আজ সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৪%

৫ কিলোমিটার সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ, ১০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি চরমে

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:19:16 am, Monday, 3 August 2026
  • 41

৫ কিলোমিটার সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ, ১০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি চরমে

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের নোয়াপাড়া সেতু থেকে কুইক্যাছড়ি, ধনুছড়ি ও তালুকদার পাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিতে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, কাদা ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এটি এখন স্থানীয়দের কাছে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় ১০টি গ্রামের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে তালুকদারপাড়ার শেষাংশে মনিঅং কারবারিপাড়ার প্রবেশমুখে। রাস্তার একটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় সেখানে যানবাহন চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরেজমিনে দেখা যায়, নোয়াপাড়া থেকে মদন কারবারিপাড়া, কুইক্যাছড়ি, ধনুছড়ি, আমতলী, আড়াছড়ি ও তালুকদারপাড়াসহ পুরো সড়কের বিভিন্ন অংশে গভীর গর্ত ও কাদা জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার মাটি ধসে যাওয়ায় মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে যাত্রীদের নেমে হেঁটে রাস্তা পার হতে হচ্ছে। রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাস্তার অপরপ্রান্তে খিয়াং, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা ও মারমা সম্প্রদায়ের অন্তত ১০টি পাড়া রয়েছে। এসব গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য এবং বনজ সম্পদ ইসলামপুর, রাজস্থলী ও বাঙ্গালহালিয়া বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। কিন্তু বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কোনো যানবাহন সেখানে যেতে পারছে না। এতে কৃষিপণ্য বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না এবং স্থানীয়দের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় অটোচালক চিংসাপ্রু খিয়াং বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকা এ রাস্তায় এখন যাত্রী নিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। দ্রুত সড়কটি পাকা করা হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে। কুইক্যাছড়ি পাড়ার এনজিওকর্মী জনি খিয়াং বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান কাদা জমে যায়। কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারেন না। ফলে ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। একটি পাকা রাস্তা এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান বদলে দিতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু কৃষিপণ্য পরিবহনই নয়, জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়-কলেজে যাতায়াত এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে কাঁধে বা খাটিয়ায় বহন করে মূল সড়ক পর্যন্ত আনতে হয়। এতে অনেক সময় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা এলজিইডির ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, রাস্তাটির একটি ছোট অংশ পাকা করা হলেও অধিকাংশই কাঁচা রয়েছে। দ্রুত সংস্কার বা উন্নয়ন না করা হলে ভবিষ্যতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘিলাছড়ি ইউপির চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা বলেন, রাস্তাটি এলজিইডির আওতাধীন। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী ও ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর দাবি, বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকায় উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের একটাই আবেদনÑ ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপদ যোগাযোগের কথা বিবেচনা করে তালুকদারপাড়ার ভেঙে যাওয়া অংশসহ পুরো ৫ কিলোমিটার সড়ক দ্রুত সংস্কার ও পাকা করার উদ্যোগ নেওয়ার।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বিশ্বের তরুণদের স্বপ্নপূরণে রাশিয়াকে সহযোগী করার আহ্বান পুতিনের

৫ কিলোমিটার সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ, ১০ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি চরমে

Update Time : 03:19:16 am, Monday, 3 August 2026

রাঙ্গামাটির রাজস্থলী উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের নোয়াপাড়া সেতু থেকে কুইক্যাছড়ি, ধনুছড়ি ও তালুকদার পাড়া পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার কাঁচা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টিতে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, কাদা ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এটি এখন স্থানীয়দের কাছে মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় ১০টি গ্রামের ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে তালুকদারপাড়ার শেষাংশে মনিঅং কারবারিপাড়ার প্রবেশমুখে। রাস্তার একটি অংশ ভেঙে যাওয়ায় সেখানে যানবাহন চলাচল প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরেজমিনে দেখা যায়, নোয়াপাড়া থেকে মদন কারবারিপাড়া, কুইক্যাছড়ি, ধনুছড়ি, আমতলী, আড়াছড়ি ও তালুকদারপাড়াসহ পুরো সড়কের বিভিন্ন অংশে গভীর গর্ত ও কাদা জমে রয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তার মাটি ধসে যাওয়ায় মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে যাত্রীদের নেমে হেঁটে রাস্তা পার হতে হচ্ছে। রাতের বেলায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাস্তার অপরপ্রান্তে খিয়াং, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা ও মারমা সম্প্রদায়ের অন্তত ১০টি পাড়া রয়েছে। এসব গ্রামের মানুষের একমাত্র যোগাযোগমাধ্যম এই সড়ক। প্রতিদিন কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য এবং বনজ সম্পদ ইসলামপুর, রাজস্থলী ও বাঙ্গালহালিয়া বাজারে নিয়ে বিক্রি করেন। কিন্তু বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কোনো যানবাহন সেখানে যেতে পারছে না। এতে কৃষিপণ্য বাজারজাত করা সম্ভব হচ্ছে না এবং স্থানীয়দের জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় অটোচালক চিংসাপ্রু খিয়াং বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা থাকা এ রাস্তায় এখন যাত্রী নিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। প্রতিদিন দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়। দ্রুত সড়কটি পাকা করা হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে। কুইক্যাছড়ি পাড়ার এনজিওকর্মী জনি খিয়াং বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান কাদা জমে যায়। কৃষকেরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারেন না। ফলে ন্যায্য মূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। একটি পাকা রাস্তা এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান বদলে দিতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুধু কৃষিপণ্য পরিবহনই নয়, জরুরি রোগী হাসপাতালে নেওয়া, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়-কলেজে যাতায়াত এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনেও চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। কোনো রোগী গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে কাঁধে বা খাটিয়ায় বহন করে মূল সড়ক পর্যন্ত আনতে হয়। এতে অনেক সময় মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। এ বিষয়ে রাজস্থলী উপজেলা এলজিইডির ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, রাস্তাটির একটি ছোট অংশ পাকা করা হলেও অধিকাংশই কাঁচা রয়েছে। দ্রুত সংস্কার বা উন্নয়ন না করা হলে ভবিষ্যতে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঘিলাছড়ি ইউপির চেয়ারম্যান রবার্ট ত্রিপুরা বলেন, রাস্তাটি এলজিইডির আওতাধীন। বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী ও ইউএনওর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এলাকাবাসীর দাবি, বছরের পর বছর ধরে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকায় উন্নয়নের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের একটাই আবেদনÑ ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা ও নিরাপদ যোগাযোগের কথা বিবেচনা করে তালুকদারপাড়ার ভেঙে যাওয়া অংশসহ পুরো ৫ কিলোমিটার সড়ক দ্রুত সংস্কার ও পাকা করার উদ্যোগ নেওয়ার।