আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৯%

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিতর্কিত মন্তব্য করা ডিসি ইকবাল বরখাস্ত

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:37:22 pm, Wednesday, 12 August 2026
  • 61

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিতর্কিত মন্তব্য করা ডিসি ইকবাল বরখাস্ত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে আলোচনায় আসা পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক এই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর প্রসঙ্গে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। ’ ভিডিওতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে উপস্থিত দেখা যায়।

এ সময় ইকবাল হোসাইন তাদের একটি ভিডিও দেখিয়ে ওই মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ইকবাল হোসাইনকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয় এবং তিনি ২৮ আগস্ট সেখানে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে ওই দিন থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।

বিষয়টিকে সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা এবং আইনানুগ আদেশ অমান্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এটি ‘পলাতক’ হিসেবে গণ্য হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয় এবং একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আনা ‘পলাতকের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

পরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত নিয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

তুরাগ নদী থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিতর্কিত মন্তব্য করা ডিসি ইকবাল বরখাস্ত

Update Time : 07:37:22 pm, Wednesday, 12 August 2026

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে আলোচনায় আসা পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। বুধবার (১২ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের সাবেক এই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে ইকবাল হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তাকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর প্রসঙ্গে বলতে শোনা যায়, ‘গুলি করে করে লাশ নামানো লাগছে স্যার। গুলি করি, মরে একটা, আহত হয় একটা। একটাই যায় স্যার, বাকিডি যায় না। ’ ভিডিওতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে উপস্থিত দেখা যায়।

এ সময় ইকবাল হোসাইন তাদের একটি ভিডিও দেখিয়ে ওই মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট ইকবাল হোসাইনকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে পুলিশ সুপার হিসেবে সংযুক্ত করা হয় এবং তিনি ২৮ আগস্ট সেখানে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে ওই দিন থেকেই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলের মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি।

বিষয়টিকে সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা এবং আইনানুগ আদেশ অমান্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এটি ‘পলাতক’ হিসেবে গণ্য হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয় এবং একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে আনা ‘পলাতকের’ অভিযোগ প্রমাণিত হয়।

পরে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মতামত নিয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে বরখাস্তের গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।