11:36 am, Sunday, 2 August 2026

বাগমারায় পুলিশ পরিচয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ, অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:36:08 am, Sunday, 2 August 2026
  • 0
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজশাহীর বাগমারায় পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারক চক্র অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে। সম্প্রতি বাগমারা উপজেলায় বেশ কয়েকটি এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। থানায় অভিযোগ দিলেও গ্রেপ্তার নেই। প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করতে পারছে না পুলিশ। গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী বাগমারা উপজেলার আলোকনগর (হামিরকুৎসা) গ্রামের আব্দুস ছোবহানের ব্যক্তিগত মোবাইল (01863285333) নম্বর থেকে কল করা হয়। আব্দুস ছোবহানকে কল করে বলা হয়, আমরা পুলিশ প্রশাসনের লোক, আপনার ছেলেকে মাদক মামলায় আটক করা হয়েছে। তাকে মুক্ত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিকাশে পঞ্চাশ হাজার টাকা পাঠান। এ সময় প্রতারক চক্র মোবাইলে ছেলের পরিচয়ে একজনের কান্নার শব্দ শুনাইয়া ভয়ভীতি ও আতঙ্কের মধ্যে ফেলেন। আমি সরল বিশ্বাসে ওই নম্বরে ২৫ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাই। কিন্তু পরক্ষণেই জানতে পারি আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। ছেলেকে কেউ আটক করেনি। এ ঘটনায় আমি বাগমারা থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু পুলিশ এখনো প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই কায়দায় গত ২৯ জুলাই রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তরুণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সবুজ হোসেন (২৬) প্রতারণার শিকার হন। পুলিশের ভয় দেখিয়ে ও ফাঁদে ফেলে সেমিস্টার ফি’র সম্পূর্ণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সবুজ হোসেন রাজশাহীর স্থানীয় জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রকাশকাল ও ফেসবুক পেজ ওবিসি নিউজের কর্মরত সাংবাদিক এবং রাজশাহীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সবুজ হোসেন গত বুধবার (২৯ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া প্রতারণার দুঃখগাঁথা তুলে ধরেন। রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জমানো টাকা ফেরত পাওয়া এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। সবুজ হোসেন জানান, সম্প্রতি তিনি রাজশাহীর পদ্মা নদীর পাড়ে পানিতে ডুবে যাওয়ার একটি সংবাদের তথ্য ও ফুটেজ সংগ্রহ করতে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে তার মোবাইলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। একই সময়ে এক দোকানদারও সবুজকে জানান, তার বিরুদ্ধে নাকি মামলা করা হয়েছে এবং শিগগিরই কোনো পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ফোন দিতে পারেন। এতে সবুজ মানসিকভাবে কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ধারী ব্যক্তি সবুজকে প্রতারণার জালে ফেলে নগদ অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বা তদন্তের অজুহাতে মোবাইলে বিশেষ কিছু গোপনীয় কোড (USSD Code) চাপতে বলেন। সরল বিশ্বাসে ও পরিস্থিতির চাপে পড়ে সবুজ নির্দেশিত কোডগুলো ডায়াল করেন। কোড চাপার পরপরই তার নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে মুহূর্তের মধ্যে গায়েব হয়ে যায় ৩০ হাজার টাকা। সবুজ জানান, প্রতারণার শিকার হওয়া এই ৩০ হাজার টাকা ছিল তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি। সম্প্রতি রাজশাহী শহরেরই একটি নগদের দোকান থেকে অ্যাকাউন্ট খুলে পরিবার থেকে পাঠানো এই টাকাটি জমিয়ে রেখেছিলেন তিনি। জীবনের জমানো সব টাকা হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব ও দিশাহারা। সবুজ হোসেন বলেন, আমি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে সাংবাদিকতার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। কষ্টের এই সেমিস্টার ফি হারিয়ে আমার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমি এই প্রতারক চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার হারিয়ে যাওয়া টাকা উদ্ধারের জোড় দাবি জানান। এসব ঘটনা ঘটার বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার বা টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বাগমারা থানার ওসি বলেন, বাগমারার সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, এক শ্রেণির প্রতারক চক্র বিভিন্নভাবে প্রতারণা চালানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। প্রতারকের ফাঁদে পড়ে অনেকে টাকা-পয়সা হারানোর ঘটনা ঘটছে। পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। অচিরেই তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়বে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

বাগমারায় পুলিশ পরিচয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ, অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

বাগমারায় পুলিশ পরিচয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ, অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

Update Time : 11:36:08 am, Sunday, 2 August 2026

রাজশাহীর বাগমারায় পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রতারক চক্র অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। সাধারণ মানুষকে পুলিশের ভয় দেখিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বসেছে। সম্প্রতি বাগমারা উপজেলায় বেশ কয়েকটি এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। থানায় অভিযোগ দিলেও গ্রেপ্তার নেই। প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করতে পারছে না পুলিশ। গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী বাগমারা উপজেলার আলোকনগর (হামিরকুৎসা) গ্রামের আব্দুস ছোবহানের ব্যক্তিগত মোবাইল (01863285333) নম্বর থেকে কল করা হয়। আব্দুস ছোবহানকে কল করে বলা হয়, আমরা পুলিশ প্রশাসনের লোক, আপনার ছেলেকে মাদক মামলায় আটক করা হয়েছে। তাকে মুক্ত করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে বিকাশে পঞ্চাশ হাজার টাকা পাঠান। এ সময় প্রতারক চক্র মোবাইলে ছেলের পরিচয়ে একজনের কান্নার শব্দ শুনাইয়া ভয়ভীতি ও আতঙ্কের মধ্যে ফেলেন। আমি সরল বিশ্বাসে ওই নম্বরে ২৫ হাজার টাকা বিকাশে পাঠাই। কিন্তু পরক্ষণেই জানতে পারি আমি প্রতারণার শিকার হয়েছি। ছেলেকে কেউ আটক করেনি। এ ঘটনায় আমি বাগমারা থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু পুলিশ এখনো প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই কায়দায় গত ২৯ জুলাই রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তরুণ শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক সবুজ হোসেন (২৬) প্রতারণার শিকার হন। পুলিশের ভয় দেখিয়ে ও ফাঁদে ফেলে সেমিস্টার ফি’র সম্পূর্ণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। সবুজ হোসেন রাজশাহীর স্থানীয় জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রকাশকাল ও ফেসবুক পেজ ওবিসি নিউজের কর্মরত সাংবাদিক এবং রাজশাহীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। সবুজ হোসেন গত বুধবার (২৯ জুলাই) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের সাথে ঘটে যাওয়া প্রতারণার দুঃখগাঁথা তুলে ধরেন। রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি জমানো টাকা ফেরত পাওয়া এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন। সবুজ হোসেন জানান, সম্প্রতি তিনি রাজশাহীর পদ্মা নদীর পাড়ে পানিতে ডুবে যাওয়ার একটি সংবাদের তথ্য ও ফুটেজ সংগ্রহ করতে যান। ঠিক সেই মুহূর্তে তার মোবাইলে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। একই সময়ে এক দোকানদারও সবুজকে জানান, তার বিরুদ্ধে নাকি মামলা করা হয়েছে এবং শিগগিরই কোনো পুলিশ কর্মকর্তা তাকে ফোন দিতে পারেন। এতে সবুজ মানসিকভাবে কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ধারী ব্যক্তি সবুজকে প্রতারণার জালে ফেলে নগদ অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বা তদন্তের অজুহাতে মোবাইলে বিশেষ কিছু গোপনীয় কোড (USSD Code) চাপতে বলেন। সরল বিশ্বাসে ও পরিস্থিতির চাপে পড়ে সবুজ নির্দেশিত কোডগুলো ডায়াল করেন। কোড চাপার পরপরই তার নগদ অ্যাকাউন্ট থেকে মুহূর্তের মধ্যে গায়েব হয়ে যায় ৩০ হাজার টাকা। সবুজ জানান, প্রতারণার শিকার হওয়া এই ৩০ হাজার টাকা ছিল তার বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টার ফি। সম্প্রতি রাজশাহী শহরেরই একটি নগদের দোকান থেকে অ্যাকাউন্ট খুলে পরিবার থেকে পাঠানো এই টাকাটি জমিয়ে রেখেছিলেন তিনি। জীবনের জমানো সব টাকা হারিয়ে এখন তিনি নিঃস্ব ও দিশাহারা। সবুজ হোসেন বলেন, আমি সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে সাংবাদিকতার পাশাপাশি পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছি। কষ্টের এই সেমিস্টার ফি হারিয়ে আমার পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। আমি এই প্রতারক চক্রের দ্রুত গ্রেপ্তার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমার হারিয়ে যাওয়া টাকা উদ্ধারের জোড় দাবি জানান। এসব ঘটনা ঘটার বেশ কিছুদিন পেরিয়ে গেলেও প্রতারক চক্রকে গ্রেপ্তার বা টাকা উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী বাগমারা থানার ওসি বলেন, বাগমারার সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. গাজিউর রহমান বলেন, এক শ্রেণির প্রতারক চক্র বিভিন্নভাবে প্রতারণা চালানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। প্রতারকের ফাঁদে পড়ে অনেকে টাকা-পয়সা হারানোর ঘটনা ঘটছে। পুলিশের বিশেষ টিম কাজ করছে। অচিরেই তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়বে।