আজ বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২১%

সংসারের খরচের পর জমানো টাকায় পাঠাগার উন্নয়ন

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:13:25 pm, Tuesday, 13 October 2026
  • 21

সংসারের খরচের পর জমানো টাকায় পাঠাগার উন্নয়ন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সংসারের নিত্যদিনের খরচ মেটানোর পর হাতে থাকা সামান্য কিছু টাকা আর অন্য কোথাও খরচ না করে মাটির তৈরি ছোট ব্যাংকে জমিয়ে রাখেন গ্রামের কৃষক পরিবারের সদস্যরা। কারও দিনে জমা হয় দুই টাকা, কারও পাঁচ, আবার কারও সামর্থ্য অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ টাকা।

তিন মাস পর সেই ‘মাটির ব্যাংক’ নিয়ে তারা হাজির হন গ্রামের পাঠাগারে। ব্যাংক ভেঙে পাওয়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা তুলে দেন পাঠাগারের উন্নয়নে। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী টিপার বাজার এলাকায় গড়ে ওঠা ‘সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগার’ ঘিরে এভাবেই তৈরি হয়েছে মানুষের এক অন্যরকম মমত্ববোধ।

পাঠাগারের উন্নয়ন, নতুন বই ও বাদ্যযন্ত্র কেনা এবং ভবনের দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অংশ নিতে ২০টি কৃষক পরিবার ‘মাটির ব্যাংক’-এ টাকা জমাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এই উদ্যোগ। এখন পর্যন্ত এসব ‘মাটির ব্যাংক’ থেকে ৩৯ হাজার ৩০০ টাকা পাওয়া গেছে। গ্রামের মানুষের আশা, তাদের সামান্য সামান্য সঞ্চয় একসময় পাঠাগারটির বড় উন্নয়নের কাজে লাগবে।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি একসময় পরিচালিত হতো একটি ছোট ও জীর্ণ টিনশেড ঘরে। প্রতিষ্ঠার সময় সেখানে বই ছিল মাত্র ১০টি। স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী জামাল হোসেনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা পাঠাগারটি ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষের জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বর্তমানে পাঠাগারটির বইয়ের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে।

ইতোমধ্যে পাঠাগারের নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। দ্বিতল ভবনের ভিত্তির ওপর একতলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। পাঠাগারে রয়েছে কম্পিউটার, ল্যাব, চেয়ার-টেবিল এবং বিভিন্ন ধরনের বাংলা ও আধুনিক বাদ্যযন্ত্র। এখানে শুধু বই পড়ার সুযোগই নেই, নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চারও সুযোগ রয়েছে। গ্রামের শিক্ষার্থী ও তরুণরা বই পড়ার পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র বাজানো ও সংগীতচর্চায় অংশ নেয়।

২০২৪ ও ২০২৫ সালে পাঠাগারের ভবন নির্মাণকাজ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ৩০ লাখ টাকার বেশি। এর প্রায় ৯০ শতাংশ আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন ঢাকার রবিন প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজ লিমিটেডের পরিচালক শাহীন হোসেন এবং মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। বাকি প্রায় ১০ শতাংশ অর্থ এসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার মানুষের কাছ থেকে।

তবে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য নেই গ্রামের অধিকাংশ মানুষের। তাই তারা বেছে নিয়েছেন নিজেদের মতো করে সহযোগিতা করার পথ—‘মাটির ব্যাংক’। স্থানীয় বাসিন্দা দীপিকা রানী বলেন, তারা কৃষক পরিবার। একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করার সামর্থ্য তাদের নেই। তাই সংসারের খরচ মেটানোর পর সামান্য সামান্য করে টাকা ‘মাটির ব্যাংক’-এ জমিয়ে রাখেন।

“পাঠাগারটিতে যাতে আরও বই ও বাদ্যযন্ত্র কেনা যায় এবং দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু করা যায়, সেজন্য আমরা যতটুকু পারি সহযোগিতা করছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা নিয়মিত পাঠাগারে বই পড়তে আসে। এখানে তারা সাহিত্যচর্চাও করে। আরেক বাসিন্দা সাজেদা বেগম বলেন, গ্রামের পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠার পর অবসর সময়ে মানুষের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। তরুণ-তরুণীরা বাদ্যযন্ত্র বাজানো ও সংগীতচর্চার সুযোগ পাচ্ছে।

“বাড়ির খরচ করার পর যেটুকু বাঁচে, সেটুকুই ‘মাটির ব্যাংক’-এ জমা রাখি। তিন মাস পর ব্যাংকটি পাঠাগারে নিয়ে আসি। প্রতিটি ব্যাংকে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা জমা হয়। আমাদের সামান্য এই সঞ্চয়েই পাঠাগারটির আরও উন্নয়ন হবে—এটাই আমাদের আশা। মেরিনা বেগম বলেন, পাঠাগারটি গ্রামের শিশু-কিশোরদের অবসর সময়কে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

“তারা বই পড়ছে, জ্ঞানচর্চা করছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। এতে তাদের মানসিক বিকাশও হচ্ছে। এককালীন বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। তাই ‘মাটির ব্যাংক’-এ সামান্য সামান্য টাকা জমিয়ে পাঠাগারের উন্নয়নে সহযোগিতা করছি,” তিনি বলেন। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিমাই চন্দ্র রায় জানায়, তার মা একটি ‘মাটির ব্যাংক’-এ টাকা জমিয়ে রাখেন।

তিন মাস পর সেটি পাঠাগারে নিয়ে আসা হয়। “আমরা নিয়মিত পাঠাগারে আসি। এখানে বই পড়ি, বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখি এবং সংগীতচর্চা করি। আমাদের গ্রামের এই পাঠাগারটি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা জামাল হোসেন বলেন, গ্রামের মানুষের এই ভালোবাসা তাকে অভিভূত করেছে। একসময় মাত্র ১০টি বই নিয়ে যে পাঠাগারের যাত্রা শুরু হয়েছিল, এখন সেটি ১৮ হাজারের বেশি বইয়ের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

এর পেছনে এলাকার মানুষের পাশাপাশি বাইরে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও অবদান রয়েছে। “পাঠাগারের প্রতি গ্রামের কিছু মানুষের যে মমত্ববোধ দেখছি, তা সত্যিই আমাকে অভিভূত করে। তারা ‘মাটির ব্যাংক’-এ টাকা জমিয়ে পাঠাগারের উন্নয়নে সহযোগিতা করছেন। অন্য কোথাও এমন উদ্যোগ আছে কি না, আমার জানা নেই। তিনি জানান, গ্রামের অনেক পরিবার থাকলেও বর্তমানে ২০টি কৃষক পরিবার ‘মাটির ব্যাংক’-এ টাকা জমাতে আগ্রহী হয়েছে।

তাদের প্রত্যেককে তিনি মাটির ব্যাংক কিনে দিয়েছেন। গত নয় মাসে এসব ব্যাংকে জমা হওয়া ৩৯ হাজার ৩০০ টাকা পাওয়া গেছে। “দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তারা এভাবে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা খুব দ্রুতই ভবনের দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ শুরু করতে চাই। ঢাকার রবিন প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজ লিমিটেডের পরিচালক শাহীন হোসেন বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষের পাঠাগারের প্রতি যে মমত্ববোধ দেখা গেছে, তাতে এর উন্নয়ন থেমে থাকবে না।

“আমি ও আমার বন্ধুরা সবাই মিলে পাঠাগারটির উন্নয়ন কাজে অংশ নেব। গ্রামের এই পাঠাগারটি শুধু বই পড়ার জায়গা নয়, এটি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

সংসারের খরচের পর জমানো টাকায় পাঠাগার উন্নয়ন

Update Time : 04:13:25 pm, Tuesday, 13 October 2026

সংসারের নিত্যদিনের খরচ মেটানোর পর হাতে থাকা সামান্য কিছু টাকা আর অন্য কোথাও খরচ না করে মাটির তৈরি ছোট ব্যাংকে জমিয়ে রাখেন গ্রামের কৃষক পরিবারের সদস্যরা। কারও দিনে জমা হয় দুই টাকা, কারও পাঁচ, আবার কারও সামর্থ্য অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ টাকা।

তিন মাস পর সেই ‘মাটির ব্যাংক’ নিয়ে তারা হাজির হন গ্রামের পাঠাগারে। ব্যাংক ভেঙে পাওয়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা তুলে দেন পাঠাগারের উন্নয়নে। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী টিপার বাজার এলাকায় গড়ে ওঠা ‘সারপুকুর যুব ফোরাম পাঠাগার’ ঘিরে এভাবেই তৈরি হয়েছে মানুষের এক অন্যরকম মমত্ববোধ।

পাঠাগারের উন্নয়ন, নতুন বই ও বাদ্যযন্ত্র কেনা এবং ভবনের দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অংশ নিতে ২০টি কৃষক পরিবার ‘মাটির ব্যাংক’-এ টাকা জমাচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে এই উদ্যোগ। এখন পর্যন্ত এসব ‘মাটির ব্যাংক’ থেকে ৩৯ হাজার ৩০০ টাকা পাওয়া গেছে। গ্রামের মানুষের আশা, তাদের সামান্য সামান্য সঞ্চয় একসময় পাঠাগারটির বড় উন্নয়নের কাজে লাগবে।

২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত পাঠাগারটি একসময় পরিচালিত হতো একটি ছোট ও জীর্ণ টিনশেড ঘরে। প্রতিষ্ঠার সময় সেখানে বই ছিল মাত্র ১০টি। স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী জামাল হোসেনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা পাঠাগারটি ধীরে ধীরে গ্রামের মানুষের জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বর্তমানে পাঠাগারটির বইয়ের সংখ্যা ১৮ হাজার ছাড়িয়েছে।

ইতোমধ্যে পাঠাগারের নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। দ্বিতল ভবনের ভিত্তির ওপর একতলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। পাঠাগারে রয়েছে কম্পিউটার, ল্যাব, চেয়ার-টেবিল এবং বিভিন্ন ধরনের বাংলা ও আধুনিক বাদ্যযন্ত্র। এখানে শুধু বই পড়ার সুযোগই নেই, নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চারও সুযোগ রয়েছে। গ্রামের শিক্ষার্থী ও তরুণরা বই পড়ার পাশাপাশি বাদ্যযন্ত্র বাজানো ও সংগীতচর্চায় অংশ নেয়।

২০২৪ ও ২০২৫ সালে পাঠাগারের ভবন নির্মাণকাজ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে ৩০ লাখ টাকার বেশি। এর প্রায় ৯০ শতাংশ আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন ঢাকার রবিন প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজ লিমিটেডের পরিচালক শাহীন হোসেন এবং মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। বাকি প্রায় ১০ শতাংশ অর্থ এসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও এলাকার মানুষের কাছ থেকে।

তবে এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার সামর্থ্য নেই গ্রামের অধিকাংশ মানুষের। তাই তারা বেছে নিয়েছেন নিজেদের মতো করে সহযোগিতা করার পথ—‘মাটির ব্যাংক’। স্থানীয় বাসিন্দা দীপিকা রানী বলেন, তারা কৃষক পরিবার। একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করার সামর্থ্য তাদের নেই। তাই সংসারের খরচ মেটানোর পর সামান্য সামান্য করে টাকা ‘মাটির ব্যাংক’-এ জমিয়ে রাখেন।

“পাঠাগারটিতে যাতে আরও বই ও বাদ্যযন্ত্র কেনা যায় এবং দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু করা যায়, সেজন্য আমরা যতটুকু পারি সহযোগিতা করছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা নিয়মিত পাঠাগারে বই পড়তে আসে। এখানে তারা সাহিত্যচর্চাও করে। আরেক বাসিন্দা সাজেদা বেগম বলেন, গ্রামের পাঠাগারটি প্রতিষ্ঠার পর অবসর সময়ে মানুষের বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। তরুণ-তরুণীরা বাদ্যযন্ত্র বাজানো ও সংগীতচর্চার সুযোগ পাচ্ছে।

“বাড়ির খরচ করার পর যেটুকু বাঁচে, সেটুকুই ‘মাটির ব্যাংক’-এ জমা রাখি। তিন মাস পর ব্যাংকটি পাঠাগারে নিয়ে আসি। প্রতিটি ব্যাংকে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা জমা হয়। আমাদের সামান্য এই সঞ্চয়েই পাঠাগারটির আরও উন্নয়ন হবে—এটাই আমাদের আশা। মেরিনা বেগম বলেন, পাঠাগারটি গ্রামের শিশু-কিশোরদের অবসর সময়কে কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছে।

“তারা বই পড়ছে, জ্ঞানচর্চা করছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হচ্ছে। এতে তাদের মানসিক বিকাশও হচ্ছে। এককালীন বড় অঙ্কের টাকা দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের নেই। তাই ‘মাটির ব্যাংক’-এ সামান্য সামান্য টাকা জমিয়ে পাঠাগারের উন্নয়নে সহযোগিতা করছি,” তিনি বলেন। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিমাই চন্দ্র রায় জানায়, তার মা একটি ‘মাটির ব্যাংক’-এ টাকা জমিয়ে রাখেন।

তিন মাস পর সেটি পাঠাগারে নিয়ে আসা হয়। “আমরা নিয়মিত পাঠাগারে আসি। এখানে বই পড়ি, বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখি এবং সংগীতচর্চা করি। আমাদের গ্রামের এই পাঠাগারটি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে। পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা জামাল হোসেন বলেন, গ্রামের মানুষের এই ভালোবাসা তাকে অভিভূত করেছে। একসময় মাত্র ১০টি বই নিয়ে যে পাঠাগারের যাত্রা শুরু হয়েছিল, এখন সেটি ১৮ হাজারের বেশি বইয়ের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

এর পেছনে এলাকার মানুষের পাশাপাশি বাইরে থাকা শুভাকাঙ্ক্ষীদেরও অবদান রয়েছে। “পাঠাগারের প্রতি গ্রামের কিছু মানুষের যে মমত্ববোধ দেখছি, তা সত্যিই আমাকে অভিভূত করে। তারা ‘মাটির ব্যাংক’-এ টাকা জমিয়ে পাঠাগারের উন্নয়নে সহযোগিতা করছেন। অন্য কোথাও এমন উদ্যোগ আছে কি না, আমার জানা নেই। তিনি জানান, গ্রামের অনেক পরিবার থাকলেও বর্তমানে ২০টি কৃষক পরিবার ‘মাটির ব্যাংক’-এ টাকা জমাতে আগ্রহী হয়েছে।

তাদের প্রত্যেককে তিনি মাটির ব্যাংক কিনে দিয়েছেন। গত নয় মাসে এসব ব্যাংকে জমা হওয়া ৩৯ হাজার ৩০০ টাকা পাওয়া গেছে। “দ্বিতল ভবনের কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত তারা এভাবে সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন। আমরা খুব দ্রুতই ভবনের দ্বিতীয় তলার নির্মাণকাজ শুরু করতে চাই। ঢাকার রবিন প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজ লিমিটেডের পরিচালক শাহীন হোসেন বলেন, গ্রামের সাধারণ মানুষের পাঠাগারের প্রতি যে মমত্ববোধ দেখা গেছে, তাতে এর উন্নয়ন থেমে থাকবে না।

“আমি ও আমার বন্ধুরা সবাই মিলে পাঠাগারটির উন্নয়ন কাজে অংশ নেব। গ্রামের এই পাঠাগারটি শুধু বই পড়ার জায়গা নয়, এটি জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।