চলতি বছরের প্রথম আট মাসের কিছু বেশি সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে বিশ্বের ১০৯টি দেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গেছেন ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২১ বাংলাদেশি কর্মী।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও অস্থিরতার মধ্যেও এমন সাফল্য অর্জিত হয়েছে বর্তমান সরকারের কর্মতৎপরতা এবং উদ্যোগের ফলে। এখানেই শেষ নয়, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রচলিত শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মালয়েশিয়া, ওমান, ইতালি ও কাতারসহ কয়েকটি দেশে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির আলোচনা এগোচ্ছে।
জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, উল্লিখিত আট মাসে সবচেয়ে বেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরবে— ২ লাখ ১৮ হাজার ৫০৮ জন। এ ছাড়া সিঙ্গাপুরে ৫৩ হাজার ২৯৭, কাতারে ৪২ হাজার ৫১৬, মালদ্বীপে ২৪ হাজার ৭০, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ হাজার ৬৬১ এবং কুয়েতে ২০ হাজার ২৫৪ জন কর্মী গেছেন। একই সময়ে জর্ডানে ১০ হাজার ১০, ইতালিতে ৭ হাজার ৭৭, পর্তুগালে ৫ হাজার ৩৮৬ এবং ইরাকে ২ হাজার ৮৭৮ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন।
মরিশাস, সার্বিয়া, ফিজি, বেলারুশ ও রাশিয়াসহ আরো কয়েকটি দেশেও কর্মী পাঠানো হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এ বিষয়ে বাসসকে জানান, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ায় নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। তবে যুদ্ধের মধ্যেও মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় সাড়ে তিন লাখ কর্মী গেছেন।
সেখানে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের বৈধতা দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান শ্রমবাজারে সংকটের কারণে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ খোঁজা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন দেশ সফর করে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করছেন। রেমিট্যান্স এসেছে ২৫.৭৪ বিলিয়ন ডলার : বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৫৭৩ কোটি ৯১ লাখ ২০ হাজার বা ২৫ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।
এর মধ্যে মার্চে সর্বোচ্চ ৩৭৫ কোটি ২২ লাখ ১০ হাজার ডলার এসেছে। মে মাসে এসেছে ৩৪৪ কোটি ২৫ লাখ ৮০ হাজার, এপ্রিলে ৩১২ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার এবং জুনে ২৮১ কোটি ৯০ লাখ ৩০ হাজার ডলার। জুলাইয়ে ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ৬০ হাজার, আগস্টে ২৯৬ কোটি ৭৫ লাখ ৩০ হাজার এবং সেপ্টেম্বরে ২৭৬ কোটি ৬২ লাখ ৪০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে এসেছে ৯৯ কোটি ডলার।
নতুন শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ : তথ্য-উপাত্ত অনুসারে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কলিং ভিসায় কর্মী পাঠানোর আনুষ্ঠানিকতাও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পাঁচ বছরমেয়াদি সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।
এরপর নতুন চুক্তির মাধ্যমে আরও বেশি কর্মী পাঠানোর আশা করছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া ওমান বিভিন্ন খাতে ১০ হাজার কর্মী নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো প্রতিবছর প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশিকে পরিবারসহ ইতালিতে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কাতার ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের কারিগর ও প্লাম্বিং খাতে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী।
এ জন্য বাংলাদেশের কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোর তালিকা দেশটিকে দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্ত কর্মী বাছাই করে নিয়মিত নিয়োগের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, দুবাই ট্যাক্সি কোম্পানি ৬ হাজার দক্ষ চালক নিয়োগের কথা জানিয়েছে। গত মে মাসে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার খরচ কমানোর বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি না হলেও প্রবাসী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নতুন শ্রমবাজার তৈরিতে কাজ চলছে। শিগগিরই বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রবাসীদের কাছে দ্রুত প্রবাসী কার্ড পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগও চলছে বলে জানান কর্মসংস্থানমন্ত্রী।





















