গতানুগতিক চাকরির প্রথা থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন।
তিনি বলেন, নিজেদের মানসিকতার পরিবর্তন করে কর্মমুখী ও দক্ষ হয়ে উঠতে না পারলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন বলেন, দেশে স্নাতক শেষ করে গতানুগতিক চাকরিতে প্রবেশের প্রবণতা বেশ পুরোনো। এ প্রথা থেকে বেরিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ফিনল্যান্ডের একটি নামকরা ও ব্যয়বহুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা নিয়েও একজন তরুণ সাইকেল মেরামতের কাজকে নিজের পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
সাধারণ চাকরির তুলনায় এ পেশায় তিনি দ্বিগুণ আয় করছেন। সেই উপার্জন কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে বড় শিল্প গড়ে তোলার পরিকল্পনাও করছেন তিনি। বাংলাদেশেও এ ধরনের পেশা ও উদ্যোগের ক্ষেত্রে মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার অর্থ শুধু বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করে শিল্পকারখানা গড়ে তোলা নয়। আবাসন খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মুনাফার চিন্তা ও গতানুগতিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
এ মানসিকতার পরিবর্তন না হলে জাতি হিসেবে এগিয়ে যাওয়া কঠিন। শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও মেধাবী নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীদেরও সময়মতো নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তন করে কর্মমুখী ও দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী বলেন, স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে বিদায় নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মজীবনের নতুন লড়াই শুরু হচ্ছে।
একই সঙ্গে এটি নতুন করে শেখা ও অভিজ্ঞতা অর্জনেরও সুযোগ। অন্যদিকে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়জীবন মাত্র শুরু হয়েছে। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করতে শুরু থেকেই প্রতিটি ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে। পাশাপাশি ইনকোর্স ও টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে জেনে তা মেনে চলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক জীবন এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ওবাইদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. বেগম রোকসানা মিলি। এ ছাড়া বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শিরিনা খাতুন, সহকারী অধ্যাপক ফিরোজ আল মামুনসহ অন্যান্য শিক্ষক এবং শতাধিক নবীন ও প্রবীণ শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। পাশাপাশি স্নাতকোত্তর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় বিদায়ী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।


























