বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এল ব্লকের একটি বাড়িতে ফ্ল্যাট ভাঙচুর, স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র লুটপাটের ঘটনায় যুবলীগ নেতা শহিদুল হাকিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ভাটারা থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে ফকিরাপুল এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে শহিদুল হাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
রূপালী বাংলাদেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম। ভুক্তভোগী বাড়ি মালিকের স্ত্রী জেবুন্নেসার করা মামলায় শহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া শহিদুল হাকিম চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। তিনি চট্টগ্রাম শহরের ষোলশহরে বসবাস করতেন। যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন।
বর্তমানে ঢাকায় বসবাস করছেন। এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এল ব্লকের ৮৪ নং রোড়ে ১৫৮১ নং হোল্ডিংস্থ বাড়ির একটি ফ্লাটে শহিদুল হাকিম, শিপন চৌধুরী গং দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর-লুটপাট করে। ফ্লাটটির মালিক আবু বকর পেশায় একজন অটো মোবাইল ইঞ্জিনিয়র। তিনি অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী বলে জানা গেছে। বছর খানেক আগে দেশে ফিরে বসুন্ধরা আবাসিকের ওই ফ্লাটে স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
আবু বকরের স্ত্রীর বড়ভাই মিন্টু জানান, তিন দফা হামলা চালিয়ে পুরো ফ্লাট গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরপর ৯৯৯ এ আমার বোন ফোন দিলেও প্রতিকার পায়নি। পুলিশের নির্লিপ্ততার কারণে দরজা জানালা, আসবাবপত্র পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে। ট্রাকে করে পুরো বাড়ির মালামাল সরিয়ে নেওয়ার মতো নজিরবিহীন লুটপাট করা হয়েছে। বাড়িটির অন্য একটি ফ্লাটে (আবু বকরের ভাড়াটিয়া) ভাড়া থাকেন জেনিফার সিদ্দিকী।
তিনি জানান, প্রথম দফায় ২০ অক্টোবর নিচতলার একটি ফ্লাটে হামলা করে। ভীত সন্ত্রস্ত জেবুন্নেসা তার শিশু সন্তানসহ বাড়ি থেকে চলে যাবার দুদিন পর ২৪ অক্টোবর রাতে পুনরায় হামলা চালিয়ে ওই ফ্লাটের দরজা পর্যন্ত খুলে নিয়ে গেছেন হামলাকারীরা। ওই ফ্লাটের ওয়াশরুমের বেসিন, কমোট সবকিছু গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গভীর রাতে ট্রাকে করে শুন্য ফ্লাটে থাকা আসবাবপত্রসহ সবকিছু সরিয়ে নেবার চেস্টা করলে আমরা ফ্লাটের মালিককে খবর দেই।
পরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সিকিউরিটি ট্রাকে মালামাল সরাতে বাধা দেয়। খবর পেয়ে রাতে দেড়টার দিকে পুলিশ আসে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিজের ভগ্নিপতি শহিদকে সাথে যৌথ মালিকানায় বসুন্ধরা আবাসিকে তিন কাটা জমি কিনে সাত তলা ভবনের নির্মাণ করে প্রবাসী আবু বকর। নিজের স্ত্রী জেবুন্নেসাকে নিয়ে এক বছর ধরে ওই বাড়ির একটি ফ্লাটে বসবাস করে আসছিলেন।
মঙ্গলবার শহিদ দলবণ নিয়ে জেবুন্নেসা ও তার দুইমাস বয়সী শিশু সন্তানের উপর আক্রমণ চালায়। আহত জেবুন্নেসা ও তার শিশু সন্তানকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ, নগদ লাখ টাকা লুটপাট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় ২৭ অক্টোবর ভাটারা থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন জেবুন্নেসা। বৃহস্পতিবার ভাটারা থানার এসআই সরওয়ার ওয়াদুদ অভিযান চালিয়ে শহিদুল হাকিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে।
ভাটারা থানার এসআই সরওয়ার ওয়াদুদ বলেন, প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।






















