আজ বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২২ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৬%

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:59:17 am, Tuesday, 6 October 2026
  • 19

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বৃষ্টিনির্ভর আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করে বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকেরা। এবারে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে উঁচু-নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় হালচাষ করে নিশ্চিন্তায় আমন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছিলেন আমন চাষিরা।

তবে গত বছর একই সময়ে বৃষ্টির পানির অভাবে সেচ দিয়ে আমন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতে হয়েছে। এতে করে অনেক ব্যয় হয়েছিল কৃষকদের। এবারের চিত্র বৃষ্টিনির্ভর আমন চাষ বৃষ্টির পানি দিয়ে সম্পন্ন করতে পেরে কৃষকেরা অনেক খুশি। এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় জমিতে চারা লাগানো সম্পন্ন করে বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০০ হেক্টর।

অর্জিত হয়েছে ৩২০১ হেক্টর জমি। আমনের ফলন উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০১৮৩ টন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩২০০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে, ৪৪৬৫ হেক্টর। ফলন ১৪২৮৮ টন। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়নি। এবারে মাঠে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কৃষকদের রোপা আমনের চারা রোপণ করতে কোনো সমস্যা হয়নি।

সরেজমিন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জমিতে বৃষ্টির পানি দিয়ে আমন চাষের জন্য মাঠে মাঠে আগাছা পরিষ্কার, জমি প্রস্তত, বীজতলা থেকে ধানের চারা উঠানো ও জমিতে চারা রোপণে ব্যস্ততার পর আগাছা পরিষ্কারসহ বেশি ফলনের আশায় ব্যস্ত সময় করেছেন কৃষকেরা। চাষিরা জানান, বৃষ্টিনির্ভর রোপা আমন চাষ শুরুতেই বৃষ্টির পানি পাওয়ায় এবারে সেচ খরচ থেকে রেহাই পেয়েছে।

তবে ভালো ফলন ভালো দাম এবং রোগ বালাই না হলে কিছুটা লাভবান হওয়া যাবে। গয়হাটা ইউনিয়নের ঘিওরকোল গ্রামের রফিকুল ইসলাম রিপন(৩৫) বলেন, এবারে বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন চাষ করতে পেরে অনেক আশার সঞ্চার দেখতে পাচ্ছি। ২০০ শতক জমিতে আমনের চাষ করেছি। এতে প্রায় খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। কোনো রকমের রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রান্ত না হলে, ফলন ও দাম ভালো হলে খরচের টাকা উঠে আসবে বলে জানান তিনি।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রোপা আমন চাষিসহ অনেকে বলেন, এবারে শুরু থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় উঁচু নিচু জমিতে চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। সময়মতো রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করতে পারায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম রাশেদুল হাসান জানান, উপজেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্য মাত্রা বেশি অর্জিত হয়েছে।

এবারে শুরু থেকেই বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলে জমিতে পানি জমে থাকায় উঁচু নিচু এলাকায় আমন চাষ হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে অতিশীঘ্রই লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, সময়মত আমন চাষের ফলে পরবর্তীতে রবি শস্যের চাষাবাদ সময় মত হবে। ফলে সবজিতে স্থানীয় চাহিদার কিছুটা ঘাটতি পূরন করা সম্ভব হবে জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আজ উদযাপিত হচ্ছে ‘পুলিশের সঙ্গে এক কাপ কফি খাওয়ার দিন’

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের

Update Time : 10:59:17 am, Tuesday, 6 October 2026

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বৃষ্টিনির্ভর আমন চাষে ব্যস্ত সময় পার করে বাম্পার ফলনের আশায় কৃষকেরা। এবারে টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে উঁচু-নিচু জমিতে পানি জমে থাকায় হালচাষ করে নিশ্চিন্তায় আমন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছিলেন আমন চাষিরা।

তবে গত বছর একই সময়ে বৃষ্টির পানির অভাবে সেচ দিয়ে আমন চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করতে হয়েছে। এতে করে অনেক ব্যয় হয়েছিল কৃষকদের। এবারের চিত্র বৃষ্টিনির্ভর আমন চাষ বৃষ্টির পানি দিয়ে সম্পন্ন করতে পেরে কৃষকেরা অনেক খুশি। এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় জমিতে চারা লাগানো সম্পন্ন করে বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নে চলতি মৌসুমে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০০০ হেক্টর।

অর্জিত হয়েছে ৩২০১ হেক্টর জমি। আমনের ফলন উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০১৮৩ টন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৩২০০ হেক্টর। অর্জিত হয়েছে, ৪৪৬৫ হেক্টর। ফলন ১৪২৮৮ টন। এ ছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে উপজেলায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনা মূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়নি। এবারে মাঠে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কৃষকদের রোপা আমনের চারা রোপণ করতে কোনো সমস্যা হয়নি।

সরেজমিন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জমিতে বৃষ্টির পানি দিয়ে আমন চাষের জন্য মাঠে মাঠে আগাছা পরিষ্কার, জমি প্রস্তত, বীজতলা থেকে ধানের চারা উঠানো ও জমিতে চারা রোপণে ব্যস্ততার পর আগাছা পরিষ্কারসহ বেশি ফলনের আশায় ব্যস্ত সময় করেছেন কৃষকেরা। চাষিরা জানান, বৃষ্টিনির্ভর রোপা আমন চাষ শুরুতেই বৃষ্টির পানি পাওয়ায় এবারে সেচ খরচ থেকে রেহাই পেয়েছে।

তবে ভালো ফলন ভালো দাম এবং রোগ বালাই না হলে কিছুটা লাভবান হওয়া যাবে। গয়হাটা ইউনিয়নের ঘিওরকোল গ্রামের রফিকুল ইসলাম রিপন(৩৫) বলেন, এবারে বৃষ্টির পানিতে রোপা আমন চাষ করতে পেরে অনেক আশার সঞ্চার দেখতে পাচ্ছি। ২০০ শতক জমিতে আমনের চাষ করেছি। এতে প্রায় খরচ হয়েছে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা। কোনো রকমের রোগবালাই ও পোকামাকড় আক্রান্ত না হলে, ফলন ও দাম ভালো হলে খরচের টাকা উঠে আসবে বলে জানান তিনি।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার রোপা আমন চাষিসহ অনেকে বলেন, এবারে শুরু থেকেই পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় উঁচু নিচু জমিতে চারা রোপণ করা সম্ভব হয়েছে। সময়মতো রোপা আমন ধানের চারা রোপণ করতে পারায় ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম রাশেদুল হাসান জানান, উপজেলায় রোপা আমন চাষের লক্ষ্য মাত্রা বেশি অর্জিত হয়েছে।

এবারে শুরু থেকেই বৃষ্টিপাত হওয়ায় ফলে জমিতে পানি জমে থাকায় উঁচু নিচু এলাকায় আমন চাষ হয়েছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে অতিশীঘ্রই লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। এ ছাড়া তিনি আরও বলেন, সময়মত আমন চাষের ফলে পরবর্তীতে রবি শস্যের চাষাবাদ সময় মত হবে। ফলে সবজিতে স্থানীয় চাহিদার কিছুটা ঘাটতি পূরন করা সম্ভব হবে জানান তিনি।