আজ রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৫%

ঢাকার বাস নারী-শিশু ও প্রবীণদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:29:53 pm, Sunday, 11 October 2026
  • 9

ঢাকার বাস নারী-শিশু ও প্রবীণদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নারীসহ শিশু, প্রতিবন্ধি ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য রাজধানী ঢাকার নগর পরিবহন বাসগুলোতে চলাচল চরম বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক। একইসঙ্গে এসব বাসে চলাচল তাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআর) ও শিপিং এ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) যৌথ পর্যবেক্ষণে এমন চিত্র দেখা গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এক মাস পর্যবেক্ষণকালে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন রুটের অর্ধশতাধিক বাস পরিদর্শন এবং যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধি ও মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য প্রত্যেক বাসে ৯টি আসন সংরক্ষিত রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিছু বাসে সরকারি এই নির্দেশনার কথা লেখা থাকলেও অধিকাংশ বাসে নেই।

তবে কোনো বাসেই সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। পর্যবেক্ষণকালে যাত্রীভর্তি লোকাল বাসগুলোর ভিতরে দেখা যায়, সংরক্ষিত আসনগুলোতে পুরুষ যাত্রীরা বসে আছেন। আর নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ যাত্রীরা দাঁড়িয়ে আছেন। এতে তারা দুর্ভোগের পাশাপাশি চরম অস্বস্তি ভোগ করেন। ঢাকার নগর পরিবহন সার্ভিসের লোকাল বাসগুলোতে চলাচলে আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে হেলপার (চালকের সহকারি) না থাকা।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এ ধরনের ৮০ শতাংশ বাসে হেলপার নেই। একজন চালক মালিকের কাছ থেকে দিনচুক্তিতে বাস ভাড়া নেন। তিনি একজন কন্ডাক্টর যোগাড় করে তাকে নিয়ে সড়কে বাস চালান। তারা দু’জন দিন শেষে মালিকের পাওনা পরিশোধ করে বাকি টাকা নিজেরা ভাগ করে নেন। খরচ কমানোর জন্য তারা হেলপার রাখেন না। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কন্ডাক্টর প্রতি স্টপেজে ও রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে তড়িঘড়ি করে যাত্রী তোলেন ও নামান।

বাকি সময় তিনি বাসের ভেতরে ভাড়া আদায়ে ব্যস্ত থাকেন। এ কারণে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে ওঠানামা করতে হয়। বিশেষ করে গাড়ি থেকে নামার সময় ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে এবং প্রায় প্রতিদিন ছোট ছোট দুর্ঘটনা ঘটে। জাতীয় কমিটি ও এসসিআরএফের বিজ্ঞপ্তিতে এই সমস্যা সমাধানের জন্য চারটি সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে: ১. নগর পরিবহনের সকল বাসে নারী-শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নয়টি আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

২. সকল বাসে চালক ও কন্ডাক্টরের পাশাপাশি একজন হেলপার নিয়োগ নিশ্চিত করা। ৩. চালক কিংবা কন্ডাক্টরের কাছে দিন চুক্তিতে গাড়ি ভাড়া প্রথা বন্ধ করা। ৪. সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া মাঝপথে গাড়ি থামানো এবং যাত্রী ওঠানামা করানো কঠোরভাবে প্রতিহত করা। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, ঢাকা শহরের লোকাল বাসগুলো নিয়মনীতির তোয়াক্কা ছাড়াই চলাচল করছে।

বাসমালিকদের যাত্রীসেবার চেয়ে মুনাফার দিকেই নজর বেশি। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার দাবি করেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সাফল্যের এক যুগে নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতি, ছিল সাবেক-বর্তমানদের পুনর্মিলনী

ঢাকার বাস নারী-শিশু ও প্রবীণদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

Update Time : 09:29:53 pm, Sunday, 11 October 2026

নারীসহ শিশু, প্রতিবন্ধি ও প্রবীণ নাগরিকদের জন্য রাজধানী ঢাকার নগর পরিবহন বাসগুলোতে চলাচল চরম বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক। একইসঙ্গে এসব বাসে চলাচল তাদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআর) ও শিপিং এ্যান্ড কমিউনিকেশন রিপোর্টার্স ফোরামের (এসসিআরএফ) যৌথ পর্যবেক্ষণে এমন চিত্র দেখা গেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এক মাস পর্যবেক্ষণকালে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন রুটের অর্ধশতাধিক বাস পরিদর্শন এবং যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধি ও মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রবীণ ব্যক্তিদের জন্য প্রত্যেক বাসে ৯টি আসন সংরক্ষিত রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। কিছু বাসে সরকারি এই নির্দেশনার কথা লেখা থাকলেও অধিকাংশ বাসে নেই।

তবে কোনো বাসেই সরকারি নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। পর্যবেক্ষণকালে যাত্রীভর্তি লোকাল বাসগুলোর ভিতরে দেখা যায়, সংরক্ষিত আসনগুলোতে পুরুষ যাত্রীরা বসে আছেন। আর নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণ যাত্রীরা দাঁড়িয়ে আছেন। এতে তারা দুর্ভোগের পাশাপাশি চরম অস্বস্তি ভোগ করেন। ঢাকার নগর পরিবহন সার্ভিসের লোকাল বাসগুলোতে চলাচলে আরেকটি বড় সমস্যা হচ্ছে হেলপার (চালকের সহকারি) না থাকা।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এ ধরনের ৮০ শতাংশ বাসে হেলপার নেই। একজন চালক মালিকের কাছ থেকে দিনচুক্তিতে বাস ভাড়া নেন। তিনি একজন কন্ডাক্টর যোগাড় করে তাকে নিয়ে সড়কে বাস চালান। তারা দু’জন দিন শেষে মালিকের পাওনা পরিশোধ করে বাকি টাকা নিজেরা ভাগ করে নেন। খরচ কমানোর জন্য তারা হেলপার রাখেন না। পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কন্ডাক্টর প্রতি স্টপেজে ও রাস্তায় যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করিয়ে তড়িঘড়ি করে যাত্রী তোলেন ও নামান।

বাকি সময় তিনি বাসের ভেতরে ভাড়া আদায়ে ব্যস্ত থাকেন। এ কারণে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ও প্রবীণদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে গাড়িতে ওঠানামা করতে হয়। বিশেষ করে গাড়ি থেকে নামার সময় ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে এবং প্রায় প্রতিদিন ছোট ছোট দুর্ঘটনা ঘটে। জাতীয় কমিটি ও এসসিআরএফের বিজ্ঞপ্তিতে এই সমস্যা সমাধানের জন্য চারটি সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে: ১. নগর পরিবহনের সকল বাসে নারী-শিশু ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নয়টি আসন সংরক্ষণ নিশ্চিত করা।

২. সকল বাসে চালক ও কন্ডাক্টরের পাশাপাশি একজন হেলপার নিয়োগ নিশ্চিত করা। ৩. চালক কিংবা কন্ডাক্টরের কাছে দিন চুক্তিতে গাড়ি ভাড়া প্রথা বন্ধ করা। ৪. সিটি কর্পোরেশন নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া মাঝপথে গাড়ি থামানো এবং যাত্রী ওঠানামা করানো কঠোরভাবে প্রতিহত করা। নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, ঢাকা শহরের লোকাল বাসগুলো নিয়মনীতির তোয়াক্কা ছাড়াই চলাচল করছে।

বাসমালিকদের যাত্রীসেবার চেয়ে মুনাফার দিকেই নজর বেশি। এসব অনিয়ম প্রতিরোধে অবিলম্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার দাবি করেন তিনি।