কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সরকারি সড়ক কেটে মাটি বিক্রির সময় হাতেনাতে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় মাটি পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) উপজেলার ছুপুয়া-নালঘর-মদিনা বাজার সড়কের বর্ধনবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পানিপাড়া গ্রামের মো. ইসমাইল, চাঁদপুর সদর উপজেলার মনিহার গ্রামের ইসমাইল মুন্সি এবং মানিকগঞ্জ সদর বা দৌলতপুর (চর ভারেঙ্গা) এলাকার হান্নান সরকার। থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির অধীনে ছুপুয়া-নালঘর-মদিনা বাজার সড়ক প্রশস্ত করার কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এসকেএম ইন্টারন্যাশনাল।
তবে কালিকাপুর ইউনিয়নের বর্ধনবাড়ি এলাকার ইমতিয়াজ মজুমদার, মোহাম্মদ এবং সদর দক্ষিণ উপজেলার অলিবাজার এলাকার মীর হোসেনের যোগসাজশে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় মাটির অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে আসছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম ও সাইড প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম গত সোমবার সকালে সড়ক পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, টেন্ডার হওয়া সড়কের প্রায় ৩০ মিটার দৈর্ঘ্য, ৫ মিটার প্রস্থ ও সাড়ে ৩ মিটার গভীর করে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান ও উপসহকারী প্রকৌশলীকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে সোমবার রাতে চক্রটি আবারও সড়ক থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা শুরু করে। খবর পেয়ে এলজিইডির প্রকৌশলী বিষয়টি চৌদ্দগ্রাম থানাকে অবহিত করেন। পরে উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি কাটার সময় ওই তিনজনকে আটক করে।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ইমতিয়াজ মজুমদার, মোহাম্মদ ও মীর হোসেন পালিয়ে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে সরকারি সড়ক, বৈদ্যুতিক খুঁটির আশপাশ এবং সাধারণ মানুষের ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। ফসলি জমি, পরিবেশ ও সড়ক রক্ষায় এই চক্রটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, সরকারি সড়ক কেটে মাটি বিক্রির ঘটনায় আটক তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।






















