আজ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা রক্ত দেয়নি: জামায়াত আমির

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:45:09 pm, Tuesday, 20 October 2026
  • 9

লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা রক্ত দেয়নি: জামায়াত আমির

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানুষ লুটপাট, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি। জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না।

আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেয়ার জবাবদিহি করতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘অতীতের বিভিন্ন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সাবেক একজন বিচারপতি পালিয়ে সীমান্ত থেকে কলাপাতার ওপর থাকা অবস্থায় আটক হওয়ার মতো ঘটনাও আমাদের শিক্ষা দেয়। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক নষ্ট করার পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অন্যায় করে কেউ পার পাবে না; প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে। ’ গত ১৭ বছরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন দলটির আমির। তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে আমাদের ওপর ভিন্ন মাত্রার জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে শতাব্দীর নিকৃষ্ট অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ তারা এক আল্লাহর ওপর অবিচল ঈমান রেখেছিলেন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বুকে ধারণ করেছিলেন।

বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী মানুষের আমানত রক্ষা করবে। এই বিশ্বাস এক দিনে তৈরি হয়নি। ফ্যাসিবাদী আমলে অসংখ্য নারী-পুরুষকে জীবন দিতে হয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। ’ সম্মেলনে প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘হালাল পথে জীবিকা অনুসন্ধান করতে হবে এবং সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে হবে।

দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন কিছু বক্তব্য দেয়া হচ্ছে, যেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর। এসব কথার জবাব দেয়ার ন্যূনতম সময় আমাদের নেই। কথার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে আদর্শ, নৈতিকতা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। এই দেশে ইসলাম কায়েম হবে, ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। ’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ইসলামী আন্দোলনের উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত লাভ বা দুনিয়াবি স্বার্থ অর্জন নয়; বরং আদর্শিক বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের সম্মেলনে অংশগ্রহণ তাঁদের আদর্শিক অঙ্গীকারের প্রকাশ।

তার মতে, এই আয়োজন কেবল পুনর্মিলনের অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের প্রয়োজনে ও সংকটের সময়ে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

যুক্তরাষ্ট্রে আইন সত্ত্বেও থামছে না বন্দুক হামলা, বেড়েছে হতাহতের সংখ্যা

লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা রক্ত দেয়নি: জামায়াত আমির

Update Time : 08:45:09 pm, Tuesday, 20 October 2026

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানুষ লুটপাট, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগর শাখা আয়োজিত ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য জুলাইয়ে রক্ত দেয়নি। জনগণ কোনোভাবেই লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না।

আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক মেরে দেয়ার জবাবদিহি করতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘অতীতের বিভিন্ন ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সাবেক একজন বিচারপতি পালিয়ে সীমান্ত থেকে কলাপাতার ওপর থাকা অবস্থায় আটক হওয়ার মতো ঘটনাও আমাদের শিক্ষা দেয়। মানুষের ওপর জুলুম করা, মানুষের অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক নষ্ট করার পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

অন্যায় করে কেউ পার পাবে না; প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে। ’ গত ১৭ বছরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন দলটির আমির। তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে আমাদের ওপর ভিন্ন মাত্রার জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে শতাব্দীর নিকৃষ্ট অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অথচ তারা এক আল্লাহর ওপর অবিচল ঈমান রেখেছিলেন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন বুকে ধারণ করেছিলেন।

বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী মানুষের আমানত রক্ষা করবে। এই বিশ্বাস এক দিনে তৈরি হয়নি। ফ্যাসিবাদী আমলে অসংখ্য নারী-পুরুষকে জীবন দিতে হয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। ’ সম্মেলনে প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘হালাল পথে জীবিকা অনুসন্ধান করতে হবে এবং সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে হবে।

দেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন কিছু বক্তব্য দেয়া হচ্ছে, যেগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর। এসব কথার জবাব দেয়ার ন্যূনতম সময় আমাদের নেই। কথার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে আদর্শ, নৈতিকতা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। এই দেশে ইসলাম কায়েম হবে, ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। ’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ইসলামী আন্দোলনের উদ্দেশ্য ব্যক্তিগত লাভ বা দুনিয়াবি স্বার্থ অর্জন নয়; বরং আদর্শিক বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ। দেশ ও জাতির কল্যাণে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের সম্মেলনে অংশগ্রহণ তাঁদের আদর্শিক অঙ্গীকারের প্রকাশ।

তার মতে, এই আয়োজন কেবল পুনর্মিলনের অনুষ্ঠান নয়, বরং দেশের প্রয়োজনে ও সংকটের সময়ে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার।