2:12 am, Wednesday, 12 August 2026

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প: নিহত বেড়ে ৪৭

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:27:01 pm, Monday, 10 August 2026
  • 11

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প: নিহত বেড়ে ৪৭

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) এবং কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা জানিয়েছে, সোমবার চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌরসভার কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। স্থানটি রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। তবে ভূমিকম্পের পরপরই এর মাত্রা ৬ দশমিক ৬ বলে জানিয়েছিল কলম্বিয়া।

ইউএসজিএসের হিসাবে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। ভূমিকম্পের পর চোকোসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সেবার কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে কাজ করছেন।

কলম্বিয়া ও প্রতিবেশী ইকুয়েডরের কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। চোকোর গভর্নর নুবিয়া কর্ডোবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, পুরো প্রদেশেই শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর আফটারশকের আশঙ্কাও রয়েছে। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্র সান হোসে দেল পালমারের কাছে হলেও প্রাদেশিক রাজধানী কুইবদোতেও হতাহত এবং ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে এবং শিগগিরই প্রাথমিক সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এদিকে ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী বোগোটাতেও অনুভূত হয়। এএফপির সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার কারণে রাজধানীর কয়েকটি ভবন থেকে মানুষকে বাইরে বের করে আনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবন ধসে পড়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।

চোকো প্রদেশের কুইবদোতে হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এএফপির ধারণ করা ভিডিওতে শহরটির একটি ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা যায়। এছাড়া দেশটির জনপ্রিয় পর্যটন অঞ্চল এহে কাফেতেরোর পেরেইরা ও মানিজালেস শহর থেকেও ভবন ধসের ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেরেইরার মেয়র ওই শহরে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন।

অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, মানিজালেসে ভূমিকম্পে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পেরেইরায় ১৮ জন, মানিজালেসে দুজন এবং ভ্যালে দে কাউকা অঞ্চলে অন্তত ২৭ জন মারা গেছেন। উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে প্রতিবেশী ভেনিজুয়েলাতেও দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।

জুনের শেষ দিকে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ওই দুই ভূমিকম্পে ৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং শত শত ভবন ধ্বংসের খবর পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ওই ভূমিকম্পগুলোকে অঞ্চলটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী কম্পনগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

জটিল অস্ত্রোপচারের পর হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরলেন মিঠুন চক্রবর্তী

কলম্বিয়ায় ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প: নিহত বেড়ে ৪৭

Update Time : 11:27:01 pm, Monday, 10 August 2026

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার এই ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) এবং কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক পরিষেবা জানিয়েছে, সোমবার চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার পৌরসভার কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। স্থানটি রাজধানী বোগোটা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। তবে ভূমিকম্পের পরপরই এর মাত্রা ৬ দশমিক ৬ বলে জানিয়েছিল কলম্বিয়া।

ইউএসজিএসের হিসাবে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে জানিয়েছে মার্কিন সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা। ভূমিকম্পের পর চোকোসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সেবার কর্মীরা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে কাজ করছেন।

কলম্বিয়া ও প্রতিবেশী ইকুয়েডরের কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। চোকোর গভর্নর নুবিয়া কর্ডোবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, পুরো প্রদেশেই শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের পর আফটারশকের আশঙ্কাও রয়েছে। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্র সান হোসে দেল পালমারের কাছে হলেও প্রাদেশিক রাজধানী কুইবদোতেও হতাহত এবং ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কাজ করছে এবং শিগগিরই প্রাথমিক সরকারি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে। এদিকে ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী বোগোটাতেও অনুভূত হয়। এএফপির সাংবাদিকদের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তার কারণে রাজধানীর কয়েকটি ভবন থেকে মানুষকে বাইরে বের করে আনা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবন ধসে পড়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।

চোকো প্রদেশের কুইবদোতে হতাহতের পাশাপাশি অবকাঠামোর উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এএফপির ধারণ করা ভিডিওতে শহরটির একটি ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা যায়। এছাড়া দেশটির জনপ্রিয় পর্যটন অঞ্চল এহে কাফেতেরোর পেরেইরা ও মানিজালেস শহর থেকেও ভবন ধসের ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেরেইরার মেয়র ওই শহরে অন্তত ১৮ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছেন।

অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, মানিজালেসে ভূমিকম্পে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পেরেইরায় ১৮ জন, মানিজালেসে দুজন এবং ভ্যালে দে কাউকা অঞ্চলে অন্তত ২৭ জন মারা গেছেন। উদ্ধার অভিযান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে প্রতিবেশী ভেনিজুয়েলাতেও দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।

জুনের শেষ দিকে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ওই দুই ভূমিকম্পে ৬ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং শত শত ভবন ধ্বংসের খবর পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ওই ভূমিকম্পগুলোকে অঞ্চলটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী কম্পনগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।