চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী অক্টোবর মাসের বেতন না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। নতুন পে স্কেলে বেতন পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা এসব কর্মচারীর বেতন আটকে যাওয়ায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় কার গাফিলতি রয়েছে, তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার (২ নভেম্বর) সকালে বিমানবন্দরের পরিচালকের দপ্তরে জড়ো হন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে দ্রুত বেতন পরিশোধের দাবি জানান তারা। জানা গেছে, সরকার ঘোষিত নতুন নবম পে স্কেলের বেতন ফিক্সেশন প্রক্রিয়া বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএবি) অধীন অন্যান্য বিমানবন্দরে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফিক্সেশন-সংক্রান্ত ফাইল যথাসময়ে ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসন শাখার দায়িত্বে অবহেলার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিমানবন্দরের হিসাব শাখা গত ১৮ অক্টোবর পে ফিক্সেশনের প্রয়োজনীয় নথি ও ৩১৯ কর্মকর্তা-কর্মচারীর সার্ভিস বুক প্রশাসন শাখায় হস্তান্তর করলেও তা যথাসময়ে সদরদপ্তরে পৌঁছায়নি।
বিমানবন্দর কর্মচারী কল্যাণ সংঘের সাধারণ সম্পাদক হাকিম সরকার বলেন, প্রতি মাসের ১ তারিখ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন হয়। মাসের প্রথম দিন শুক্রবার বা শনিবার হলে পরদিন বেতন দেওয়া হয়। এবার বেতন না হওয়ায় বিষয়টি জানাতে তারা পরিচালকের দপ্তরে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দাবি, এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। পরিচালক আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। ’ হাকিম সরকার আরও বলেন, ‘আমাদের অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্ট্রোক করে হাসপাতালে আছেন। বেতন থেকে সবাই মিলে তাকে সহযোগিতা করার কথা ছিল। কিন্তু তিনি নিজেই বেতন পাননি।
এটাই এখন আমাদের পরিস্থিতি। ’ এ বিষয়ে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. নূর হোসেন বলেন, নতুন পে স্কেল কার্যকরের জন্য কিছু আউটস্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্ভিস বুক ও প্রয়োজনীয় নথি দেরিতে আসায় ফাইল জমা দিতে বিলম্ব হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কেউ নতুন স্কেলে, কেউ আগের স্কেলে বেতন পাবেন-এমন পরিস্থিতি আমরা চাইনি।
আশা করছি, সবাই একসঙ্গে বেতন পাবেন।






















