কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি চাপ নিয়ে চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। বিদ্যুতের বিল নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনায় বিলের পরিমাণ বেশি হওয়ায় সংসার ও ব্যবসার ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। স্থানীয় গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ বিলের হিসাব ও মিটার রিডিং নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অনেকের অভিযোগ, তাদের ব্যবহারের সঙ্গে বিলের পরিমাণের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ফলে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে গিয়ে আর্থিক চাপে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
দ্বীপের বাসিন্দাদের মতে, সেন্টমার্টিনের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলের বাড়তি চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বেশি সমস্যায় পড়ছেন। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ বিলের হিসাব পুনরায় যাচাই, মিটার রিডিংয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে গ্রাহকদের যৌক্তিক ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। দ্বীপবাসীর পক্ষে বিদ্যুৎ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়জুর রহমান জানান,সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ব্লু মেরিন এনার্জি লিমিটেড’ গত ১ নভেম্বর ২০২৬ থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম আরও ১০ টাকা বৃদ্ধি করেছে বলে জানতে পেরেছি।
বিষয়টি নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে আমি সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দ্বীপবাসীর প্রতিনিধি হয়ে প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জাফর আহমদ পাটোয়ারী সাহেবের সঙ্গে সরাসরি মুঠোফোনে যোগাযোগ করি। তিনি ফোনালাপে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি দাম ১০ টাকা বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ অবস্থায় দ্বীপবাসীর স্বার্থ ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আমি দ্বীপবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে উক্ত প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সরবরাহ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছি।
পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই এবং এর আইনগত বৈধতা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ, এমনকি মামলা করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেন্টমার্টিন দ্বীপের সাধারণ মানুষের ওপর কোনো ধরনের অযৌক্তিক আর্থিক চাপ মেনে নেওয়া হবে না। দ্বীপবাসীর ন্যায্য অধিকার রক্ষা এবং জনস্বার্থে আমি আমার অবস্থানে অটল থাকব।
প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী জাফর আহমদ পাটোয়ারীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি তবে প্রতিষ্ঠানটির সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষ প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১০ টাকা করে বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। প্রকল্পের ব্যাটারি বিকল হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে ডিজেলচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে।
ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।






















