আজ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৩°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

এনআইডি আবেদন করে বায়োমেট্রিক না দিলে আবেদন বাতিল করবে ইসি

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:25:56 pm, Tuesday, 20 October 2026
  • 13

এনআইডি আবেদন করে বায়োমেট্রিক না দিলে আবেদন বাতিল করবে ইসি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

অনলাইনে এনআইডি বা ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করে দীর্ঘদিন বায়োমেট্রিক না দেওয়া আবেদনকারীদের ঝুলন্ত আবেদন এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইসি কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সিদ্ধান্তের আলোকেই ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানান তারা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে সেই আবেদন আর বহাল থাকবে না।

ইসি জানায়, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইসি সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজারকে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনো নাগরিক নতুন ভোটার হওয়া বা কার্ড সংশোধনের আবেদন জানানোর পর যদি তিনি মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে গিয়ে বা নির্ধারিত বুথে সময়মতো বায়োমেট্রিক না দেন, তবে একটি নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরপরই আবেদনটি সার্ভার বা সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

ফলে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে অপ্রয়োজনীয় আবেদনের চাপ কমবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন তথ্য না দিয়ে আবেদন ফেলে রাখার সুযোগও বন্ধ হবে। এদিকে সার্ভার ও ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে জমে থাকা পুরোনো ও অপ্রয়োজনীয় নথিপত্র নিষ্পত্তির বিষয়েও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ইসি।

২০১২ সাল থেকে মাঠপর্যায়ের জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে সংরক্ষিত স্ক্যানকৃত ও আপলোড করা ভোটার নিবন্ধন ফরম (ফরম-২) এবং কার্যালয়গুলোর গোডাউনে রাখা অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দ্রুত সরিয়ে ফেলা ও নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই মাঠপর্যায়ের সমস্ত অফিসকে এসব নথিপত্র সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

তবে পুরোনো সমস্ত ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখ পর্যন্ত নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত ভোটার নিবন্ধন ফরম আগের মতোই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোতে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে শুধু ২০১২ সালের পর থেকে স্ক্যান করে সার্ভারে সংরক্ষিত ফরমগুলোর কাগজই অপসারণ করা হবে।

সংরক্ষিত কাগজপত্র নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত সুরক্ষা ও তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপরও জোর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিবের তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন বাতিলের জন্য নির্ধারিত ফরম ও নথিপত্র কোনোভাবেই খোলা বাজারে না বিক্রি করে তা সরাসরি কাগজের মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহার করা নিশ্চিত করা হয়।

সিদ্ধান্তটি দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালককে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

যুক্তরাষ্ট্রে আইন সত্ত্বেও থামছে না বন্দুক হামলা, বেড়েছে হতাহতের সংখ্যা

এনআইডি আবেদন করে বায়োমেট্রিক না দিলে আবেদন বাতিল করবে ইসি

Update Time : 08:25:56 pm, Tuesday, 20 October 2026

অনলাইনে এনআইডি বা ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করে দীর্ঘদিন বায়োমেট্রিক না দেওয়া আবেদনকারীদের ঝুলন্ত আবেদন এবার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ইসি কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের মাসিক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সিদ্ধান্তের আলোকেই ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে জানান তারা। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ প্রদানসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য না দিলে সেই আবেদন আর বহাল থাকবে না।

ইসি জানায়, নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য ইসি সচিবালয়ের সিস্টেম ম্যানেজারকে লিখিত নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনায় স্পষ্ট করে বলা হয়, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনো নাগরিক নতুন ভোটার হওয়া বা কার্ড সংশোধনের আবেদন জানানোর পর যদি তিনি মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ে গিয়ে বা নির্ধারিত বুথে সময়মতো বায়োমেট্রিক না দেন, তবে একটি নির্দিষ্ট সময় পার হওয়ার পরপরই আবেদনটি সার্ভার বা সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

ফলে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে অপ্রয়োজনীয় আবেদনের চাপ কমবে, অন্যদিকে দীর্ঘদিন তথ্য না দিয়ে আবেদন ফেলে রাখার সুযোগও বন্ধ হবে। এদিকে সার্ভার ও ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের অফিসগুলোতে জমে থাকা পুরোনো ও অপ্রয়োজনীয় নথিপত্র নিষ্পত্তির বিষয়েও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ইসি।

২০১২ সাল থেকে মাঠপর্যায়ের জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে সংরক্ষিত স্ক্যানকৃত ও আপলোড করা ভোটার নিবন্ধন ফরম (ফরম-২) এবং কার্যালয়গুলোর গোডাউনে রাখা অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি দ্রুত সরিয়ে ফেলা ও নিষ্পত্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। কমিশনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবরের মধ্যেই মাঠপর্যায়ের সমস্ত অফিসকে এসব নথিপত্র সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।

তবে পুরোনো সমস্ত ডকুমেন্টের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখ পর্যন্ত নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত ভোটার নিবন্ধন ফরম আগের মতোই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোতে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে শুধু ২০১২ সালের পর থেকে স্ক্যান করে সার্ভারে সংরক্ষিত ফরমগুলোর কাগজই অপসারণ করা হবে।

সংরক্ষিত কাগজপত্র নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত সুরক্ষা ও তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখার ওপরও জোর দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসি সচিবের তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন বাতিলের জন্য নির্ধারিত ফরম ও নথিপত্র কোনোভাবেই খোলা বাজারে না বিক্রি করে তা সরাসরি কাগজের মণ্ড তৈরির কাজে ব্যবহার করা নিশ্চিত করা হয়।

সিদ্ধান্তটি দ্রুত ও সঠিকভাবে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা এবং জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি) মহাপরিচালককে ইতোমধ্যেই প্রয়োজনীয় চিঠি পাঠানো হয়েছে।