প্রযুক্তির বৈপ্লবিক জোয়ারে বিশ্ব চলচ্চিত্রের চেহারা বদলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সেই জোয়ারে এবার ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে নির্মিত দেশের প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র গ্যাপ পাড়ি জমিয়েছে আন্তর্জাতিক আঙিনায়।
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অবস্থিত মর্যাদাপূর্ণ হানসুং ইউনিভার্সিটির (Hansung University) ‘মাস্টার্স ইন গ্লোবাল এআই ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কনসাল্টিং’ প্রোগ্রামে চলচ্চিত্রটির একটি বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির চলচ্চিত্র নির্মাণে ব্যবহার এবং এর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও বিশ্লেষণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্লোবাল এআই ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (ডিন) অধ্যাপক জং জিন-তেক।
বিশ্বমঞ্চে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশের এই সাহসী পদক্ষেপটি সেখানে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ক্লাসে ‘গ্যাপ’ চলচ্চিত্রটিকে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে এআই কীভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণে কাজ করতে পারে, সৃজনশীল কাজে প্রযুক্তিটির প্রয়োগ কীভাবে সম্ভব এবং ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রশিল্পে এআইয়ের ভূমিকা কেমন হতে পারে, এসব বিষয় নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে একটি বিশেষ লেকচার ও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন তিনি।
এ সময় চলচ্চিত্রটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য উৎসর্গ করেন অধ্যাপক জাংজিত। হানসুং ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৭০০ বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। আমাদের ডিপার্টমেন্টের ক্লাসেই এশিয়া, ইউরোপ, দক্ষিণ আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকাসহ বিশ্বের প্রায় ২৭টি দেশের শিক্ষার্থী রয়েছেন।
এমন একটি আন্তর্জাতিক শ্রেণি কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যখন বাংলাদেশের একটি চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন এবং সেটি আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য উৎসর্গ করে বলেন, ‘ইটস ইয়োর কান্ট্রি’, তখন বিষয়টি আমাদের জন্য সত্যিই অনেক গর্বের ও আনন্দের হয়ে ওঠে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের একটি চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গনে উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, সেটি নিয়ে আলোচনা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমাদের ক্লাস করানো হচ্ছে, এটি আমাদের জন্য অসাধারণ একটি অনুভূতি।
আমরা সত্যিই অনেক গর্বিত ও আনন্দিত হয়েছি। ’ এ নিয়ে পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ বলেন, ‘প্রযুক্তি ও সিনেমার মেলবন্ধনে দক্ষিণ কোরিয়া বরাবরই বিশ্বসেরা। সেই দেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এআই সংক্রান্ত গ্লোবাল প্রোগ্রামে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হওয়া এবং সেখানকার গবেষক ও শিক্ষার্থীদের নজর কাড়া নিঃসন্দেহে এক বিশাল অর্জন।
চলচ্চিত্রটির গভীর মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার ও হরর আবহ ফুটিয়ে তুলতে এআই যেভাবে কাজ করেছে, তা কোরিয়ার দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। সীমিত সম্পদে এমন কাজ যে সম্ভব, ‘গ্যাপ’ তারই বাস্তব উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ’ ক্লাব ইলেভেন এন্টারটেইনমেন্ট প্রযোজিত সিনেমাটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন এআই ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট আর্ক শিহাব, পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ, রিজভী রিজু, সিনথিয়া ইয়াসমিন নুপুর, মিষ্টি ঘোষ, মোমেনা চৌধুরী প্রমুখ।






















