মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার আলীনগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে নিহত বাংলাদেশি যুবক তারা মিয়ার (২০) মরদেহ ৩৯ ঘণ্টা পর দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে চাতলাপুর শুল্ক স্টেশন ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় বিজিবি-বিএসএফ এবং দুই দেশের পুলিশের উপস্থিতিতে মরদেহটি কুলাউড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহত তারা মিয়া কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া বস্তি এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে। পুলিশ ও সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৫টায় চাতলাপুর সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ইরানি থানা পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তারা মিয়ার মরদেহ তার বড় ভাই রাজু মিয়ার কাছে হস্তান্তর করে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না, ইরানি থানার ইন্সপেক্টর শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের আলীনগর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার কাজী নাসিম, বিএসএফের মাগুরউলী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসি রোহিতসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) ভোরে তারা মিয়াসহ চারজন আলীনগরের শিকরিয়া সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাগুরউলী এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করেন বলে জানা যায়।
এ সময় বিএসএফের টহল দল তাদের গতিরোধের চেষ্টা করলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই তারা মিয়া নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা অন্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আত্মগোপনে চলে যান। নিহতের মা আজিরুন্নেছা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে কখনো চোরাকারবারে জড়িত ছিল না। টাকার লোভ দেখিয়ে স্থানীয় কয়েকজন লোক তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
আমি বাধা দিলেও সে শোনেনি। বিএসএফের গুলিতে আজ আমার বুক খালি হয়ে গেল। বিজিবির ৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশি তরুণ নিহতের ঘটনায় বিএসএফের কাছে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিহত তরুণ চোরাকারবারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সীমান্ত এলাকায় তরুণদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে বিজিবির সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে এবং সীমান্তে টহল বাড়ানো হয়েছে।
কুলাউড়া থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় প্রয়োজনীয় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অন্যান্য আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

















