আজ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এনভিডিয়ার চিপে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার চীনা জায়ান্টদের

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:29:23 pm, Tuesday, 20 October 2026
  • 13

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এনভিডিয়ার চিপে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার চীনা জায়ান্টদের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই এনভিডিয়ার নতুন গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে বড় অর্ডার দিয়েছে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট বাইটড্যান্স, আলিবাবা ও টেনসেন্ট।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান তিনটি এনভিডিয়ার নতুন আরটিএক্স প্রো-৫৫০০ ওয়ার্কস্টেশন গ্রাফিক্স কার্ডের ৩০ লাখের বেশি ইউনিটের অর্ডার দিয়েছে। এসব কার্ডের সম্মিলিত তালিকামূল্য ৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

চীনে রপ্তানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ মেনে চলা এই চিপটি তুলনামূলক কম শক্তিশালী হলেও বর্তমানে চীনা ক্রেতাদের জন্য এনভিডিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী উপলব্ধ চিপগুলোর একটি।

রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা এনভিডিয়ার পরিকল্পিত উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে অর্ডারের পুরো পরিমাণ সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে গ্রাহকদের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না কোম্পানিটি।

এনভিডিয়া অংশীদারদের জানিয়েছে, কেউ কেউ চাহিদার মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ চিপ পেতে পারেন। ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ লাখ আরটিএক্স প্রো-৫৫০০ কার্ড উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ শুধু চীনা গ্রাহকদের অর্ডারই ৬০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

প্রতিটি কার্ডের দাম প্রায় ১১ হাজার ৪০০ ডলার। ফলে বাইটড্যান্স, আলিবাবা ও টেনসেন্টের সম্মিলিত অর্ডারের সম্ভাব্য মূল্য ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

এআই কম্পিউটিং সক্ষমতার সংকট আরটিএক্স প্রো-৫৫০০ মূলত শক্তিশালী পেশাদার কম্পিউটারের জন্য তৈরি ওয়ার্কস্টেশন চিপ। এটি এনভিডিয়ার এইচ-২০০ ও বি-৩০০ এর মতো ডেটা সেন্টার চিপের তুলনায় কম শক্তিশালী। তবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব কার্ড মূলত এআই ইনফারেন্সে ব্যবহার করতে চায় অর্থাৎ প্রশিক্ষিত এআই মডেল থেকে চ্যাটবটের উত্তর বা অন্যান্য ফলাফল তৈরিতে।

যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে এনভিডিয়ার আরও শক্তিশালী বি-৩০০ চীনে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। অন্যদিকে এইচ-২০০ বিক্রি লাইসেন্স ও নির্দিষ্ট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।

ফলে চীনে এআই কম্পিউটিং সক্ষমতার ঘাটতি আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নামায় অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী হলেও রপ্তানি-অনুমোদিত চিপের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে।

দেশীয় চিপে ঝুঁকছে চীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে দেশীয় চিপ নির্মাতাদের দিকে ঝুঁকছে। এ ক্ষেত্রে হুয়াওয়ে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। তবে চীনা চিপ নির্মাতারা এখনো মার্কিন শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি পাল্লা দিতে পারছে না।

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এর আগে জানিয়েছিলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনের এআই ডেটা সেন্টার চিপের বাজারে এনভিডিয়ার অংশীদারত্ব প্রায় একচেটিয়া অবস্থান থেকে কার্যত শূন্যে নেমেছে।

তবে আরটিএক্স প্রো-৫৫০০ এর বিপুল অর্ডার দেখাচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী পণ্যের মাধ্যমে চীনে এনভিডিয়ার বড় সম্ভাবনাময় বাজার এখনো রয়েছে।

এদিকে, এনভিডিয়া জানিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে বড় ডেটা সেন্টারের জন্য তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ‌‘রুবিন’ প্ল্যাটফর্ম উৎপাদনে বেশি সক্ষমতা বরাদ্দ হতে পারে। এতে আরটিএক্স প্রো-৫৫০০ এর সরবরাহ আরও সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাথমিক নমুনা ডিসেম্বর থেকে এবং বাণিজ্যিক সরবরাহ ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

যুক্তরাষ্ট্রে আইন সত্ত্বেও থামছে না বন্দুক হামলা, বেড়েছে হতাহতের সংখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও এনভিডিয়ার চিপে ৩৫ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার চীনা জায়ান্টদের

Update Time : 08:29:23 pm, Tuesday, 20 October 2026

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই এনভিডিয়ার নতুন গ্রাফিক্স কার্ড কিনতে বড় অর্ডার দিয়েছে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট বাইটড্যান্স, আলিবাবা ও টেনসেন্ট।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠান তিনটি এনভিডিয়ার নতুন আরটিএক্স প্রো-৫৫০০ ওয়ার্কস্টেশন গ্রাফিক্স কার্ডের ৩০ লাখের বেশি ইউনিটের অর্ডার দিয়েছে। এসব কার্ডের সম্মিলিত তালিকামূল্য ৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

চীনে রপ্তানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ মেনে চলা এই চিপটি তুলনামূলক কম শক্তিশালী হলেও বর্তমানে চীনা ক্রেতাদের জন্য এনভিডিয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী উপলব্ধ চিপগুলোর একটি।

রয়টার্স জানিয়েছে, চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা এনভিডিয়ার পরিকল্পিত উৎপাদন সক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি। ফলে অর্ডারের পুরো পরিমাণ সরবরাহ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে গ্রাহকদের নিশ্চয়তা দিতে পারছে না কোম্পানিটি।

এনভিডিয়া অংশীদারদের জানিয়েছে, কেউ কেউ চাহিদার মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ চিপ পেতে পারেন। ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ লাখ আরটিএক্স প্রো-৫৫০০ কার্ড উৎপাদন করা সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অথচ শুধু চীনা গ্রাহকদের অর্ডারই ৬০ লাখ ইউনিট ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

প্রতিটি কার্ডের দাম প্রায় ১১ হাজার ৪০০ ডলার। ফলে বাইটড্যান্স, আলিবাবা ও টেনসেন্টের সম্মিলিত অর্ডারের সম্ভাব্য মূল্য ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি।

এআই কম্পিউটিং সক্ষমতার সংকট আরটিএক্স প্রো-৫৫০০ মূলত শক্তিশালী পেশাদার কম্পিউটারের জন্য তৈরি ওয়ার্কস্টেশন চিপ। এটি এনভিডিয়ার এইচ-২০০ ও বি-৩০০ এর মতো ডেটা সেন্টার চিপের তুলনায় কম শক্তিশালী। তবে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো এসব কার্ড মূলত এআই ইনফারেন্সে ব্যবহার করতে চায় অর্থাৎ প্রশিক্ষিত এআই মডেল থেকে চ্যাটবটের উত্তর বা অন্যান্য ফলাফল তৈরিতে।

যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের কারণে এনভিডিয়ার আরও শক্তিশালী বি-৩০০ চীনে বিক্রি করা নিষিদ্ধ। অন্যদিকে এইচ-২০০ বিক্রি লাইসেন্স ও নির্দিষ্ট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।

ফলে চীনে এআই কম্পিউটিং সক্ষমতার ঘাটতি আরও তীব্র হয়েছে। দেশটির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত এআই মডেল তৈরির প্রতিযোগিতায় নামায় অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী হলেও রপ্তানি-অনুমোদিত চিপের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে।

দেশীয় চিপে ঝুঁকছে চীন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে দেশীয় চিপ নির্মাতাদের দিকে ঝুঁকছে। এ ক্ষেত্রে হুয়াওয়ে বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে। তবে চীনা চিপ নির্মাতারা এখনো মার্কিন শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি পাল্লা দিতে পারছে না।

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এর আগে জানিয়েছিলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চীনের এআই ডেটা সেন্টার চিপের বাজারে এনভিডিয়ার অংশীদারত্ব প্রায় একচেটিয়া অবস্থান থেকে কার্যত শূন্যে নেমেছে।

তবে আরটিএক্স প্রো-৫৫০০ এর বিপুল অর্ডার দেখাচ্ছে, নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অপেক্ষাকৃত কম শক্তিশালী পণ্যের মাধ্যমে চীনে এনভিডিয়ার বড় সম্ভাবনাময় বাজার এখনো রয়েছে।

এদিকে, এনভিডিয়া জানিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে বড় ডেটা সেন্টারের জন্য তাদের পরবর্তী প্রজন্মের ‌‘রুবিন’ প্ল্যাটফর্ম উৎপাদনে বেশি সক্ষমতা বরাদ্দ হতে পারে। এতে আরটিএক্স প্রো-৫৫০০ এর সরবরাহ আরও সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাথমিক নমুনা ডিসেম্বর থেকে এবং বাণিজ্যিক সরবরাহ ২০২৭ সালের প্রথম প্রান্তিক থেকে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।