আজ শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২০ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩৫%

গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে ২০২৬ সালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:48:47 pm, Saturday, 3 October 2026
  • 9

গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে ২০২৬ সালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মানবজাতির সেবায় জীবন উৎসর্গ, রোগীর স্বাস্থ্য ও মঙ্গলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং রোগীর মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে ২০২৬ সালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের লেকচার গ্যালারি-১-এ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ড্যাবের উপদেষ্টা ও এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম; শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জোবাইদা সুলতানা পিন্ডপাল; ডা. মোহাম্মদ আলী আকবর পোলান, ড্রেকার (ডেন্টাল), ওজিএইচএস ও ড্যাব গাজীপুরের কনভেনর; শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ড্রেকার ডা. মো. আমিনুল ইসলাম এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর (অর্থো) ডা. মো. কামরুল ইসলাম কামাল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ও ইন্টার্ন কো-অর্ডিনেটর (টিএ-৮ ব্যাচ) ডা. মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। অনুষ্ঠানে নতুন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের স্বাগত জানিয়ে চিকিৎসা পেশার দায়িত্ব, নৈতিকতা, রোগীর অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রোগীর জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সহমর্মিতা, সততা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পর্বে নতুন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ‘চিকিৎসা নীতিশাস্ত্রের ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন। এতে তারা মানবজাতির সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন। রোগীর স্বাস্থ্য ও মঙ্গলকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করা, রোগীর স্বায়ত্তশাসন ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখানো এবং মানবজীবনের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন তারা।

ঘোষণাপত্রে চিকিৎসকেরা হাত তুলে প্রতিশ্রুতি দেন, বয়স, রোগ বা অক্ষমতা, ধর্মবিশ্বাস, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ, জাতীয়তা, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, বর্ণ, যৌন অভিমুখিতা, সামাজিক অবস্থান কিংবা অন্য কোনো বিষয়কে তাদের পেশাগত দায়িত্ব ও রোগীর মাঝে হস্তক্ষেপ করতে দেবেন না। তারা চিকিৎসকের কাছে অর্পিত গোপনীয় বিষয় রোগীর মৃত্যুর পরও সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ এবং বিবেক ও মর্যাদার সঙ্গে উত্তম চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে পেশা পরিচালনার অঙ্গীকার করেন।

একই সঙ্গে চিকিৎসা পেশার সম্মান ও মহৎ ঐতিহ্যকে লালন এবং শিক্ষক, সহকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের প্রাপ্য সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন। রোগীর কল্যাণ ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির জন্য চিকিৎসাজ্ঞান ভাগ করে নেওয়া, রোগীর নিরাপত্তা কোনো কারণে বিঘ্নিত হলে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সর্বোচ্চ মানের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও সামর্থ্যের প্রতিও যত্নশীল থাকার অঙ্গীকার করেন তারা।

এ ছাড়া চিকিৎসাজ্ঞান ব্যবহার করে মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা লঙ্ঘন না করার প্রতিশ্রুতিও দেন নতুন চিকিৎসকেরা- এমনকি হুমকির মুখেও। সবশেষে তারা এসব প্রতিশ্রুতি আন্তরিকভাবে, স্বেচ্ছায় এবং নিজেদের সম্মানের ওপর রেখে পালনের অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানে চিকিৎসা পেশার নৈতিকতার আন্তর্জাতিক দলিল ‘জেনেভা ঘোষণাপত্র’ সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।

১৯৪৮ সালে জেনেভায় বিশ্ব চিকিৎসা সংস্থার সাধারণ পরিষদ এ ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। পরে ১৯৬৮, ১৯৮৩ ও ১৯৯৪ সালে এটি সংশোধন করা হয়। ২০০৫ ও ২০০৬ সালে সম্পাদকীয়ভাবে পরিমার্জনের পর ২০১৭ সালে পুনরায় সংশোধন করা হয়। বক্তারা বলেন, ইন্টার্নশিপ চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এ সময়ে তারা একদিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অর্জিত জ্ঞান বাস্তব রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োগের সুযোগ পান, অন্যদিকে রোগীর সঙ্গে মানবিক আচরণ, পেশাগত দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

তাই দক্ষ চিকিৎসকের পাশাপাশি মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে নতুন চিকিৎসকদের উদ্দেশে রোগীর আস্থা, মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় নিজেদের জ্ঞান, মেধা ও সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে চিকিৎসা পেশার মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

কঠোর নিরাপত্তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছাল ইউরেনিয়াম

গাজীপুরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে ২০২৬ সালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন

Update Time : 12:48:47 pm, Saturday, 3 October 2026

মানবজাতির সেবায় জীবন উৎসর্গ, রোগীর স্বাস্থ্য ও মঙ্গলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং রোগীর মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে ২০২৬ সালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের লেকচার গ্যালারি-১-এ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।

বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ড্যাবের উপদেষ্টা ও এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য ডা. মাজহারুল আলম; শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অবস অ্যান্ড গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. জোবাইদা সুলতানা পিন্ডপাল; ডা. মোহাম্মদ আলী আকবর পোলান, ড্রেকার (ডেন্টাল), ওজিএইচএস ও ড্যাব গাজীপুরের কনভেনর; শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ড্রেকার ডা. মো. আমিনুল ইসলাম এবং শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর (অর্থো) ডা. মো. কামরুল ইসলাম কামাল।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ও ইন্টার্ন কো-অর্ডিনেটর (টিএ-৮ ব্যাচ) ডা. মোহাম্মদ খলিলুর রহমান। অনুষ্ঠানে নতুন ইন্টার্ন চিকিৎসকদের স্বাগত জানিয়ে চিকিৎসা পেশার দায়িত্ব, নৈতিকতা, রোগীর অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রোগীর জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সহমর্মিতা, সততা ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পর্বে নতুন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা ‘চিকিৎসা নীতিশাস্ত্রের ঘোষণাপত্র’ পাঠ করেন। এতে তারা মানবজাতির সেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন। রোগীর স্বাস্থ্য ও মঙ্গলকে সর্বাগ্রে বিবেচনা করা, রোগীর স্বায়ত্তশাসন ও মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখানো এবং মানবজীবনের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান বজায় রাখার অঙ্গীকার করেন তারা।

ঘোষণাপত্রে চিকিৎসকেরা হাত তুলে প্রতিশ্রুতি দেন, বয়স, রোগ বা অক্ষমতা, ধর্মবিশ্বাস, জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গ, জাতীয়তা, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, বর্ণ, যৌন অভিমুখিতা, সামাজিক অবস্থান কিংবা অন্য কোনো বিষয়কে তাদের পেশাগত দায়িত্ব ও রোগীর মাঝে হস্তক্ষেপ করতে দেবেন না। তারা চিকিৎসকের কাছে অর্পিত গোপনীয় বিষয় রোগীর মৃত্যুর পরও সম্মানের সঙ্গে সংরক্ষণ এবং বিবেক ও মর্যাদার সঙ্গে উত্তম চিকিৎসা পদ্ধতি অনুসরণ করে পেশা পরিচালনার অঙ্গীকার করেন।

একই সঙ্গে চিকিৎসা পেশার সম্মান ও মহৎ ঐতিহ্যকে লালন এবং শিক্ষক, সহকর্মী ও ছাত্রছাত্রীদের প্রাপ্য সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানানোর প্রতিশ্রুতি দেন। রোগীর কল্যাণ ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতির জন্য চিকিৎসাজ্ঞান ভাগ করে নেওয়া, রোগীর নিরাপত্তা কোনো কারণে বিঘ্নিত হলে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সর্বোচ্চ মানের সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে নিজেদের স্বাস্থ্য, সুস্থতা ও সামর্থ্যের প্রতিও যত্নশীল থাকার অঙ্গীকার করেন তারা।

এ ছাড়া চিকিৎসাজ্ঞান ব্যবহার করে মানবাধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা লঙ্ঘন না করার প্রতিশ্রুতিও দেন নতুন চিকিৎসকেরা- এমনকি হুমকির মুখেও। সবশেষে তারা এসব প্রতিশ্রুতি আন্তরিকভাবে, স্বেচ্ছায় এবং নিজেদের সম্মানের ওপর রেখে পালনের অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানে চিকিৎসা পেশার নৈতিকতার আন্তর্জাতিক দলিল ‘জেনেভা ঘোষণাপত্র’ সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।

১৯৪৮ সালে জেনেভায় বিশ্ব চিকিৎসা সংস্থার সাধারণ পরিষদ এ ঘোষণাপত্র গ্রহণ করে। পরে ১৯৬৮, ১৯৮৩ ও ১৯৯৪ সালে এটি সংশোধন করা হয়। ২০০৫ ও ২০০৬ সালে সম্পাদকীয়ভাবে পরিমার্জনের পর ২০১৭ সালে পুনরায় সংশোধন করা হয়। বক্তারা বলেন, ইন্টার্নশিপ চিকিৎসকদের পেশাগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এ সময়ে তারা একদিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের অর্জিত জ্ঞান বাস্তব রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োগের সুযোগ পান, অন্যদিকে রোগীর সঙ্গে মানবিক আচরণ, পেশাগত দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

তাই দক্ষ চিকিৎসকের পাশাপাশি মানবিক ও নীতিনিষ্ঠ চিকিৎসক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অনুষ্ঠানে নতুন চিকিৎসকদের উদ্দেশে রোগীর আস্থা, মর্যাদা ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়। মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় নিজেদের জ্ঞান, মেধা ও সামর্থ্য কাজে লাগিয়ে চিকিৎসা পেশার মর্যাদা সমুন্নত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।