পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া একটি বিস্ফোরক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশে তোলপাড় ও তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার মুখ থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ারের মতো বক্তব্য আইন সচেতন সমাজকে স্তম্ভিত করেছে।
অনুষ্ঠানে আইজিপি মন্তব্য করেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন, সরকার যদি অ্যালাউ (অনুমোদন) করে, আমরা সেটাই করব। ’ আইজিপির এই ‘বিপজ্জনক’ বক্তব্যের পর সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক নয় ‘রূপক’ অর্থে ব্যবহার করেছেন।
তবে এই বক্তব্য দেশের সুশীল সমাজ ও আইনজীবীদের শান্ত করতে পারেনি। অপরাধ এবং আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে যেখানে আইনের শাসন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রধান লক্ষ্য, সেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানের এমন বক্তব্য সরকারের মৌলিক নীতির পরিপন্থি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ইতিমধ্যে আইজিপির এই বক্তব্যকে চরম বেআইনি ও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ আখ্যা দিয়ে তার অবিলম্বে অপসারণ ও জবাবদিহিতা দাবি করেছে।
আইন বিশ্লেষক ব্যারিস্টার হুমায়রা মেহজাবীন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, আইজিপির বক্তব্য বিচারিক কাঠামোর মূলে কুঠারাঘাত করে। আইজিপি যখন ‘সরকারের অনুমতি’ সাপেক্ষে ক্রসফায়ারের কথা বলেন, তখন তিনি মূলত তিনটি বড় অপরাধ করেন। প্রথমত, সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অবমাননা। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৩২ অনুযায়ী, প্রচলিত আইন ও সুনির্দিষ্ট বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকেই তার জীবন বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না।
আইজিপির বক্তব্য এই সাংবিধানিক সুরক্ষাকে অস্বীকার করে। দ্বিতীয়ত, আদালতের এখতিয়ার হরণ। অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন, তার অপরাধ প্রমাণ ও শাস্তি দেওয়ার একচ্ছত্র অধিকার আদালতের। পুলিশের কাজ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মুখোমুখি করা। আইজিপির বক্তব্য ইঙ্গিত করে যে, নির্বাহী বিভাগ অনুমতি দিলে পুলিশ বিচারকের ভূমিকা পালন করতে প্রস্তুত।
সর্বশেষ হচ্ছে, ‘সবুজ সংকেত’ তত্ত্বের অসারতা। আইন বা সংবিধান সরকার বা নির্বাহী বিভাগকে ‘ক্রসফায়ার’ বা ‘এনকাউন্টারে’র নামে বিচারবহির্ভূত হত্যার অনুমতি দেয়নি। অনেকেই মনে করেন ‘এনকাউন্টার’ বা ‘ক্রসফায়ার’ কেবল রূপালী পর্দার সিনেমাতেই সীমাবদ্ধ, যেখানে একজন রবিনহুড মার্কা পুলিশ অফিসার আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে খলনায়কদের মেরে ফেলেন।
কিন্তু সেলুলয়েডের এই রোমাঞ্চকর স্ক্রিপ্ট বাস্তব পৃথিবীতেও কোথাও কোথাও রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ সত্য হয়ে আছে। আইনত ‘এনকাউন্টার’ বলতে পুলিশ ও অপরাধীদের মুখোমুখি সংঘর্ষকে বোঝানো হয়, যা মূলত আইনের ‘আত্মরক্ষা’ ধারার অধীনে পড়ে। অন্যদিকে ‘ক্রসফায়ার’ হলো দুই সশস্ত্র পক্ষের গোলাগুলির মাঝখানে পড়ে কারো গুলিবিদ্ধ হওয়া।
কিন্তু বাস্তবতায় এই দুটি শব্দই হলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে থাকা একজন নিরস্ত্র মানুষকে আইনবহির্ভূতভাবে গুলি করে হত্যা। আসামিকে রাতের অন্ধকারে নিয়ে গিয়ে ‘সহযোগীদের গুলিবর্ষণ’ বা ‘পাল্টা গুলিবর্ষণের’ যে চিরচেনা গল্প সাজানো হয়, তা মূলত আইনের চরম অপব্যবহার। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের উত্তর প্রদেশ, মুম্বাই, পাঞ্জাব, কাশ্মীর এবং তামিল আর মাওবাদী অধ্যুষিত ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যগুলোতে বছরের পর বছর ধরে এই সাজানো বন্দুকযুদ্ধের বা এনকাউন্টারের সংস্কৃতি চলে আসছে।
যার ছায়া পড়েছে এ দেশেও। ভারতের আইনি কাঠামোতে পুলিশি হত্যাকে বৈধতা দেওয়া হয়নি। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৯৬ থেকে ১০৬ নম্বর ধারায় ‘ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার’ এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, আসামি গ্রেপ্তার এড়াতে বাধা দিলে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের কথা। কাউকে ধরে নিয়ে মেরে ফেলা নয়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের বিশেষ প্রতিবেদনে এসব ঘটনাকে ‘যৌথ ও স্বেচ্ছাচারী শাস্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার চরম লঙ্ঘন।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টও সম্প্রতি এক রায়ে এই ‘জাস্টিস’কে সম্পূর্ণ বেআইনি হিসেবে আখ্যা দিয়ে কঠোর গাইডলাইন জারি করেছেন। একইভাবে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের ওয়ার্ল্ড রিপোর্টে ভারতের পুলিশি হেফাজত এবং এনকাউন্টারে মৃত্যুর ঘটনাগুলোয় উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, পদ্ধতিগত নির্যাতন এবং আইনি ফাঁকফোকরের কারণে দোষী পুলিশ কর্মকর্তারা চরম দায়মুক্তি ভোগ করে থাকেন।
আইনের এই অপব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বের বহু দেশে প্রাতিষ্ঠানিক ‘এনকাউন্টার’ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কার্যকর রয়েছে। ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের আমলের ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ ছিল রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এনকাউন্টারের সবচেয়ে কুখ্যাত উদাহরণ, যেখানে হাজার হাজার মানুষকে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছিল।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও সিন্ধু প্রদেশে (বিশেষ করে করাচিতে) ‘ফেক এনকাউন্টার’ এবং গুম নিত্যদিনের ঘটনা, যা দেশটির বিচারব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিকভাবে কলঙ্কিত করেছে। কেনিয়া ও নাইজেরিয়ায় কাউন্টার-টেররিজম বা সন্ত্রাস দমনের নামে এবং নাইজেরিয়ার কুখ্যাত ‘সার্স’ পুলিশ ইউনিটের মাধ্যমে নির্বিচারে সাধারণ নাগরিকদের এনকাউন্টারে মারার ইতিহাস রয়েছে।
লাতিন আমেরিকার মেক্সিকো, কলম্বিয়া এবং ভেনেজুয়েলাতে মাদক কার্টেল দমনের নামে পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর যৌথ এনকাউন্টারে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। বেসরকারি সংস্থা হেল্প ফর ইউ-এর প্রধান নির্বাহী রুনা আক্তার রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, সরকারি হিসাবমতেই বাংলাদেশে গত ২২ বছরে ‘ক্রসফায়ারে’ কমপক্ষে ২ হাজার ৯৫৭ জন মানুষ নিহত হয়েছেন।
২০২১ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের অভিযোগে দেশের এলিট ফোর্স র‌্যাব এবং এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশের নির্বিচার গুলির রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের পর, আইজিপির এমন বক্তব্য দেশের ভবিষ্যৎকে আবারও অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। অ্যাডভোকেট রুনা আক্তার আরও বলেন, ক্রসফায়ারের আভিধানিক অর্থ হলো ‘উভয় পক্ষ থেকে বা দুই দিক থেকে একসঙ্গে ছোঁড়া গুলির মাঝখানে পড়া’।
অর্থাৎ, দুটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বন্দুকযুদ্ধের মাঝে পড়ে যে কারো গুলিবিদ্ধ হওয়ার দুর্ঘটনাকবলিত পরিস্থিতিই হলো প্রকৃত ক্রসফায়ার। এটি আইনের ভাষা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। অপারেশন ক্লিনহার্ট এবং র‌্যাবের আগে র‌্যাটের সময়ও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। দেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বা বহুল আলোচিতভাবে এই শব্দের ভিন্নার্থে অপব্যবহার বেশি করে শুরু হয় ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠনের পর থেকে।
অপরাধ দমনের নামে আটককৃতকে নিয়ে ‘অস্ত্র উদ্ধার’ বা ‘সহযোগী গ্রেপ্তার’ অভিযানে যাওয়ার পর ‘দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে’ মৃত্যুর কাহিনি রেওয়াজে পরিণত হয়। সরকারি সূত্রমতে, র‌্যাব গঠনের পর থেকে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন পর্যন্ত ২ হাজার ৯৫৭ জন মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪৬ শতাংশ এককভাবে পুলিশের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে, যার সংখ্যা ১ হাজার ৩৭১।
র‌্যাবের হাতে এই সময়ে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ২০০ জন। পুলিশ ও র‌্যাবের যৌথ অভিযানে ৬৯ জন এবং বাকি অংশ বর্ডার গার্ড, কোস্ট গার্ড এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে নিহত হন। একজন সাবেক আইজিপি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, এই সংস্কৃতি থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে এবং পুলিশ বাহিনীকে একটি মানবিক সংস্থায় রূপান্তর করতে পুলিশ সংস্কার কমিশন সুনির্দিষ্ট ও দূরদর্শী আইনি রূপরেখা এবং ১০৮ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে।
কমিশন ব্রিটিশ আমলের ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনসহ মোট ২২টি আইন সংশোধনের সুপারিশ করেছে। বলা হয়েছে, পুলিশ কোনো অবস্থাতেই নির্বিচার বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করতে পারবে না। প্রতিটি অভিযান এবং গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ও জিপিএস ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কোনো এনকাউন্টার বা মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে তার পেছনে কোনো বিভাগীয় তদন্ত নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বাধীন জুডিশিয়াল বা বিচারিক তদন্ত বাধ্যতামূলক করার আইনি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
এগুলো বাস্তবায়ন দরকার। তিনি আরও বলেন, একজন আইজিপির মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত বাহিনীকে ঔপনিবেশিক ও স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বের করে আইনের অনুগত সংস্থায় রূপান্তর করা। তা না করে, প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে ক্রসফায়ারের অনুমোদন খোঁজা কেবল দেশের আইনি ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন নয়, বরং জনমনে চরম নিরাপত্তাহীনতাও তৈরি করা। সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল মুনিম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, কোনো দেশের আইনেই বিচার না করে কাউকে মেরে ফেলার অনুমতি নেই।
এগুলো স্রেফ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। এনকাউন্টার বা ক্রসফায়ার হলো বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং আইনের শাসনের সম্পূর্ণ পরিপন্থি। মানবাধিকার নেত্রী ও বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের (বিএইচআরএফ) চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট এলিনা খান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, র‌্যাব গঠনের আগে ২০০৩ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে পুলিশের একটি বিশেষায়িত দল হিসেবে ‘র‌্যাট’ গঠন করা হয়েছিল।
সে সময় তাদের হাতেও বেশকিছু বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে, যা মূলত পরবর্তী সময়ে বড় আকারের অভিযানের ভিত্তি তৈরি করে। ১৬ অক্টোবর ২০০২ থেকে ৯ জানুয়ারি ২০০৩ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পুলিশ, বিডিআর এবং আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে ‘অপারেশন ক্লিনহার্ট’ পরিচালিত হয়। এই অপারেশনে প্রায় ১১ হাজার ২৪৫ জনকে আটক করা হয়। ৪৪ থেকে ৬০ জন মানুষ তাদের হেফাজতে মারা যান।
এই অপারেশনের কালো অধ্যায় ছিল ২০০৩ সালের ‘যৌথ অভিযান দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’। এই আইনের মাধ্যমে অপারেশন ক্লিনহার্টে জড়িত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়, যেন তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা না করা যায়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে হাইকোর্ট অবশ্য এই ইনডেমনিটি আইনকে অবৈধ ও সংবিধান পরিপন্থি ঘোষণা করেন।
পুলিশের আরেকজন সাবেক আইজিপি রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের আমলে ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধে’র নামে প্রায় ৩০ হাজার মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে (এনকাউন্টার সংস্কৃতির আদলে) হত্যা করে দেশটির পুলিশ। মূলত এই কালো অধ্যায়ের সূত্রপাত বা শুরু সেই উদাহরণ থেকেই। পরে আন্তর্জাতিক ক্রিমিনাল আদালত (আইসিসি) একে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে আমলে নেন।
ফিলিপাইন আইসিসি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিলেও আন্তর্জাতিক আদালত দুতার্তে এবং তার পুলিশপ্রধানদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত ও মামলা জারি রাখেন, যা বিশ্ব ইতিহাসে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি বড় দৃষ্টান্ত। বাংলাদেশেও বছরের পর বছর ধরে চলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড (ক্রসফায়ার) এবং গুমের ঘটনার অভিযোগে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নেয়।
মার্কিন খর্বনামা আইন-এর অধীনে র‌্যাব এবং এর সাতজন সাবেক ও বর্তমান শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ভারতে পুলিশের ‘এনকাউন্টার’ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে পিপলস ইউনিয়ন ফর সিভিল লিবার্টিজ একটি মামলা লড়ে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট রায় দেন, প্রতিটি এনকাউন্টারের পর বাধ্যতামূলকভাবে একটি স্বতন্ত্র এজেন্সির মাধ্যমে এফআইআর ও ম্যাজিস্ট্রেটি তদন্ত হতে হবে।
সাজানো এনকাউন্টার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সরাসরি ‘খুনে’র অপরাধে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার নজিরও রয়েছে। যেমন— গুজরাটের সোহরাবুদ্দিন শেখ ফেক এনকাউন্টার মামলা। এসব উদাহরণ প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রসফায়ারকে কোনো রাষ্ট্রীয় আত্মরক্ষা নয়, বরং গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়।





















