আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮১%

বেতন-ভাতার বাইরেও রাষ্ট্রপতি যেসব রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:50:05 pm, Saturday, 22 August 2026
  • 92

বেতন-ভাতার বাইরেও রাষ্ট্রপতি যেসব রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার পর তার বেতন, ভাতা, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ বেতন আয়করমুক্ত। তবে বেতনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি সরকারি বাসভবন, গাড়ি ও পরিবহন, চিকিৎসা, বিদেশ সফর, আপ্যায়ন এবং বিমানভ্রমণসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা পেয়ে থাকেন।

সরকারি বাসভবন ও গাড়ি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। এর রক্ষণাবেক্ষণ, সাজসজ্জা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতি সরকারি গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধা পান। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে। বছরে ২ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল রাষ্ট্রপতির জন্য স্বেচ্ছাধীন তহবিলের ব্যবস্থা রয়েছে।

এ তহবিলে বছরে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার জন্য এ অর্থ ব্যয় করা যায়। রাষ্ট্রপতি ও পরিবারের বিনামূল্যে চিকিৎসা রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। দেশের যেকোনো হাসপাতালে তারা বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করার বিধান রয়েছে।

বিমানভ্রমণে বছরে ২৭ লাখ টাকা রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্যও বিশেষ আর্থিক সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে এ সুবিধার পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এ সুবিধা ছিল ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসিক বেতনের বাইরে রাষ্ট্রপতির জন্য সরকারি বাসভবন, গাড়ি ও পরিবহন, চিকিৎসা, বিদেশ সফর, আপ্যায়ন ও বিমানভ্রমণসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে।

সাংবিধানিক ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপতির আর্থিক ও রাষ্ট্রীয় সুবিধার পাশাপাশি তার সাংবিধানিক ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বাধ্য নন। এগুলো হলো প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে সাধারণত ওই দলের সংসদীয় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি।

তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দণ্ড মার্জনা ও মওকুফের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হলো দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।

রয়েছে সাংবিধানিক দায়মুক্তি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে। তার কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তাকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না। তবে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের বাইরে নন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাকে অভিশংসন করা যেতে পারে।

শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে। অভিশংসনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয় এবং রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। এরপর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর।

তবে উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ পরপর দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু

বেতন-ভাতার বাইরেও রাষ্ট্রপতি যেসব রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান

Update Time : 06:50:05 pm, Saturday, 22 August 2026

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ার পর তার বেতন, ভাতা, রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

‘দ্য প্রেসিডেন্টস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (সংশোধন) অ্যাক্ট’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হয়। বর্তমানে রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ বেতন আয়করমুক্ত। তবে বেতনের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি সরকারি বাসভবন, গাড়ি ও পরিবহন, চিকিৎসা, বিদেশ সফর, আপ্যায়ন এবং বিমানভ্রমণসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা পেয়ে থাকেন।

সরকারি বাসভবন ও গাড়ি রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন। এর রক্ষণাবেক্ষণ, সাজসজ্জা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বহন করা হয়। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের জন্য রাষ্ট্রপতি সরকারি গাড়ি ও প্রয়োজনীয় পরিবহন সুবিধা পান। বিদেশ সফরের ক্ষেত্রেও সরকার নির্ধারিত হারে ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে। বছরে ২ কোটি টাকার স্বেচ্ছাধীন তহবিল রাষ্ট্রপতির জন্য স্বেচ্ছাধীন তহবিলের ব্যবস্থা রয়েছে।

এ তহবিলে বছরে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। রাষ্ট্রপতির বিবেচনায় বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা দেওয়ার জন্য এ অর্থ ব্যয় করা যায়। রাষ্ট্রপতি ও পরিবারের বিনামূল্যে চিকিৎসা রাষ্ট্রপতি ও তার পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। দেশের যেকোনো হাসপাতালে তারা বিনা মূল্যে চিকিৎসা নিতে পারেন। চিকিৎসকের পরামর্শে বিদেশে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও সরকার বহন করার বিধান রয়েছে।

বিমানভ্রমণে বছরে ২৭ লাখ টাকা রাষ্ট্রপতির বিমানভ্রমণের জন্যও বিশেষ আর্থিক সুবিধা রয়েছে। বর্তমানে এ সুবিধার পরিমাণ বছরে ২৭ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের আগে এ সুবিধা ছিল ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাসিক বেতনের বাইরে রাষ্ট্রপতির জন্য সরকারি বাসভবন, গাড়ি ও পরিবহন, চিকিৎসা, বিদেশ সফর, আপ্যায়ন ও বিমানভ্রমণসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা নির্ধারিত রয়েছে।

সাংবিধানিক ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রপতির আর্থিক ও রাষ্ট্রীয় সুবিধার পাশাপাশি তার সাংবিধানিক ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, দুটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে বাধ্য নন। এগুলো হলো প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে সাধারণত ওই দলের সংসদীয় দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন রাষ্ট্রপতি।

তবে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দণ্ড মার্জনা ও মওকুফের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হলো দণ্ড মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করা। সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া দণ্ড রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে মার্জনা, স্থগিত, হ্রাস বা মওকুফ করতে পারেন।

রয়েছে সাংবিধানিক দায়মুক্তি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে। তার কার্যকাল চলাকালে তার বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না। তাকে গ্রেপ্তার বা কারাগারে পাঠানোর জন্য আদালত থেকে পরোয়ানাও জারি করা যায় না। তবে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণভাবে অপসারণের বাইরে নন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় তাকে অভিশংসন করা যেতে পারে।

শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে। অভিশংসনের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ স্পিকারের কাছে জমা দিতে হয় এবং রাষ্ট্রপতিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। এরপর সংসদের মোট সদস্যের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর।

তবে উত্তরাধিকারী দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকেন। একই ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে আবদুল হামিদ পরপর দুই মেয়াদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।