আজ শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৭%

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বিএনপি নেতার মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধার

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:53:46 pm, Friday, 30 October 2026
  • 11

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বিএনপি নেতার মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ফারহানা ইয়াসমিন শীলা (৪৩) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বসতঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, শীলা আত্মহত্যা করেননি তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তার স্বামী রাসেল বয়াতীর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। তবে রাসেলের দাবি, তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত শীলা রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সাজাদুল ইসলাম শামীমের মেয়ে। তার স্বামী রাসেল বয়াতী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। শীলার রাফিন (১৭) ও লাবিবা (১৩) নামে দুই সন্তান রয়েছে। ছেলে পটুয়াখালীতে পড়াশোনা করে। মেয়ে মায়ের সঙ্গে থাকত। শীলার ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বলেন, তাদের ধারণা, শীলাকে হত্যা করে পরে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার আগের রাতেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শীলা হাসিখুশি ছিলেন। তার জমিজমা বিক্রি করে টাকা চাওয়া নিয়ে স্বামী রাসেলের সঙ্গে বিরোধ ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান কমল। শীলার আরেক ভাই রাশেদুল ইসলাম সজল ও চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম সাগর বলেন, পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে এবং আশপাশের কাউকে অবহিত না করে রাসেল নিজেই মরদেহ নামিয়ে ফেলেছেন।

বিষয়টি তাদের সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীলার মেয়ে লাবিবার বরাত দিয়ে সজল ও কমল জানান, শীলা ও রাসেলের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। শীলাকে মারধর করা হতো এবং কখনো কখনো ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হতো। তখন শীলা বাইরে বসে কান্নাকাটি করতেন। পরে রাসেল বাইরে গেলে লাবিবা দরজা খুলে মাকে ঘরে নিতেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাসেল বয়াতী।

তিনি বলেন, তাদের সংসারজীবনের একপর্যায়ে বুধবার রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে সামান্য মনোমালিন্য হয়। পরে তারা একসঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাতেও খাওয়াদাওয়া শেষে একসঙ্গে ঘুমাতে যান। রাত ১২টার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাসেলের ভাষ্য, শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে শীলা নামাজ পড়তে উঠেছেন বলে তিনি বুঝতে পারেন। পরে সকাল পৌনে আটটার দিকে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন।

একপর্যায়ে অন্য একটি কক্ষে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। এরপর পাশের বাড়ির এক দম্পতিকে ডেকে আনেন। তারা কাছে না যাওয়ায় চাচাতো ভাই সোহানকে নিয়ে নিজেই শীলাকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। তবে কী কারণে তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ওসি (তদন্ত) ইলিয়াস হোসেন মুন্সি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের তথ্য পাওয়া গেছে।

নিহতের মেয়েও তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো বলে জানিয়েছে। মৃত্যুর আগের দিনও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল এবং শীলা সারাদিন স্বামীর সঙ্গে কথা বলেননি বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, রাসেল বয়াতীর দাবি, তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এবং সকালে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে তিনি মরদেহ নামান। ওসি (তদন্ত) আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পায়নি।

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

পতিত স্বৈরাচারকে বর্তমান সরকার প্রতিহত করতে পারবে না, আমরা পারব: নাহিদ ইসলাম

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বিএনপি নেতার মেয়ের রহস্যজনক মৃত্যু ও মরদেহ উদ্ধার

Update Time : 09:53:46 pm, Friday, 30 October 2026

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ফারহানা ইয়াসমিন শীলা (৪৩) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বসতঘর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের পরিবারের দাবি, শীলা আত্মহত্যা করেননি তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তার স্বামী রাসেল বয়াতীর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। তবে রাসেলের দাবি, তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত শীলা রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সাজাদুল ইসলাম শামীমের মেয়ে। তার স্বামী রাসেল বয়াতী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। দুজনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে। শীলার রাফিন (১৭) ও লাবিবা (১৩) নামে দুই সন্তান রয়েছে। ছেলে পটুয়াখালীতে পড়াশোনা করে। মেয়ে মায়ের সঙ্গে থাকত। শীলার ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বলেন, তাদের ধারণা, শীলাকে হত্যা করে পরে ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে।

ঘটনার আগের রাতেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শীলা হাসিখুশি ছিলেন। তার জমিজমা বিক্রি করে টাকা চাওয়া নিয়ে স্বামী রাসেলের সঙ্গে বিরোধ ছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচারের দাবি জানান কমল। শীলার আরেক ভাই রাশেদুল ইসলাম সজল ও চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম সাগর বলেন, পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে এবং আশপাশের কাউকে অবহিত না করে রাসেল নিজেই মরদেহ নামিয়ে ফেলেছেন।

বিষয়টি তাদের সন্দেহের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীলার মেয়ে লাবিবার বরাত দিয়ে সজল ও কমল জানান, শীলা ও রাসেলের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হতো। শীলাকে মারধর করা হতো এবং কখনো কখনো ঘরের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হতো। তখন শীলা বাইরে বসে কান্নাকাটি করতেন। পরে রাসেল বাইরে গেলে লাবিবা দরজা খুলে মাকে ঘরে নিতেন। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাসেল বয়াতী।

তিনি বলেন, তাদের সংসারজীবনের একপর্যায়ে বুধবার রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে সামান্য মনোমালিন্য হয়। পরে তারা একসঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার রাতেও খাওয়াদাওয়া শেষে একসঙ্গে ঘুমাতে যান। রাত ১২টার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। রাসেলের ভাষ্য, শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে শীলা নামাজ পড়তে উঠেছেন বলে তিনি বুঝতে পারেন। পরে সকাল পৌনে আটটার দিকে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীকে ঘরে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন।

একপর্যায়ে অন্য একটি কক্ষে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। এরপর পাশের বাড়ির এক দম্পতিকে ডেকে আনেন। তারা কাছে না যাওয়ায় চাচাতো ভাই সোহানকে নিয়ে নিজেই শীলাকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। তবে কী কারণে তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন, তা তিনি জানেন না বলে দাবি করেন। এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ওসি (তদন্ত) ইলিয়াস হোসেন মুন্সি বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহের তথ্য পাওয়া গেছে।

নিহতের মেয়েও তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো বলে জানিয়েছে। মৃত্যুর আগের দিনও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল এবং শীলা সারাদিন স্বামীর সঙ্গে কথা বলেননি বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, রাসেল বয়াতীর দাবি, তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন এবং সকালে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে তিনি মরদেহ নামান। ওসি (তদন্ত) আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পায়নি।

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রতিবেদনে অস্বাভাবিক কিছু পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।