মোবাইলে পূর্ণ ৪জি নেটওয়ার্ক দেখালেও অনেক সময় ইন্টারনেটের গতি কমে যায়। ওয়েবসাইট খুলতে দেরি হওয়া, ভিডিও বারবার আটকে যাওয়া কিংবা ফাইল ডাউনলোডে বেশি সময় লাগার মতো সমস্যায় পড়তে হয় ব্যবহারকারীদের।
দুর্বল নেটওয়ার্ক সিগন্যাল, মোবাইল ডেটার সীমা শেষ হয়ে যাওয়া, নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ কিংবা ফোনের সেটিংসের ত্রুটির কারণে এমনটা হতে পারে। তবে কিছু সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করে ইন্টারনেট ব্যবহারের অভিজ্ঞতা উন্নত করা সম্ভব। মোবাইলে ৪জি থাকা সত্ত্বেও ইন্টারনেট ধীর হলে যেসব বিষয় পরীক্ষা করা যেতে পারে, সেগুলো হলোÑ ১. এপিএন সেটিংস সঠিক আছে কি না দেখুন এপিএন বা অ্যাকসেস পয়েন্ট নেম হলোÑ মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সেটিংস।
এপিএনের তথ্য ভুল থাকলে ইন্টারনেট সংযোগে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এপিএন যাচাই করতে ফোনের সেটিংস থেকে ‘মোবাইল নেটওয়ার্ক’ বিভাগে গিয়ে ‘অ্যাকসেস পয়েন্ট নেম’ বা ‘এপিএন’ অপশন খুলুন। এরপর অপারেটরের নির্ধারিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন। প্রয়োজনে সঠিক এপিএন নির্বাচন করে ফোন রিস্টার্ট দিয়ে ইন্টারনেটের গতি পরীক্ষা করুন।
তবে পরিবর্তনের আগে অপারেটরের কাছ থেকে সঠিক সেটিংস নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো। ২. নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপের সময় সতর্ক থাকুন দিনের নির্দিষ্ট সময়ে, বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাতের দিকে, অনেক এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় মোবাইল নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। এতে সংযোগ সচল থাকলেও ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে। এমন সমস্যা হলে সম্ভব হলে অন্য সময়ে বড় ফাইল ডাউনলোড করুন।
প্রয়োজন অনুযায়ী ওয়াই-ফাই সংযোগও ব্যবহার করতে পারেন। তবে নির্দিষ্ট সময়ে ইন্টারনেট ধীর হলেই যে নেটওয়ার্কে অতিরিক্ত চাপ রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ৩. ফোনে ৪জি বা এলটিই চালু রাখুন ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংসে ৩জি নির্বাচন করা থাকলে ৪জি নেটওয়ার্কের সুবিধা পাওয়া যাবে না। তাই ফোনে ৪জি সেবা ব্যবহারের সুযোগ থাকলে নেটওয়ার্ক সেটিংস পরীক্ষা করা জরুরি।
এ জন্য সেটিংস থেকে ‘মোবাইল নেটওয়ার্ক’ বা ‘নেটওয়ার্ক’ বিভাগে যান। এরপর ‘প্রেফারড নেটওয়ার্ক টাইপ’ অপশনে গিয়ে ৪জি বা এলটিই নির্বাচন করুন। তবে এ সুবিধা পেতে ফোন ও সিমে ৪জি সমর্থন থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় অপারেটরের ৪জি নেটওয়ার্ক চালু থাকতে হবে। ৪. দুর্বল সিগন্যালের জায়গা পরিবর্তন করুন ঘরের ভেতরে, বেসমেন্টে কিংবা উঁচু ভবনের এমন জায়গায় যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল, সেখানে ইন্টারনেটের গতি কমে যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে জানালার কাছে বা খোলা জায়গায় গিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করে দেখতে পারেন। ফোনে মোটা বা ধাতব কেস থাকলে সেটি খুলে গতি পরীক্ষা করেও দেখতে পারেন। তবে মূল সমস্যা যদি অপারেটরের নেটওয়ার্ক কভারেজে হয়, তাহলে শুধু জায়গা পরিবর্তন করে সব সময় কাক্সিক্ষত গতি পাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। ৫. ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ও সফটওয়্যার পরীক্ষা করুন ফোনে ব্যবহার না করলেও অনেক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিও চালু হওয়া এবং অ্যাপ হালনাগাদের কারণেও মোবাইল ডেটা খরচ হতে পারে। এতে ইন্টারনেটের ওপর চাপ বাড়তে পারে এবং ডেটার পরিমাণ দ্রুত কমে যেতে পারে। এ সমস্যা কমাতে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করুন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও অটোপ্লে সুবিধা নিষ্ক্রিয় রাখুন এবং অ্যাপের স্বয়ংক্রিয় আপডেটের সেটিংস পরীক্ষা করুন।
পাশাপাশি ফোনের সফটওয়্যার হালনাগাদ আছে কি না, সেটিও দেখে নিন। সমস্যা না কমলে যা করবেন উপরের পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করার পরও ইন্টারনেটের গতি স্বাভাবিক না হলে মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। সিমের অবস্থা, নেটওয়ার্ক কভারেজ, ডেটা প্যাকেজের সীমা এবং সংযোগসংক্রান্ত কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে নিতে পারেন।
মনে রাখতে হবে, ফোনে পূর্ণ ৪জি সিগন্যাল দেখালেই সব সময় উচ্চগতির ইন্টারনেট নিশ্চিত হয় না। নেটওয়ার্কের সক্ষমতা, ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং ফোনের সেটিংসসহ বিভিন্ন বিষয় ইন্টারনেটের গতিকে প্রভাবিত করতে পারে।





















