আজ শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
৭ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৩%

সাভারে বিশেষ অভিযান: ছোট মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হলেও অধরাই গডফাদাররা

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:00:14 am, Friday, 23 October 2026
  • 15

সাভারে বিশেষ অভিযান: ছোট মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হলেও অধরাই গডফাদাররা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঢাকার শিল্পাঞ্চল সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ছোট ছোট মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হলেও অধরাই থেকে যাচ্ছেন মূল গডফাদাররা। অভিযানে খুচরা বিক্রেতা ও মাদকসেবীরা আইনের আওতায় এলেও আড়ালে সক্রিয় রয়েছেন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মাদক সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রকেরা।

একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নৈতিক শক্তি ও মনোবল দুর্বল করার লক্ষ্যে একটি প্রভাবশালী মহল নানামুখী অপপ্রচারে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারের হেমায়েতপুর, ফুলবাড়িয়া, গেন্ডা, ইমান্দিপুর, মজিদপুর, রাজাশন, দেওগাঁ, পোড়াবাড়ী, বেদেপল্লি, জাহাঙ্গীরনগর সোসাইটি, নয়াবাড়ী, জামসিং ও ব্যাংক কলোনিসহ আশপাশের এলাকায় মাদকের বড় বড় ডিলাররা সক্রিয় রয়েছে।

সীমান্ত পথ দিয়ে অভিনব উপায়ে ইয়াবা, গাঁজা, মদ ও ফেনসিডিলের মতো ক্ষতিকর মাদকের বড় বড় চালান নিয়ে আসা হচ্ছে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলগুলোতে। জানা যায়, সীমান্ত থেকে মাদকের চালান পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, মোটরবাইক, বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের স্টিকারযুক্ত ব্যক্তিগত গাড়ি, এমনকি নৌপথ ও যাযাবর সম্প্রদায়কে।

রাজাশন এলাকার শীর্ষ মাদক গডফাদার শামীম বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার অবর্তমানে সিন্ডিকেট ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে চক্রের অন্য সদস্যরা। সবচেয়ে বিপজ্জনক ও কৌশলগত রূপ ধারণ করেছে সাভারের পোড়াবাড়ী এলাকার বেদেপল্লি। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় মাদক মজুত ও পাচার করা হচ্ছে। অসচ্ছল বেদে পরিবারগুলোকে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মাদক পাচারে ব্যবহার করছেন চিহ্নিত গডফাদাররা।

বেদেপল্লির খোকন, অমিত, ফরিদাসহ একাধিক বড় ডিলার সাপের ঝুঁড়ি, বাঁশের খুঁটি ও নৌকার গোপন কক্ষে মাদকের বড় চালান লুকিয়ে রাখেন। অতীতে এসব এলাকায় অভিযানে গিয়ে পুলিশ ও র‌্যাব সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল। বর্তমানেও সেখানে বিশেষ অভিযান চালাতে গিয়ে প্রশাসনকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পরপরই আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে একশ্রেণির প্রভাবশালী মহল থেকে জোর তৎপরতা ও তদবির শুরু হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, সাবেক ডিএমপি কমিশনার বেদে সম্প্রদায়ের পুনর্বাসনে কাজ করার সুবাদে কিছু স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পূর্বপরিচয় ছিল। এই সুযোগ ও সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মাদক কারবারিরা অভিযান পরিচালনাকারী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসত্য অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে পুলিশের মনোবল ভেঙে যায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, কোনো ধরনের অপপ্রচার বা তদবিরে কাজ হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বেদেপল্লিসহ সাভারের মূল গডফাদার ও সংগঠিত সিন্ডিকেটের সব সদস্যকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে প্রশাসন। সাভার থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, মাদক নির্মূলে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

কোনো অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সাভারকে মাদকমুক্ত করতে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছি। সাভারে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং খুচরা কারবারিরা ধরা পড়ছে। তবে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পর তাদের ছাড়িয়ে নিতে তদবির আসে।

তদবিরে কোনো কাজ না হওয়ায় একশ্রেণির চক্রান্তকারী মহল আমাদের পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এতে মাদক সিন্ডিকেটের কোনো লাভ হবে না; তাদের জাল ভেঙে মূল গডফাদারদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। সেই সঙ্গে সাভার বেদেপল্লিতে অভিযান অব্যাহত আছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সাভারে বিশেষ অভিযান: ছোট মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হলেও অধরাই গডফাদাররা

Update Time : 07:00:14 am, Friday, 23 October 2026

ঢাকার শিল্পাঞ্চল সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ছোট ছোট মাদক কারবারি গ্রেপ্তার হলেও অধরাই থেকে যাচ্ছেন মূল গডফাদাররা। অভিযানে খুচরা বিক্রেতা ও মাদকসেবীরা আইনের আওতায় এলেও আড়ালে সক্রিয় রয়েছেন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মাদক সিন্ডিকেটের মূল নিয়ন্ত্রকেরা।

একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নৈতিক শক্তি ও মনোবল দুর্বল করার লক্ষ্যে একটি প্রভাবশালী মহল নানামুখী অপপ্রচারে মেতে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাভারের হেমায়েতপুর, ফুলবাড়িয়া, গেন্ডা, ইমান্দিপুর, মজিদপুর, রাজাশন, দেওগাঁ, পোড়াবাড়ী, বেদেপল্লি, জাহাঙ্গীরনগর সোসাইটি, নয়াবাড়ী, জামসিং ও ব্যাংক কলোনিসহ আশপাশের এলাকায় মাদকের বড় বড় ডিলাররা সক্রিয় রয়েছে।

সীমান্ত পথ দিয়ে অভিনব উপায়ে ইয়াবা, গাঁজা, মদ ও ফেনসিডিলের মতো ক্ষতিকর মাদকের বড় বড় চালান নিয়ে আসা হচ্ছে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলগুলোতে। জানা যায়, সীমান্ত থেকে মাদকের চালান পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, মোটরবাইক, বিভিন্ন নামিদামি প্রতিষ্ঠানের স্টিকারযুক্ত ব্যক্তিগত গাড়ি, এমনকি নৌপথ ও যাযাবর সম্প্রদায়কে।

রাজাশন এলাকার শীর্ষ মাদক গডফাদার শামীম বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার অবর্তমানে সিন্ডিকেট ও ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে চক্রের অন্য সদস্যরা। সবচেয়ে বিপজ্জনক ও কৌশলগত রূপ ধারণ করেছে সাভারের পোড়াবাড়ী এলাকার বেদেপল্লি। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় মাদক মজুত ও পাচার করা হচ্ছে। অসচ্ছল বেদে পরিবারগুলোকে মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মাদক পাচারে ব্যবহার করছেন চিহ্নিত গডফাদাররা।

বেদেপল্লির খোকন, অমিত, ফরিদাসহ একাধিক বড় ডিলার সাপের ঝুঁড়ি, বাঁশের খুঁটি ও নৌকার গোপন কক্ষে মাদকের বড় চালান লুকিয়ে রাখেন। অতীতে এসব এলাকায় অভিযানে গিয়ে পুলিশ ও র‌্যাব সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছিল। বর্তমানেও সেখানে বিশেষ অভিযান চালাতে গিয়ে প্রশাসনকে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। গ্রেপ্তারের পরপরই আসামিদের ছাড়িয়ে নিতে একশ্রেণির প্রভাবশালী মহল থেকে জোর তৎপরতা ও তদবির শুরু হয়।

পুলিশ সূত্র জানায়, সাবেক ডিএমপি কমিশনার বেদে সম্প্রদায়ের পুনর্বাসনে কাজ করার সুবাদে কিছু স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পূর্বপরিচয় ছিল। এই সুযোগ ও সম্পর্ককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে মাদক কারবারিরা অভিযান পরিচালনাকারী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসত্য অভিযোগ ও অপপ্রচার চালাচ্ছে, যাতে পুলিশের মনোবল ভেঙে যায়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, কোনো ধরনের অপপ্রচার বা তদবিরে কাজ হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বেদেপল্লিসহ সাভারের মূল গডফাদার ও সংগঠিত সিন্ডিকেটের সব সদস্যকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে প্রশাসন। সাভার থানার ওসি সাইফুল আলম জানান, মাদক নির্মূলে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

কোনো অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। সাভারকে মাদকমুক্ত করতে গডফাদারদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বদ্ধপরিকর। ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছি। সাভারে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং খুচরা কারবারিরা ধরা পড়ছে। তবে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের পর তাদের ছাড়িয়ে নিতে তদবির আসে।

তদবিরে কোনো কাজ না হওয়ায় একশ্রেণির চক্রান্তকারী মহল আমাদের পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। এতে মাদক সিন্ডিকেটের কোনো লাভ হবে না; তাদের জাল ভেঙে মূল গডফাদারদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। সেই সঙ্গে সাভার বেদেপল্লিতে অভিযান অব্যাহত আছে।