আজ শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩৫%

এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জপদক হারালে বাংলাদেশ, ১০২ রানে অলআউট

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:24:13 am, Saturday, 3 October 2026
  • 12

এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জপদক হারালে বাংলাদেশ, ১০২ রানে অলআউট

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নাগোয়ার গ্যালারিতে বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে অনেক আশা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় তাদের হতাশ করেছে লিটন দাসের দল। তুলনামূলক অনভিজ্ঞ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১০২ রানেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

এতে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকও হাতছাড়া হয়েছে টাইগারদের। এই প্রথম এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে কোনো পদক ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারায় দলটি। দুজনই ফেরেন কোনো রান না করে। অধিনায়ক লিটন দাসও ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন।

আগের ম্যাচে মাত্র ২ রান করা লিটন শনিবারের ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক নিয়ে মাঠ ছাড়েন। শ্রীলঙ্কার দলে জাতীয় পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিনিয়র ক্রিকেটার খুব বেশি ছিলেন না। অথচ শুরুতে ২১ রানে ৪ উইকেট হারিয়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা সংগ্রহ করে ১৬৫ রান। বিপরীতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটাররা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেননি।

চারজন ব্যাটার কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। বাজে শট খেলে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে দলটি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন নয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা নাসুম আহমেদ। ইয়াসির আলী রাব্বি ২১ এবং পারভেজ হোসেন ইমন করেন ২০ রান। বাকিরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে না পারায় ১৭.৩ ওভারেই ১০২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শ্রীলঙ্কার হয়ে নুয়ান থুসারা, থারিন্দু রত্ননায়েকে, বিজয়াকান্ত বিয়াসকান্ত ও ওয়ানুজা সাহান দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া শ্রীলঙ্কাও শুরুতে চাপে পড়েছিল। বাংলাদেশের দুই প্রান্ত থেকে স্পিন আক্রমণে প্রথম চার ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারায় তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে সুযোগ না পাওয়া রহস্যময় স্পিনার আলিস আল ইসলাম এদিন কার্যকর বোলিং করেন। প্রথম স্পেলে তিন ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন তিনি।

১৮ বলের মধ্যে ১২টি বলই ছিল ডট। আগের ম্যাচে স্পিনার সাইফ হাসানকে বোলিংয়ে ব্যবহার না করলেও এদিন তার হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক লিটন। তবে প্রথম স্পেলে দুই ওভারে ১৮ রান দেন সাইফ। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন শেখ মেহেদী হাসান। চার ওভার বল করে মাত্র ১৯ রানের বিনিময়ে দুটি উইকেট তুলে নেন তিনি। ১৩ ওভার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাকে চাপে রাখতে সক্ষম হয়েছিল বাংলাদেশ।

তবে বল কিছুটা পুরোনো হওয়ার পর ১৪তম ওভারে অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনেন লিটন। সেই ওভারেই ২৫ রান তুলে নেন লঙ্কান ব্যাটাররা। ওভারের প্রথম দুই বলেই চার মারেন তারা। এরপর সাহান আরচিগে ও থারিন্দু রত্ননায়েকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রান বাড়াতে থাকেন। দুই ওভার বিরতি দিয়ে মুস্তাফিজকে আবার বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক। দ্বিতীয় ওভারে তিনি দেন ১১ রান।

অন্যদিকে নিজের শেষ ওভারে রিশাদ হোসেন খরচ করেন ২১ রান। ফলে ১৩ থেকে ১৮ ওভারের মধ্যে ৮৩ রান তুলে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করে শ্রীলঙ্কা। ১৮ ওভার শেষে পাঁচ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ১৪৭ রান। নিজের তৃতীয় ওভারে ফিরে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন মুস্তাফিজ। ওই ওভারের প্রথম বলেই ৩২ বলে ৬৫ রান করা থারিন্দু রত্ননায়েকেকে আউট করেন তিনি।

একই ওভারে আরও একটি উইকেট নিয়ে মাত্র ৭ রান খরচ করেন এই বাঁহাতি পেসার। শেষ ওভারে সাইফ হাসান আরও দুটি উইকেট তুলে নিলে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানে ইনিংস শেষ করে শ্রীলঙ্কা। তবে বোলারদের লড়াইয়ের পরও ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জ পদকও জেতা হয়নি লিটন দাসদের।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ইবির কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ১০০ নম্বরের ইন্ডাস্ট্রি-রিলেটেড কোর্স: উপাচার্য

এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জপদক হারালে বাংলাদেশ, ১০২ রানে অলআউট

Update Time : 11:24:13 am, Saturday, 3 October 2026

নাগোয়ার গ্যালারিতে বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে অনেক আশা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। কিন্তু ব্যাটিং ব্যর্থতায় তাদের হতাশ করেছে লিটন দাসের দল। তুলনামূলক অনভিজ্ঞ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১০২ রানেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

এতে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে ব্রোঞ্জ পদকও হাতছাড়া হয়েছে টাইগারদের। এই প্রথম এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে কোনো পদক ছাড়াই ফিরতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনারকে হারায় দলটি। দুজনই ফেরেন কোনো রান না করে। অধিনায়ক লিটন দাসও ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন।

আগের ম্যাচে মাত্র ২ রান করা লিটন শনিবারের ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে গোল্ডেন ডাক নিয়ে মাঠ ছাড়েন। শ্রীলঙ্কার দলে জাতীয় পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিনিয়র ক্রিকেটার খুব বেশি ছিলেন না। অথচ শুরুতে ২১ রানে ৪ উইকেট হারিয়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে তারা সংগ্রহ করে ১৬৫ রান। বিপরীতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটাররা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে পারেননি।

চারজন ব্যাটার কোনো রান না করেই সাজঘরে ফেরেন। বাজে শট খেলে একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে দলটি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন নয় নম্বরে ব্যাট করতে নামা নাসুম আহমেদ। ইয়াসির আলী রাব্বি ২১ এবং পারভেজ হোসেন ইমন করেন ২০ রান। বাকিরা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে না পারায় ১৭.৩ ওভারেই ১০২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শ্রীলঙ্কার হয়ে নুয়ান থুসারা, থারিন্দু রত্ননায়েকে, বিজয়াকান্ত বিয়াসকান্ত ও ওয়ানুজা সাহান দুটি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া শ্রীলঙ্কাও শুরুতে চাপে পড়েছিল। বাংলাদেশের দুই প্রান্ত থেকে স্পিন আক্রমণে প্রথম চার ওভারের মধ্যেই চার উইকেট হারায় তারা। পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচে সুযোগ না পাওয়া রহস্যময় স্পিনার আলিস আল ইসলাম এদিন কার্যকর বোলিং করেন। প্রথম স্পেলে তিন ওভার হাত ঘুরিয়ে মাত্র ৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন তিনি।

১৮ বলের মধ্যে ১২টি বলই ছিল ডট। আগের ম্যাচে স্পিনার সাইফ হাসানকে বোলিংয়ে ব্যবহার না করলেও এদিন তার হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক লিটন। তবে প্রথম স্পেলে দুই ওভারে ১৮ রান দেন সাইফ। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন শেখ মেহেদী হাসান। চার ওভার বল করে মাত্র ১৯ রানের বিনিময়ে দুটি উইকেট তুলে নেন তিনি। ১৩ ওভার পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাকে চাপে রাখতে সক্ষম হয়েছিল বাংলাদেশ।

তবে বল কিছুটা পুরোনো হওয়ার পর ১৪তম ওভারে অভিজ্ঞ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আক্রমণে আনেন লিটন। সেই ওভারেই ২৫ রান তুলে নেন লঙ্কান ব্যাটাররা। ওভারের প্রথম দুই বলেই চার মারেন তারা। এরপর সাহান আরচিগে ও থারিন্দু রত্ননায়েকে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে রান বাড়াতে থাকেন। দুই ওভার বিরতি দিয়ে মুস্তাফিজকে আবার বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক। দ্বিতীয় ওভারে তিনি দেন ১১ রান।

অন্যদিকে নিজের শেষ ওভারে রিশাদ হোসেন খরচ করেন ২১ রান। ফলে ১৩ থেকে ১৮ ওভারের মধ্যে ৮৩ রান তুলে ম্যাচে শক্ত অবস্থান তৈরি করে শ্রীলঙ্কা। ১৮ ওভার শেষে পাঁচ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ১৪৭ রান। নিজের তৃতীয় ওভারে ফিরে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন মুস্তাফিজ। ওই ওভারের প্রথম বলেই ৩২ বলে ৬৫ রান করা থারিন্দু রত্ননায়েকেকে আউট করেন তিনি।

একই ওভারে আরও একটি উইকেট নিয়ে মাত্র ৭ রান খরচ করেন এই বাঁহাতি পেসার। শেষ ওভারে সাইফ হাসান আরও দুটি উইকেট তুলে নিলে ৯ উইকেটে ১৬৫ রানে ইনিংস শেষ করে শ্রীলঙ্কা। তবে বোলারদের লড়াইয়ের পরও ব্যাটারদের চরম ব্যর্থতায় লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জ পদকও জেতা হয়নি লিটন দাসদের।