5:40 pm, Monday, 3 August 2026

আগস্ট নাকি অক্টোবর—পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ যখন

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:15:42 pm, Monday, 3 August 2026
  • 5

আগস্ট নাকি অক্টোবর—পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ যখন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা ইতোমধ্যেই বাজেট বক্তৃতায় দিয়েছে সরকার। এ জন্য ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দও রাখা হয়েছে। তবুও এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রধান প্রশ্ন—গেজেট কি আগস্টেই প্রকাশ হবে, নাকি প্রক্রিয়া শেষ হতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসেনি। তবে বাস্তবায়নের ধরন, ধাপের সংখ্যা এবং জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ কতটা গ্রহণ করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল। সে অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮–২৯ অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু পরবর্তী মূল্যায়নে দেখা যায়, কয়েক বছরের নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামোর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে প্রথম ধাপে মাত্র অর্ধেক মূল বেতন কার্যকর করলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি অনেক ক্ষেত্রেই খুব কম হবে। কোথাও কোথাও বেতন কাঠামোতেও অসামঞ্জস্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে দুই ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রস্তাব ছিল, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে। তবে এ প্রস্তাবও এখনো অনুমোদন পায়নি। সর্বশেষ আলোচনায় আবার তিন ধাপের পরিকল্পনাই গুরুত্ব পাচ্ছে। এবার প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন কার্যকর এবং পরবর্তী দুই ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে সচিব কমিটির বৈঠকেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এদিকে, গত ১২ থেকে ১৬ জুলাই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলেও এ বিষয়ে আইএমএফ কোনো আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায়নি। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রীও স্পষ্ট করে বলেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কাজ এগিয়ে চলছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮ ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, যা আগের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর একটি বড় অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন পে-স্কেলের প্রাথমিক বাস্তবায়নে এই অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করা হতে পারে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায় ও ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা অনুযায়ী না হলে ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার প্রস্তাবও ছিল। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় সরকার কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে মূল বেতন, ভাতা কিংবা অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। গেজেট প্রকাশের সময় নিয়ে এখনো ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একটি সূত্রের দাবি, অর্থ বিভাগের আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ হলেই আগস্টের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। অন্যদিকে, আরেকটি সূত্রের মতে, সব প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া শেষ করতে অক্টোবরের আগে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা কম। তবে সরকারের অবস্থান হলো, গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে প্রজ্ঞাপন জারির পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যকারিতার তারিখ থেকে বকেয়াসহ প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, অর্থের সংস্থানের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ইএফটি এবং আইবাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হলে সফটওয়্যারে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। এ কারণে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কারিগরি প্রস্তুতির বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। সচিব কমিটির এক সদস্য বলেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের ত্রুটি না থাকে, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে চূড়ান্ত সুপারিশের আগে আরও বৈঠক করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাজেটে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে—এ ব্যাপারে তারা আশাবাদী। তবে গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। শ্রম মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মূল্যস্ফীতির আলোচনা হলেও বর্তমান বাজারে বিদ্যমান বেতনে সংসার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানের শিক্ষার ব্যয় সামাল দেওয়ার বাস্তবতা খুব কমই আলোচনায় আসে। নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নিষ্পত্তি হয়নি। কমিশনের সুপারিশ কতটা সংশোধন হবে, বাস্তবায়ন হবে দুই ধাপে নাকি তিন ধাপে, নতুন ভাতা কবে থেকে কার্যকর হবে, ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত থাকবে কি না এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—গেজেট ঠিক কবে প্রকাশ হবে। এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর মিললেই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হবে বলে আশা করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

আগস্ট নাকি অক্টোবর—পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ যখন

Update Time : 04:15:42 pm, Monday, 3 August 2026

নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা ইতোমধ্যেই বাজেট বক্তৃতায় দিয়েছে সরকার। এ জন্য ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দও রাখা হয়েছে। তবুও এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের প্রধান প্রশ্ন—গেজেট কি আগস্টেই প্রকাশ হবে, নাকি প্রক্রিয়া শেষ হতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত থেকে সরকার সরে আসেনি। তবে বাস্তবায়নের ধরন, ধাপের সংখ্যা এবং জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ কতটা গ্রহণ করা হবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল। সে অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন মূল বেতনের ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮–২৯ অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করা হয়। কিন্তু পরবর্তী মূল্যায়নে দেখা যায়, কয়েক বছরের নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন কমিশনের প্রস্তাবিত কাঠামোর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে প্রথম ধাপে মাত্র অর্ধেক মূল বেতন কার্যকর করলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি অনেক ক্ষেত্রেই খুব কম হবে। কোথাও কোথাও বেতন কাঠামোতেও অসামঞ্জস্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে দুই ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়টি আলোচনায় আসে। প্রস্তাব ছিল, চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে এবং পরবর্তী অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হবে। তবে এ প্রস্তাবও এখনো অনুমোদন পায়নি। সর্বশেষ আলোচনায় আবার তিন ধাপের পরিকল্পনাই গুরুত্ব পাচ্ছে। এবার প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন কার্যকর এবং পরবর্তী দুই ধাপে ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা চালুর বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তবে সচিব কমিটির বৈঠকেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এদিকে, গত ১২ থেকে ১৬ জুলাই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দল ঢাকা সফরকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলেও এ বিষয়ে আইএমএফ কোনো আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায়নি। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রীও স্পষ্ট করে বলেন, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন এবং আইএমএফের ঋণ কর্মসূচির মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কাজ এগিয়ে চলছে। ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮ ৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া জনপ্রশাসন খাতে মোট বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা, যা আগের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর একটি বড় অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন পে-স্কেলের প্রাথমিক বাস্তবায়নে এই অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যবহার করা হতে পারে। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। রাজস্ব আদায় ও ঋণ গ্রহণ পরিকল্পনা অনুযায়ী না হলে ব্যয়ের অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার প্রস্তাবও ছিল। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় সরকার কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়নের পক্ষে নয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ফলে মূল বেতন, ভাতা কিংবা অন্যান্য আর্থিক সুবিধায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। গেজেট প্রকাশের সময় নিয়ে এখনো ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একটি সূত্রের দাবি, অর্থ বিভাগের আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ হলেই আগস্টের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। অন্যদিকে, আরেকটি সূত্রের মতে, সব প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া শেষ করতে অক্টোবরের আগে গেজেট প্রকাশের সম্ভাবনা কম। তবে সরকারের অবস্থান হলো, গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হলেও নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। ফলে প্রজ্ঞাপন জারির পর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যকারিতার তারিখ থেকে বকেয়াসহ প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, অর্থের সংস্থানের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিও এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা ইএফটি এবং আইবাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়। ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে হলে সফটওয়্যারে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে। এ কারণে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কারিগরি প্রস্তুতির বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। সচিব কমিটির এক সদস্য বলেন, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেন কোনো ধরনের ত্রুটি না থাকে, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে চূড়ান্ত সুপারিশের আগে আরও বৈঠক করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, বাজেটে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে—এ ব্যাপারে তারা আশাবাদী। তবে গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। শ্রম মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মূল্যস্ফীতির আলোচনা হলেও বর্তমান বাজারে বিদ্যমান বেতনে সংসার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও সন্তানের শিক্ষার ব্যয় সামাল দেওয়ার বাস্তবতা খুব কমই আলোচনায় আসে। নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের নিষ্পত্তি হয়নি। কমিশনের সুপারিশ কতটা সংশোধন হবে, বাস্তবায়ন হবে দুই ধাপে নাকি তিন ধাপে, নতুন ভাতা কবে থেকে কার্যকর হবে, ২০টি গ্রেড অপরিবর্তিত থাকবে কি না এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—গেজেট ঠিক কবে প্রকাশ হবে। এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর মিললেই দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হবে বলে আশা করছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।