আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৯%

লোডশেডিংয়ে বাড়ছে জনরোষ, পুলিশি নিরাপত্তা চেয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:01:54 pm, Wednesday, 12 August 2026
  • 54

লোডশেডিংয়ে বাড়ছে জনরোষ, পুলিশি নিরাপত্তা চেয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে সারাদেশে চলছে লোডশেডিং। গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা পৌঁছেছে প্রায় অসহনীয় পর্যায়ে। যার কারণে বাড়ছে জনরোষ। অতিরিক্ত লোডশেডিং থেকে বাঁচতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছেন।

ফলে উপকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) দেওয়া এক চিঠিতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ এসোসিয়েশন (বাপবিএ)।

চিঠিতে বাপবিএর দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারাদেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জনরোষ বাড়ছে এবং কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিস হামলার শিকার হচ্ছে।

বাপবিএ জানায়, দেশের প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুতের আওতায়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করে। চিঠিতে আরও বলা হয়, গত কয়েকদিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট।

ফলে কোথাও কোথাও প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আইজিপির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাপবিএ।

চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের একান্ত সচিব, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, সারাদেশে লোডশোডিং হচ্ছে।

এজন্য নিরাপত্তাজনিত কারনে আমরা পুলিশকে চিঠি দিয়েছি। কেপিআই স্থাপনায় হামলা হলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হয়ে যাবে। এ পরিস্থিতিতে আমরাও সমিতির পক্ষ থেকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করছি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার

লোডশেডিংয়ে বাড়ছে জনরোষ, পুলিশি নিরাপত্তা চেয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ

Update Time : 09:01:54 pm, Wednesday, 12 August 2026

জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণে সারাদেশে চলছে লোডশেডিং। গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মাত্রা পৌঁছেছে প্রায় অসহনীয় পর্যায়ে। যার কারণে বাড়ছে জনরোষ। অতিরিক্ত লোডশেডিং থেকে বাঁচতে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছেন।

ফলে উপকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বুধবার (১২ আগস্ট) পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) দেওয়া এক চিঠিতে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ এসোসিয়েশন (বাপবিএ)।

চিঠিতে বাপবিএর দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষর করেন। চিঠিতে বলা হয়, দেশে বর্তমানে জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপদাহের কারণে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারাদেশে, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকায় অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে জনরোষ বাড়ছে এবং কিছু কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও অফিস হামলার শিকার হচ্ছে।

বাপবিএ জানায়, দেশের প্রায় ৫ কোটি ২০ লাখ বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি গ্রাহককে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ সেবা দিয়ে থাকে। অর্থাৎ মোট গ্রাহকের প্রায় ৮০ শতাংশ পল্লী বিদ্যুতের আওতায়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; উৎপাদিত বিদ্যুতের বরাদ্দ অনুযায়ী গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করে। চিঠিতে আরও বলা হয়, গত কয়েকদিনে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর গড় চাহিদা প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট।

ফলে কোথাও কোথাও প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশের প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসে নিরাপত্তা জোরদারে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য আইজিপির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বাপবিএ।

চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের একান্ত সচিব, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, সব জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী মনির হোসেন বলেন, সারাদেশে লোডশোডিং হচ্ছে।

এজন্য নিরাপত্তাজনিত কারনে আমরা পুলিশকে চিঠি দিয়েছি। কেপিআই স্থাপনায় হামলা হলে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি হয়ে যাবে। এ পরিস্থিতিতে আমরাও সমিতির পক্ষ থেকে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করছি।