আজ বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩৪%

পটিয়ায় বিদ্যুৎ সংকটের মাঝে মাসব্যাপী মেলার আয়োজন, অনুমতি নিয়ে ক্ষোভ

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:41:28 pm, Tuesday, 13 October 2026
  • 19

পটিয়ায় বিদ্যুৎ সংকটের মাঝে মাসব্যাপী মেলার আয়োজন, অনুমতি নিয়ে ক্ষোভ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাদামতলী এলাকায় মাসব্যাপী আনন্দমেলার আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মেলাটির উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

রাতব্যাপী এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি এবং মেলায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলার জন্য নির্ধারিত মাঠটির মালিক জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অসিত বড়ুয়া। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁর অনুপস্থিতিতে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার মধ্যস্থতায় মাঠটি ভাড়া নিয়ে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তাঁতবস্ত্র, কুটিরশিল্প ও আনন্দমেলার নামে রাতব্যাপী এ ধরনের আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের দাবি, এসব মেলায় নিম্নমানের পণ্য বিক্রি, অশালীন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং জুয়ার আসর বসার মতো ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কারণে স্থানীয় স্থায়ী ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। পটিয়া সদর বণিক সমিতির সভাপতি গাজী আমির হোসেন বলেন, ঘন ঘন এ ধরনের মেলার আয়োজনের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে মাসব্যাপী মেলা আয়োজনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক আবিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এমনিতেই প্রচণ্ড লোডশেডিংয়ের মধ্যে আছি। মেলার নামে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলে তার প্রভাব আমাদের জনজীবনে পড়বে। সংকটের মুহূর্তে এ ধরনের আয়োজন অযৌক্তিক। ’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেলার নামে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মানুষ বিরক্ত।

দেশে যখন বিদ্যুৎ সংকট চলছে, তখন এমন আয়োজন সরকারের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের দাবি, এলাকাটি এমনিতেই অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন মাঠে মেলা আয়োজনের সুযোগ দেওয়া নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে মেলার উদ্যোক্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘অশ্লীলতা ও জুয়ার সঙ্গে আমরা নেই।

সুন্দরভাবে মেলা পরিচালনার জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে। ’ মেলায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মিটারের আবেদন করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বলেন, আবেদন করেছেন, তবে এখনো মিটার পাননি। রোববার পর্যন্ত মেলা আয়োজনের অনুমতিও পাননি বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে পটিয়া পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মুমিনুল ইসলাম বলেন, মেলা আয়োজনের অনুমতি থাকলে সংযোগের জন্য আবেদন করা হলে তা দিতে তারা বাধ্য।

তবে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। মেলা আয়োজনের অনুমতি, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, মেলার অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে, মাঠ ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অসিত বড়ুয়ার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পটিয়ায় বিদ্যুৎ সংকটের মাঝে মাসব্যাপী মেলার আয়োজন, অনুমতি নিয়ে ক্ষোভ

Update Time : 07:41:28 pm, Tuesday, 13 October 2026

দেশজুড়ে বিদ্যুৎ সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বাদামতলী এলাকায় মাসব্যাপী আনন্দমেলার আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর শুক্রবার মেলাটির উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

রাতব্যাপী এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি এবং মেলায় সম্ভাব্য অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মেলার জন্য নির্ধারিত মাঠটির মালিক জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অসিত বড়ুয়া। ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁর অনুপস্থিতিতে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার মধ্যস্থতায় মাঠটি ভাড়া নিয়ে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তাঁতবস্ত্র, কুটিরশিল্প ও আনন্দমেলার নামে রাতব্যাপী এ ধরনের আয়োজন নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের দাবি, এসব মেলায় নিম্নমানের পণ্য বিক্রি, অশালীন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং জুয়ার আসর বসার মতো ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কারণে স্থানীয় স্থায়ী ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। পটিয়া সদর বণিক সমিতির সভাপতি গাজী আমির হোসেন বলেন, ঘন ঘন এ ধরনের মেলার আয়োজনের কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে মাসব্যাপী মেলা আয়োজনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক আবিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এমনিতেই প্রচণ্ড লোডশেডিংয়ের মধ্যে আছি। মেলার নামে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলে তার প্রভাব আমাদের জনজীবনে পড়বে। সংকটের মুহূর্তে এ ধরনের আয়োজন অযৌক্তিক। ’ স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেলার নামে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মানুষ বিরক্ত।

দেশে যখন বিদ্যুৎ সংকট চলছে, তখন এমন আয়োজন সরকারের ভাবমূর্তিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের দাবি, এলাকাটি এমনিতেই অপরাধপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন মাঠে মেলা আয়োজনের সুযোগ দেওয়া নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে মেলার উদ্যোক্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ‘অশ্লীলতা ও জুয়ার সঙ্গে আমরা নেই।

সুন্দরভাবে মেলা পরিচালনার জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকবে। ’ মেলায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য মিটারের আবেদন করা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম বলেন, আবেদন করেছেন, তবে এখনো মিটার পাননি। রোববার পর্যন্ত মেলা আয়োজনের অনুমতিও পাননি বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে পটিয়া পল্লী বিদ্যুতের এজিএম মুমিনুল ইসলাম বলেন, মেলা আয়োজনের অনুমতি থাকলে সংযোগের জন্য আবেদন করা হলে তা দিতে তারা বাধ্য।

তবে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে অস্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগের কোনো আবেদন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। মেলা আয়োজনের অনুমতি, বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, মেলার অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে, মাঠ ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে বক্তব্য জানতে জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি অসিত বড়ুয়ার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।