কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের দানবাক্সে জমা পড়া স্বর্ণ ও রুপার ওজন নির্ধারণ এবং দেশভিত্তিক বৈদেশিক মুদ্রা আলাদা করে গণনার কাজ শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখায় সংরক্ষিত কনটেইনার ও সিলগালাকৃত খাম খুলে সম্মেলন কক্ষে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
গণনা শেষে স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করে নিলামের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রাগুলো দেশভিত্তিক পৃথক করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে। জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদে আগত দর্শনার্থীরা দানবাক্সে নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণ, রুপার গয়না এবং বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা দান করেন।
নির্দিষ্ট সময় পরপর দানবাক্সগুলো খোলা হলে নগদ অর্থ গণনা করা হয়। অন্যদিকে, দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ, রুপার গয়নাসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা একসঙ্গে কনটেইনারে ভরে সিলগালা করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখায় সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় এসব মূল্যবান সামগ্রী ও বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব সম্পন্ন করা হয়।
আজকের কার্যক্রমে ট্রেজারিতে সংরক্ষিত মাঝারি আকারের ৯টি কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালাকৃত খাম খোলা হয়েছে। এসব কনটেইনার ও খামে সংরক্ষিত স্বর্ণ, রুপা এবং বৈদেশিক মুদ্রা পৃথক করে গণনা করা হবে। স্বর্ণের ক্যারেট অনুযায়ী আলাদা করে ওজন নির্ধারণের পাশাপাশি রুপার ওজনও পরিমাপ করা হবে। পরে স্বর্ণ ও রুপার বাজারমূল্য নির্ধারণ করা হবে। এসব মূল্যবান সামগ্রী পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের মাধ্যমে নিলামে বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আর বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পৃথকভাবে হিসাব করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে। তিনি আরও জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের দানবাক্সে পাওয়া স্বর্ণ, রুপার ওজন নির্ধারণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা দেশভিত্তিক আলাদা করার কার্যক্রম সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই সময় নিলামে বিক্রি করা স্বর্ণের পরিমাণ ছিল ৪১৫ ভরি ১ আনা এবং রুপার পরিমাণ ছিল ১৮৪ ভরি।
এসব স্বর্ণ ও রুপা বিক্রি করে মোট ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া যায়। একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া যায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা। ২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের দানবাক্স ১৮ বার খোলা হয়েছে। এসব সময়ে দানবাক্স থেকে পাওয়া স্বর্ণ, রুপা ও বৈদেশিক মুদ্রার একটি অংশ ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের দানবাক্স সর্বশেষ খোলা হয়েছিল ২০২৬ সালের ২৭ জুন। বর্তমানে মসজিদটির তহবিলে মোট ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা জমা রয়েছে। মসজিদটির আয় ও অনুদানের একটি অংশ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। এদিকে, দান কার্যক্রমকে আরও সহজ করতে পাগলা মসজিদের নিজস্ব ওয়েবসাইট www.paglamosque.org চালু করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সাহায্যে অনুদান দেওয়া যায়। অনলাইন মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা অনুদান পাওয়া গেছে। মসজিদটির অবকাঠামোগত উন্নয়নেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সে ১ কোটি ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৪ টাকা ব্যয়ে তিনটি নামাজের শেড, অজুখানা এবং নারীদের জন্য ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মসজিদে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে মসজিদের বাইরের অংশে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য নকশা প্রণয়নের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গণনা কার্যক্রম অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সভাপতিত্বে গঠিত নয় সদস্যের একটি উপকমিটি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য এবং ছয়জন এসআরবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
এ ছাড়া গণনার কাজে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ছয়জন কর্মচারী, পাগলা মসজিদের কর্মচারী, জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেছেন। এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: শরিফুল হক, স্থানীয় সরকারের উপ পরিচালক জেবুন নাহার শাম্মীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















