গত প্রায় দুই দশকের মধ্যে এবারই এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সবচেয়ে খারাপ ফলাফল দেখা গেছে। ফলাফলে হ্রাস পেয়েছে পাসের হার এবং জিপিএ-৫ এর সংখ্যা। গত বছরের তুলনায় গড় পাসের হার ছয় শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৬২ দশমিক দুই পাঁচ শতাংশে।
পরীক্ষার খাতার প্রকৃত মূল্যায়ন হয়েছে বলেই এমন ফল, দাবি শিক্ষামন্ত্রীর। এ বছর একজনও পাস করেনি ৩১২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। শতভাগ পাস করেছে ৬৬৯টিতে।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২ মাস ২২ দিনপর প্রকাশ করা হয়েছে এসএসসির ফল।
এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ২৯ হাজার। যাদের মধ্যে ফেল করেছে প্রায় ৭ লাখ। গড় পাশের হার ৬২ দশমিক দুই পাঁচ। যা গতবারের চেয়ে ৬ শতাংশ কম। এর আগে গড় পাশের এত কম হার ছিল ২০০৭ সালে, ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ।
গত বছর ১ লাখ ৩৯ হাজার জন জিপিএ ফাইভ পেলেও এবার পেয়েছে এক লাখ ১৬ হাজার জন। ফলাফলে এবারও এগিয়ে ছাত্রীরা।
গড় পাশের হিসাবে সবচেয়ে ভালো করেছে ঢাকা, ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ। সবচেয়ে খারাপ করেছে ময়মনসিংহ, ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এদিকে, ১১টি বোর্ড মিলিয়ে মাদরাসা ও কারিগরিতে পাসের হার যথাক্রমে ৫৫ ও ৫৮ শতাংশ।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, যে সমস্ত পরীক্ষার্থী তাদের খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করবে, তাদের সম্পূর্ণ খাতা পুনঃপরীক্ষণ হবে। কোথাও যদি কোনো ভুল হয়ে থাকে সেগুলোর ব্যাপারে পুনরায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আওয়ামী লীগের ১৬ বছর এসএসসিতে গড়ে পাসের হার ছিল ৮৩.৭%। এবার ফলে সরকার কোনো হস্তক্ষেপ করেনি বলেই পাশের হার কম বলে দাবি প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টার।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এসএসসিতে যে মূল্যায়ণ করা হয়েছে, সেটা শতভাগ নির্মোহভাবে করা হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি জানান, আগের মতো এবারো ফলের ভিত্তিতে কলেজে ভর্তি হতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। ফ্যাসিবাদের সময় আমরা একটা সংস্কৃতি দেখেছি, যেখানে জিপিএ–৫ ও পাসের হার বাড়ানো হতো। আমরা সেই সংস্কৃতি থেকে পুরোপুরি বের হয়ে এসেছি। কারণ, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আমরা এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে বের হয়ে আসবে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, আমরা ভর্তির সর্বশেষ তারিখটা দিয়েছিলাম সেপ্টেম্বরের ১৫ তারিখ। ভর্তি শেষ হওয়ার সাথে সাথে আমরা ক্লাস শুরু করব। দ্রুতই ক্লাসের নোটিশ আমরা দিয়ে দেব।
৩০ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শতভাগ পাস করেছে ৬৬৯টিতে। একজনও পাস করেনি ৩১২টিতে। এবার সবচেয়ে বেশি খারাপ ফল হয়েছে মানবিক বিভাগে।

















