আর এর ফলেই সাম্প্রতিক এই ভয়াবহতা। তবে বর্তমান সরকার দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি চালালেও এর কোনো প্রভাব কেন পড়ছে না, তা একটু খতিয়ে দেখতে হবে। টিকা যেহেতু এখনো কাজ শুরু করেনি, তাই সরকারের উচিত হবে শিশুদের জ্বর ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই যেন তাদের আইসোলেশনে নেওয়া হয়; যেভাবে কোভিডের সময় প্রচার চালানো হয়েছিল। তাহলে এক শিশু থেকে অন্য শিশুর মধ্যে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়বে না। আক্রান্ত শিশুকে সময়ে সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিলে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশে হামের সংক্রমণের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৭০-এর দশক ও তার আগে হাম ছিল শিশুদের সবচেয়ে সাধারণ সংক্রামক রোগগুলোর একটি। প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হতো এবং নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতায় অনেক শিশুর মৃত্যু ঘটত। তবে সে সময় কোনো জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি ছিল না। এরপর ১৯৭৯ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু হয়। প্রথম দিকে হামের টিকা সারা দেশে না পৌঁছালেও ধীরে ধীরে এটি সারা দেশে সম্প্রসারিত করা হয়। এরপর ১৯৮৯ সালে নিয়মিত ইপিআইয়ে ৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য হামের টিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর হামজনিত মৃত্যু দ্রুত কমতে শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে দেশব্যাপী হাম নজরদারি আরও শক্তিশালী করা হয় এবং ভ্যাকসিন-প্রতিরোধযোগ্য রোগের নজরদারির সঙ্গে একীভূত করা হয়। ২০০৪-০৫ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। এ সময় লাখ লাখ শিশুকে অতিরিক্ত টিকা দেওয়া হয়। ফলে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। ২০১০ সালে দ্বিতীয় বড় জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। এরপর ২০১২ সালে হাম-রুবেলা (এমআর) যৌথ টিকা চালু হয়। একই বছরে নিয়মিত টিকাদানে দ্বিতীয় ডোজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা পরে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকায় রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এমআর ক্যাম্পেইনে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচি হাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০১৮-১৯ সালে দেশে এমআর টিকার কভারেজ ৯০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়। তবুও কিছু জেলায় টিকাবঞ্চিত শিশু থাকার কারণে বিচ্ছিন্ন প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তখনই বিশ্বজুড়ে কোভিড মহামারি দেখা দেয়। ২০২০-২২ সালে (কোভিড-১৯ মহামারির সময়) নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। এ সময় অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি, ফলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় একটি ফাঁক তৈরি হয়। তখনই বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতে বড় প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ফলে ২০২৩-২৫ সালে বিভিন্ন জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত টিকাদান ও নজরদারি করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতের কোনো অপারেশন পরিকল্পনা না থাকায় টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব চলতি বছরের শুরু থেকে পড়তে থাকে। যদিও জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এর তীব্রতা ততটা দেখা যায়নি; তবে মার্চে এসে এটি মহামারির রূপ নিতে শুরু করে। মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়ে। ১৫ মার্চ থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ১৯ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী, প্রায় ৩ হাজার পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগী এবং শতাধিক সন্দেহভাজন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান অভিযান শুরু করে। কিন্তু এই টিকাতেও হাম নিয়ন্ত্রণে না আসায় বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের চার সপ্তাহ পর শিশুদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। তাতে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে কমার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। তাদের দাবি, টিকার কভারেজ শতভাগ হলে অবশ্যই হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসত। সেটি যেহেতু হয়নি, তাই টিকা কভারেজে ঘাটতি রয়েছে। তারা বলছেন, বর্তমানে কোন বয়সী শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের বিষয়ে সামগ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং হাম মোকাবিলায় গাইডলাইন না থাকায় এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটির (এনভিসি) চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, টিকার কভারেজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার পর যে হারে হামের সংক্রমণ কমার কথা ছিল, তেমনটা আমরা দেখছি না। তবে এখন দেখার বিষয়, হামে আক্রান্ত শিশুদের বয়স। আসলে কোন বয়সের শিশুরা এখন আক্রান্ত হচ্ছে। হাম রোগীদের পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত থাকা খুবই জরুরি। হামের প্রাদুর্ভাবের পর সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় টিকাদান শুরু হয় চলতি বছরের ৫ এপ্রিল। এরপর চারটি সিটি করপোরেশনে টিকাদান শুরু হয় ১২ এপ্রিল। আর ২০ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয় দেশব্যাপী হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি। গত ১০ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে লক্ষ্যের ৯৯ শতাংশ কাভারেজ বা শিশুকে টিকাদান সম্পন্ন হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়। আর টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শেষ করার পর ১০৩ শতাংশ কাভারেজের তথ্য দেওয়া হয়। এখন ডোর টু ডোর টিকাদান কর্মসূচি চলছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন, এখন কিন্তু হামের নিশ্চিত সংক্রমণে কোনো মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়। তাই শতভাগ টিকাদানের পরও যারা টিকা পাওয়া থেকে বাদ পড়েছে, তাদের এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার কাজ চলছে। আমাদের লক্ষ্য, টিকার আওতার বাইরে যেন একটি শিশুও না থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা আমাদের রয়েছে। অনেক অভিভাবকই টিকার ব্যাপারে নেতিবাচক। তারা তাদের শিশুদের টিকা দিতে ভয় পাচ্ছেন। সেটি কাটাতে আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। একই কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, গত সাড়ে পাঁচ বছর হাম-রুবেলার বিশেষ টিকা দেওয়ার কর্মসূচি হয়নি। ফলে নবজাতকসহ যারা হামের টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়, তারাই এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে। দেশে সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে দাতা সংস্থার সহায়তায় ১৯৯৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) চালু করে বাংলাদেশ সরকার। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কর্মসূচিটি স্বাস্থ্য খাতের কর্মীদের কাছে সেক্টর প্রোগ্রাম নামে বেশি পরিচিত। এটি বাস্তবায়ন করা হতো অপারেশন প্ল্যান (ওপি) তথা বিষয়ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে। সেক্টর প্রোগ্রামের শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য কার্যক্রমের আওতায় এতদিন সারা দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) পরিচালিত হতো। এক্ষেত্রে টিকার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সংস্থা গ্যাভির আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ এতদিন টিকা কিনত ইউনিসেফের মাধ্যমে। ২০২২ সালে চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারিসহ নানা কারণে সেটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত আনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ক্ষমতায় আসে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময় বিভিন্ন খাতে সংস্কার নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিয়ে নিজেরা টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু মূলত কোনো অপারেশন প্ল্যানই ছিল না এই সরকারের। ফলে আমাদের ক্ষমতায় আসার পরই হাম মোকাবিলায় তৎপর হতে হয়। যার ফল আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। যদিও মৃত্যুসংখ্যা আতঙ্কের, কিন্তু নিশ্চিত হামে মৃত্যু এখন আর নেই। কদিন পরে সন্দেহজনক মৃত্যু বা সংক্রমণও থাকবে না বলে আমরা আশা করছি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

হাম ও হাম সন্দেহে মৃত্যুতে রেকর্ড

Update Time : 11:21:08 pm, Saturday, 1 August 2026

জানুয়ারি নয়, বরং ১৫ মার্চ থেকে দেশে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ও মৃত্যুর হিসাব গণনা শুরু হয়েছিল। সেই হিসাবে মাত্র সাড়ে তিন মাসে দেশের যেকোনো সময়ের চেয়ে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যুর সংখ্যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এই কদিনে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৮৪০ শিশুর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে যত কথাই বলা হোক না কেন, কোনোভাবেই যে হাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, তার প্রমাণ এই মৃত্যুর সংখ্যা। তারা বলছেন, জ্বর ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই শিশুকে করোনার মতো আইসোলেশনে নিয়ে গেলে পরিস্থিতির তীব্রতা এতটা হতো না। এমনকি সরকারের দেওয়া টিকা কর্মসূচিও কাজে না আসায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে বলে দাবি করে তারা বলছেন, টিকার মান যাচাইসহ আক্রান্ত বা উপসর্গ দেখা দিলেই ওই শিশুকে আইসোলেশনে নিয়ে গেলে এখনো সময় আছে রোগটি নিয়ন্ত্রণের। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম সন্দেহে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হামে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৮৫ জন। এই ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ৭৫১ এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা মোট এক লাখ ২৮ হাজার ৩১০ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১২১, আর গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার ১৮০। গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এক লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন এক লাখ সাত হাজার ৩৬৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ৭৪৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই তথ্য বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গে মৃত্যুর ইতিহাসে রেকর্ড উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সময়ে হামে আক্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক একটি বিষয় ছিল। বিশেষ করে বসন্তকালে হাম ও পক্স সংক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু চলতি বছর যা ঘটছে, তা এ দেশে আগে কখনো হয়নি। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বাংলাদেশে হাম একটি বহু পুরোনো সংক্রামক রোগ। টিকাদান কর্মসূচি চালুর আগে এটি ছিল শিশুমৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। গত চার দশকে বাংলাদেশ টিকাদানের মাধ্যমে হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সক্ষম হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানের ঘাটতি, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাব এবং কিছু এলাকায় কম টিকা গ্রহণের কারণে আবারও সংক্রমণ বেড়েছে। আমরা যতদূর জানতে পেরেছি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে দেশে টিকাদান কর্মসূচি হয়নি। আর এর ফলেই সাম্প্রতিক এই ভয়াবহতা। তবে বর্তমান সরকার দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি চালালেও এর কোনো প্রভাব কেন পড়ছে না, তা একটু খতিয়ে দেখতে হবে। টিকা যেহেতু এখনো কাজ শুরু করেনি, তাই সরকারের উচিত হবে শিশুদের জ্বর ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই যেন তাদের আইসোলেশনে নেওয়া হয়; যেভাবে কোভিডের সময় প্রচার চালানো হয়েছিল। তাহলে এক শিশু থেকে অন্য শিশুর মধ্যে সংক্রমণের সংখ্যা বাড়বে না। আক্রান্ত শিশুকে সময়ে সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা দিলে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলে আমি মনে করি। বাংলাদেশে হামের সংক্রমণের ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৭০-এর দশক ও তার আগে হাম ছিল শিশুদের সবচেয়ে সাধারণ সংক্রামক রোগগুলোর একটি। প্রতি বছর হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হতো এবং নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও অপুষ্টিজনিত জটিলতায় অনেক শিশুর মৃত্যু ঘটত। তবে সে সময় কোনো জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি ছিল না। এরপর ১৯৭৯ সালে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) চালু হয়। প্রথম দিকে হামের টিকা সারা দেশে না পৌঁছালেও ধীরে ধীরে এটি সারা দেশে সম্প্রসারিত করা হয়। এরপর ১৯৮৯ সালে নিয়মিত ইপিআইয়ে ৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য হামের টিকা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর হামজনিত মৃত্যু দ্রুত কমতে শুরু করে। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে দেশব্যাপী হাম নজরদারি আরও শক্তিশালী করা হয় এবং ভ্যাকসিন-প্রতিরোধযোগ্য রোগের নজরদারির সঙ্গে একীভূত করা হয়। ২০০৪-০৫ সালে প্রথমবারের মতো জাতীয় হাম টিকাদান ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। এ সময় লাখ লাখ শিশুকে অতিরিক্ত টিকা দেওয়া হয়। ফলে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। ২০১০ সালে দ্বিতীয় বড় জাতীয় হাম ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়। এরপর ২০১২ সালে হাম-রুবেলা (এমআর) যৌথ টিকা চালু হয়। একই বছরে নিয়মিত টিকাদানে দ্বিতীয় ডোজ অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা পরে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকায় রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ এমআর ক্যাম্পেইনে প্রায় ৫ কোটি ৩০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচি হাম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ২০১৮-১৯ সালে দেশে এমআর টিকার কভারেজ ৯০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছায়। তবুও কিছু জেলায় টিকাবঞ্চিত শিশু থাকার কারণে বিচ্ছিন্ন প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তখনই বিশ্বজুড়ে কোভিড মহামারি দেখা দেয়। ২০২০-২২ সালে (কোভিড-১৯ মহামারির সময়) নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। এ সময় অনেক শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি, ফলে রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় একটি ফাঁক তৈরি হয়। তখনই বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যতে বড় প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা প্রকাশ করেন। ফলে ২০২৩-২৫ সালে বিভিন্ন জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত টিকাদান ও নজরদারি করলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য খাতের কোনো অপারেশন পরিকল্পনা না থাকায় টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব চলতি বছরের শুরু থেকে পড়তে থাকে। যদিও জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে এর তীব্রতা ততটা দেখা যায়নি; তবে মার্চে এসে এটি মহামারির রূপ নিতে শুরু করে। মার্চ থেকে এপ্রিলের মধ্যে ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ জেলায় হাম ছড়িয়ে পড়ে। ১৫ মার্চ থেকে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ১৯ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন রোগী, প্রায় ৩ হাজার পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগী এবং শতাধিক সন্দেহভাজন মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান অভিযান শুরু করে। কিন্তু এই টিকাতেও হাম নিয়ন্ত্রণে না আসায় বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদানের চার সপ্তাহ পর শিশুদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। তাতে সংক্রমণ ব্যাপকভাবে কমার কথা থাকলেও সেটি হয়নি। তাদের দাবি, টিকার কভারেজ শতভাগ হলে অবশ্যই হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসত। সেটি যেহেতু হয়নি, তাই টিকা কভারেজে ঘাটতি রয়েছে। তারা বলছেন, বর্তমানে কোন বয়সী শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে, তাদের বিষয়ে সামগ্রিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং হাম মোকাবিলায় গাইডলাইন না থাকায় এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটির (এনভিসি) চেয়ারপারসন অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, টিকার কভারেজ শতভাগ সম্পন্ন হওয়ার পর যে হারে হামের সংক্রমণ কমার কথা ছিল, তেমনটা আমরা দেখছি না। তবে এখন দেখার বিষয়, হামে আক্রান্ত শিশুদের বয়স। আসলে কোন বয়সের শিশুরা এখন আক্রান্ত হচ্ছে। হাম রোগীদের পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত থাকা খুবই জরুরি। হামের প্রাদুর্ভাবের পর সমালোচনা ও বিক্ষোভের মুখে দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলায় টিকাদান শুরু হয় চলতি বছরের ৫ এপ্রিল। এরপর চারটি সিটি করপোরেশনে টিকাদান শুরু হয় ১২ এপ্রিল। আর ২০ এপ্রিল শুরু হয়ে ২০ মে শেষ হয় দেশব্যাপী হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি। গত ১০ মে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে লক্ষ্যের ৯৯ শতাংশ কাভারেজ বা শিশুকে টিকাদান সম্পন্ন হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়। আর টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শেষ করার পর ১০৩ শতাংশ কাভারেজের তথ্য দেওয়া হয়। এখন ডোর টু ডোর টিকাদান কর্মসূচি চলছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন, এখন কিন্তু হামের নিশ্চিত সংক্রমণে কোনো মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যুই আমাদের কাম্য নয়। তাই শতভাগ টিকাদানের পরও যারা টিকা পাওয়া থেকে বাদ পড়েছে, তাদের এখন বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার কাজ চলছে। আমাদের লক্ষ্য, টিকার আওতার বাইরে যেন একটি শিশুও না থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা আমাদের রয়েছে। অনেক অভিভাবকই টিকার ব্যাপারে নেতিবাচক। তারা তাদের শিশুদের টিকা দিতে ভয় পাচ্ছেন। সেটি কাটাতে আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। একই কথা বলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। রূপালী বাংলাদেশকে তিনি বলেন, গত সাড়ে পাঁচ বছর হাম-রুবেলার বিশেষ টিকা দেওয়ার কর্মসূচি হয়নি। ফলে নবজাতকসহ যারা হামের টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়, তারাই এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে। দেশে সাধারণত শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাসে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। এ ছাড়া বিশেষ ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস থেকে ১০ বছর বয়সি শিশুদের টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে দাতা সংস্থার সহায়তায় ১৯৯৮ সাল থেকে স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচি (এইচপিএনএসপি) চালু করে বাংলাদেশ সরকার। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কর্মসূচিটি স্বাস্থ্য খাতের কর্মীদের কাছে সেক্টর প্রোগ্রাম নামে বেশি পরিচিত। এটি বাস্তবায়ন করা হতো অপারেশন প্ল্যান (ওপি) তথা বিষয়ভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে। সেক্টর প্রোগ্রামের শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য কার্যক্রমের আওতায় এতদিন সারা দেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) পরিচালিত হতো। এক্ষেত্রে টিকার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সংস্থা গ্যাভির আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ এতদিন টিকা কিনত ইউনিসেফের মাধ্যমে। ২০২২ সালে চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচি শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারিসহ নানা কারণে সেটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত আনা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতনের পর ক্ষমতায় আসে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। এ সময় বিভিন্ন খাতে সংস্কার নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে সেক্টর প্রোগ্রাম বন্ধ করে দিয়ে নিজেরা টিকা কেনার সিদ্ধান্ত নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু মূলত কোনো অপারেশন প্ল্যানই ছিল না এই সরকারের। ফলে আমাদের ক্ষমতায় আসার পরই হাম মোকাবিলায় তৎপর হতে হয়। যার ফল আপনারা দেখতে পাচ্ছেন। যদিও মৃত্যুসংখ্যা আতঙ্কের, কিন্তু নিশ্চিত হামে মৃত্যু এখন আর নেই। কদিন পরে সন্দেহজনক মৃত্যু বা সংক্রমণও থাকবে না বলে আমরা আশা করছি।