মাটির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক শুধু জমির দলিলে লেখা কয়েকটি দাগ-খতিয়ানের হিসাব নয়; এর সঙ্গে মিশে থাকে পূর্বপুরুষের স্মৃতি, সারা জীবনের সঞ্চয় আর পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। অথচ সেই মাটির মালিকানা প্রমাণ করতে গিয়ে মানুষকে যখন দপ্তরের দরজায় দরজায় ঘুরতে হয়, তখন জমি নিজের হয়েও যেন নিজের থাকে না।
যে কাগজে মানুষের অধিকার নিশ্চিত হওয়ার কথা, সেই কাগজই কখনো হয়ে ওঠে হয়রানি, অনিশ্চয়তা আর অনিয়মের কারণ। বাংলাদেশের ভূমি প্রশাসন নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ নতুন নয়। গ্রাম থেকে শহর, ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে জেলা পর্যায়ের ভূমি প্রশাসন কিংবা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস-জমিসংক্রান্ত সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ, দালালনির্ভরতা, নথি নিয়ে জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
জমির পরিমাণ ছোট হোক কিংবা বড়, সাধারণ মানুষের কাছে জমি হারানোর ভয় অত্যন্ত গভীর। কারণ জমির বিরোধ শুধু আর্থিক ক্ষতি ঘটায় না; অনেক সময় তা পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তাকেও বিপন্ন করে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ২০২৫ সালের জাতীয় খানা জরিপ এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি চিত্র তুলে ধরেছে।
২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন সেবা গ্রহণের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরিচালিত জরিপের ফল ২০২৬ সালের ২৫ জুন প্রকাশিত হয়। এতে ভূমিসেবা গ্রহণকারীদের ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ ঘুষ দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। একই প্রতিবেদনে ভূমিসেবা গ্রহণকারীদের ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ দুর্নীতির অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়।
এই পরিসংখ্যান দেশের প্রতিটি ভূমি অফিস বা প্রতিটি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়; বরং সেবা নিতে গিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতায় দুর্নীতির ব্যাপকতা বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। প্রশ্ন হচ্ছে, ভূমি প্রশাসনে যদি বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দায়িত্ব পালন করেন, যিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবেও পরিচিত, তাহলে এত অভিযোগের অবকাশ তৈরি হয় কীভাবে?
বিষয়টি বুঝতে হলে ভূমি প্রশাসনের কাঠামো এবং বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব আলাদা করে দেখতে হবে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলা পর্যায়ে ভূমি ব্যবস্থাপনা, নামজারি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাজ তদারক করেন। অন্যদিকে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও অন্যান্য কর্মচারী মাঠপর্যায়ের অনেক কাজ সম্পন্ন করেন। জমি নিবন্ধনের দায়িত্ব আবার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের।
ভূমি জরিপ ও রেকর্ড প্রস্তুতের সঙ্গে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট দপ্তরও যুক্ত; অর্থাৎ জমির একটি কাজ সম্পন্ন করতে কখনো একাধিক দপ্তর ও পর্যায়ের সমন্বয় প্রয়োজন হয়। এই ব্যবস্থায় একজন কর্মকর্তা সৎ ও দায়িত্বশীল হলেই প্রতিটি ধাপে অনিয়ম বন্ধ হয়ে যাবেÑ এমন নিশ্চয়তা নেই। আবার কোনো দপ্তরে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলেই তার দায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট বিসিএস কর্মকর্তার ওপর চাপানোও ন্যায়সংগত নয়।
কিন্তু তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার কাজ শুধু ফাইলে স্বাক্ষর করা নয়; অধীন কর্মীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ যাচাই, নথির অসংগতি শনাক্ত এবং সেবার নির্ধারিত সময়সীমা নিশ্চিত করাও তার দায়িত্বের অংশ। দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অভিযোগ চলতে থাকলে তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ভূমি অফিসে দুর্নীতি কীভাবে সম্ভব হয়, তার একটি বড় অংশ লুকিয়ে আছে প্রক্রিয়ার জটিলতায়।
নামজারি বা খারিজের ক্ষেত্রে জমির মালিকানা, দলিল, খতিয়ান, ওয়ারিশসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন যাচাই করতে হয়। কোনো কাগজে ভুল থাকলে বা জমি নিয়ে বিরোধ থাকলে আবেদন নিষ্পত্তিতে সময় লাগতে পারে। কিন্তু এই স্বাভাবিক জটিলতাকেই অনৈতিক সুবিধা আদায়ের হাতিয়ার বানানোর অভিযোগ রয়েছে কারো কারো বিরুদ্ধে। আবেদনকারীকে কখনো বলা হয়, কাগজে সমস্যা আছে; কখনো বলা হয়, ফাইল এগোচ্ছে না; আবার কখনো ইঙ্গিত দেওয়া হয়, অতিরিক্ত টাকা দিলে কাজ দ্রুত হবে।
কোথাও সরাসরি ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ ওঠে, কোথাও দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে চাপ দেওয়ার কথা শোনা যায়। এই পরিস্থিতির শিকার হন বিশেষ করে তারা, যাদের ভূমি আইন, রেকর্ড ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা নেই। গ্রামের একজন বয়স্ক কৃষক, বিদেশে থাকা কোনো জমির মালিকের পরিবার কিংবা উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পাওয়া একজন নারীÑ অনেকের পক্ষেই দপ্তরের প্রতিটি ধাপ বুঝে এগোনো সহজ নয়।
তাদের এই অসহায়ত্বকে পুঁজি করে কেউ সুবিধা নিলে সেটি শুধু আর্থিক দুর্নীতি নয়, নাগরিক অধিকারেরও লঙ্ঘন। জালিয়াতির আরেকটি গুরুতর ক্ষেত্র হলো, জমির দলিল ও রেকর্ড। জাল দলিল তৈরি, ভুয়া ওয়ারিশ দেখানো, একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি, অন্যের জমির সীমানা নিজের জমির মধ্যে দেখানোর চেষ্টা, রেকর্ডে ভুল তথ্য ঢোকানো কিংবা ভুয়া পরিচয়ে জমি হস্তান্তরের মতো অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে।
তবে এসব কাজের সবই ভূমি অফিসের ভেতরে ঘটে, এমন নয়। কোনো কোনো ঘটনায় জালিয়াতির সঙ্গে দলিল লেখক, মধ্যস্বত্বভোগী, জমি কেনাবেচায় যুক্ত ব্যক্তি কিংবা অন্য সহযোগীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠতে পারে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো কর্মীর যোগসাজশ থাকলে অনিয়ম আরও সহজ হতে পারে। প্রতিটি ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, তা প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করাই সঠিক পথ।
দুর্নীতির পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বা সংগঠিত দালালচক্রের ভূমিকার অভিযোগও উপেক্ষা করা যায় না। কোনো এলাকায় জমির মূল্য বেশি হলে, জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিন চললে কিংবা সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির সীমানা অস্পষ্ট থাকলে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কেউ যদি স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে নথি পরিবর্তন, তদন্তে প্রভাব বিস্তার বা প্রতিপক্ষকে হয়রানির চেষ্টা করেন, তাহলে একক কোনো কর্মচারীর পক্ষে সেই চাপ মোকাবিলা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আবার দালালচক্রের সঙ্গে অফিসের কারো যোগসাজশ থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য সরাসরি সেবা পাওয়া আরও দুরূহ হয়। তবে প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, কর্মকর্তা বা গোষ্ঠীকে এসব অপরাধের জন্য দায়ী করা উচিত নয়। দুর্নীতির প্রকৃত নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোও সমস্যাটির গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করে।
২০২৬ সালের ৩ আগস্ট গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শনের পর অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, নথির অসংগতি এবং সেবা প্রদানে মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যবহারসংক্রান্ত প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বিস্তারিত তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এর আগে ২৬ জুলাই ফরিদপুরের বোয়ালমারীর সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার টাকা গোনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে ওই কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন, ভিডিওতে দেখা টাকা ঘুষ নয়, ধার ফেরত পাওয়ার অর্থ। ফলে অভিযোগ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের খবর থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনাগুলো থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়; আকস্মিক পরিদর্শন ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনিয়ম শনাক্ত করতে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি।
কোনো অফিসের কয়েকজন কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করলেই দালালনির্ভরতা বা জটিল প্রক্রিয়া দূর হয়ে যায় না। একইভাবে শুধু ডিজিটাল সেবা চালু করলেও দুর্নীতি পুরোপুরি বন্ধ হবে না, যদি মাঠপর্যায়ের যাচাই, শুনানি, নথি সংশোধন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধাপগুলো স্বচ্ছ না হয়। তাহলে প্রতিকার কোথায়? প্রথমেই প্রতিটি ভূমিসেবার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা, সরকারি ফি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহজ ভাষায় প্রকাশ করতে হবে।
আবেদন জমা দেওয়ার পর আবেদনকারী যেন অনলাইনে বা এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার ফাইল কোন পর্যায়ে আছে, কেন বিলম্ব হচ্ছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ কী। কোনো আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি না হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে কারণ জানাতে হবে। এতে ফাইল আটকে রেখে অনৈতিক সুবিধা চাওয়ার সুযোগ কমতে পারে। দ্বিতীয়ত, ভূমি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথি, নামজারি আদেশ, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদন এবং সংশোধনের ইতিহাস ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
কে কখন কোন তথ্য পরিবর্তন করেছেন, তার নিরীক্ষাযোগ্য রেকর্ড থাকতে হবে। তবে ডিজিটাল ব্যবস্থায় তথ্যের নিরাপত্তা ও ভুল সংশোধনের কার্যকর সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে, যাতে প্রযুক্তির ভুল বা অননুমোদিত প্রবেশ নতুন ধরনের হয়রানির কারণ না হয়। তৃতীয়ত, অভিযোগ জানানোর স্বাধীন ও কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসন, ভূমি মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানোর পথ স্পষ্ট করতে হবে।
অভিযোগকারী যেন প্রতিশোধ বা হয়রানির ভয় ছাড়াই তথ্য দিতে পারেন, সে জন্য পরিচয় সুরক্ষা ও অভিযোগের অগ্রগতি জানার ব্যবস্থা রাখা দরকার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, অপরাধের ধরন অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মিথ্যা অভিযোগের আশঙ্কা বিবেচনায় অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারও অক্ষুণœ রাখতে হবে।
চতুর্থত, তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জবাবদিহি আরও কার্যকর করতে হবে। নিয়মিত আকস্মিক পরিদর্শন, আবেদন নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান যাচাই এবং সাধারণ সেবাগ্রহীতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলার ব্যবস্থা থাকা উচিত। একই অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জমা হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে।
তবে মূল্যায়ন হবে প্রমাণ ও দায়িত্বের ভিত্তিতে, পদমর্যাদা বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়। সবশেষে, ভূমিব্যবস্থার জটিলতা কমানোও সমান জরুরি। জমির রেকর্ড, নামজারি, নিবন্ধন ও জরিপের তথ্যের মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে, যাতে একই তথ্য বারবার জমা দিতে না হয় এবং একটি দপ্তরের অসংগতি অন্য দপ্তরে নতুন জটিলতা তৈরি না করে। সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ভাষায় ভূমিসেবা নির্দেশিকা, বিনা মূল্যে প্রাথমিক পরামর্শ এবং গ্রামপর্যায়ে সহায়তা কেন্দ্র চালু করা গেলে দালালের ওপর নির্ভরতা কমবে।
ভূমি প্রশাসনের সংস্কার কোনো একক কর্মকর্তা বা একটি দপ্তরের কাজ নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং নাগরিকের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার সংস্কৃতি। মাটির মালিককে নিজের জমির অধিকার প্রমাণ করতে গিয়ে যেন বারবার অসহায় হতে না হয়, এটাই হওয়া উচিত সংস্কারের প্রধান লক্ষ্য। যে মাটি মানুষকে আশ্রয় দেয়, সেই মাটির অধিকার পেতে মানুষকে যদি দপ্তরের দরজায় বন্দি হয়ে থাকতে হয়, তবে ব্যবস্থার কোথাও না কোথাও পরিবর্তন জরুরি।
ভূমি অফিসের সাফল্য কতটি ফাইল নিষ্পত্তি হলো, শুধু সেই হিসাবে মাপা যাবে না; দেখতে হবে কতজন নাগরিক হয়রানি ছাড়াই ন্যায্য সেবা পেলেন। জমির কাগজে মানুষের অধিকার লেখা থাকে, কিন্তু সেই অধিকারকে বাস্তবে নিরাপদ করাই প্রশাসনের প্রকৃত দায়িত্ব। মাটির মালিককে তার অধিকার পেতে আর যেন দপ্তরের কাছে অসহায় হতে না হয়, ভূমি প্রশাসনের প্রতিটি সংস্কারের শুরু ও শেষ হওয়া উচিত এই অঙ্গীকারে।






















