12:13 am, Tuesday, 11 August 2026

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় ৭ জন নিহত ও ৩০ জন আহত

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:54:49 pm, Monday, 10 August 2026
  • 7

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় ৭ জন নিহত ও ৩০ জন আহত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৭ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সামরিক বাহিনীর সদস্য ও তিনজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

লোহিত সাগরের তীরে বন্দরনগরী আল-মোচায় ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দুবার হামলা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল বরাবর সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আক্রমণের পরিধি বাড়াতে শুরু করল বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।

এর আগে এ এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়। হামলায় জড়িত ১১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ হামলায় শহরের অভ্যন্তরে বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ছাড়াও সামরিক অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার মধ্যে আবারও বাড়ছে সংঘাতের আশঙ্কা। হুথিদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সরকারি বাহিনীর বড় ধরনের প্রাণহানির পর পাল্টা সামরিক অভিযানে নেমেছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার। বিশ্লেষকেরা এই পরিস্থিতিকে শুধুই সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না, বরং একে দীর্ঘ সংঘাতকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

শনিবার ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জানান, হুথিদের ঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা এবং রসদ সরবরাহ লাইন লক্ষ্য করে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ইরানের সমর্থিত গোষ্ঠীটি বিদেশি এজেন্ডার অংশ হিসেবে ইয়েমেনকে আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এর আগে গত ৬ আগস্ট হুথিরা মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, সরকারি বাহিনী ওই এলাকায় সামরিক অবকাঠামো তৈরির চেষ্টা করছিল, যার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধু পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং ইয়েমেনের দীর্ঘ সংঘাতকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর দেশটিতে বড় ধরনের লড়াই কমে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের সামরিক প্রস্তুতি এবং উত্তেজনা আবার বেড়েছে।

মারিব ও হাদরামাউত এখন সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মারিবের তেল ও গ্যাস অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের লড়াই ভবিষ্যৎ সংঘাতের মাত্রা নির্ধারণ করতে পারে।

এদিকে সৌদি-সমর্থিত সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হুথিদের যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে হুথিরাও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে শক্ত অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো—সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলা কি আবারও ইয়েমেনকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ঠেলে দেবে? নাকি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নতুন সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে? সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ইউরোপে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে যৌনরোগের সংক্রমণ, কারণ জানাল ইসিডিসি

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় ৭ জন নিহত ও ৩০ জন আহত

Update Time : 10:54:49 pm, Monday, 10 August 2026

ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৭ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন, যাদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সামরিক বাহিনীর সদস্য ও তিনজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

লোহিত সাগরের তীরে বন্দরনগরী আল-মোচায় ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে দুবার হামলা হয়েছে। এর মাধ্যমে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল বরাবর সরকারনিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে আক্রমণের পরিধি বাড়াতে শুরু করল বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।

এর আগে এ এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়। হামলায় জড়িত ১১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ হামলায় শহরের অভ্যন্তরে বেসামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ছাড়াও সামরিক অবস্থানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের অস্থিরতার মধ্যে আবারও বাড়ছে সংঘাতের আশঙ্কা। হুথিদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সরকারি বাহিনীর বড় ধরনের প্রাণহানির পর পাল্টা সামরিক অভিযানে নেমেছে সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকার। বিশ্লেষকেরা এই পরিস্থিতিকে শুধুই সামরিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন না, বরং একে দীর্ঘ সংঘাতকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।

শনিবার ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র জানান, হুথিদের ঘাঁটি, সামরিক স্থাপনা এবং রসদ সরবরাহ লাইন লক্ষ্য করে উত্তরাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ইরানের সমর্থিত গোষ্ঠীটি বিদেশি এজেন্ডার অংশ হিসেবে ইয়েমেনকে আঞ্চলিক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

এর আগে গত ৬ আগস্ট হুথিরা মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে সরকারি বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সংগঠনটির সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, সরকারি বাহিনী ওই এলাকায় সামরিক অবকাঠামো তৈরির চেষ্টা করছিল, যার জবাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা শুধু পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং ইয়েমেনের দীর্ঘ সংঘাতকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর দেশটিতে বড় ধরনের লড়াই কমে এলেও সাম্প্রতিক সময়ে উভয় পক্ষের সামরিক প্রস্তুতি এবং উত্তেজনা আবার বেড়েছে।

মারিব ও হাদরামাউত এখন সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মারিবের তেল ও গ্যাস অঞ্চল নিয়ন্ত্রণের লড়াই ভবিষ্যৎ সংঘাতের মাত্রা নির্ধারণ করতে পারে।

এদিকে সৌদি-সমর্থিত সরকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হুথিদের যেকোনো হামলার জবাব দেওয়া হবে। অন্যদিকে হুথিরাও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে শক্ত অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো—সীমিত পাল্টাপাল্টি হামলা কি আবারও ইয়েমেনকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে ঠেলে দেবে? নাকি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে নতুন সংঘাত এড়ানো সম্ভব হবে? সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।