8:23 pm, Friday, 31 July 2026

জার্মানিতে তীব্র গরমে চলতি বছরে প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:06:45 pm, Friday, 31 July 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

চলতি বছরে জার্মানিতে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৬ সালের পর কোনো পূর্ণ বছরে এটিই সর্বোচ্চ তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বলে জানিয়েছে রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট (আরকেআই)। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)। রবার্ট কচ ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরু থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সময়ে তাপপ্রবাহের কারণে আনুমানিক ৯ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত এক দশকে সর্বোচ্চ তাপজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০১৮ সালে, যখন প্রায় ৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনের দ্বিতীয়ার্ধে তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে ৫ হাজারের বেশি মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। ওই সময়ে জার্মানির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপারনিকাস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাস পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম জুন মাস ছিল। জার্মানির ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেশি ছিল। রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট ওই সময়ে অন্তত ৫ হাজার ১০০টি মৃত্যুকে তাপপ্রবাহের প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রাকে মৃত্যুর সরাসরি কারণ হিসেবে খুব কম ক্ষেত্রেই উল্লেখ করা হয়, যদি না কেউ হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যায় মারা যান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম মানুষের আগে থেকে থাকা হৃদরোগ, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা বা কিডনি রোগকে আরও জটিল করে তোলে। এ কারণে মৃত্যুসনদে অনেক সময় তাপের প্রভাব উল্লেখ থাকে না। তাই তীব্র গরমকে অনেক সময় ‘মৃত্যুর নীরব কারণ’ বলা হয়। রবার্ট কচ ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরু থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার ৯০০। এরপর ১৩ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত আরও প্রায় ১ হাজার ৯০০টি মৃত্যু তাপপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ বর্তমান হিসাব ১৯ জুলাইয়ের পরের তাপপ্রবাহের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে না। পাশাপাশি, আরও পূর্ণাঙ্গ মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার পর এই পরিসংখ্যান সংশোধন করা হতে পারে। বয়সভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, মোট আনুমানিক মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জনের বয়স ছিল ৭৫ বছর বা তার বেশি। এর মধ্যে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ছিলেন ৫ হাজার ৪২০ জন, ৭৫ থেকে ৮৪ বছর বয়সী ছিলেন ২ হাজার ৪৬০ জন এবং ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী ছিলেন ১ হাজার ২৬০ জন। এ ছাড়া ৬৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৬৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, যেসব সপ্তাহে গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে, সেসব সময়ে সাধারণত মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই বিশ্লেষণটি জার্মান আবহাওয়া পরিষেবা সংস্থার ৫২টি আবহাওয়া কেন্দ্রের তাপমাত্রা পরিমাপের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

প্রবাসীর বসতঘরের তালা ভেঙে মালামাল লুট, মামলা নিচ্ছে না পুলিশ

জার্মানিতে তীব্র গরমে চলতি বছরে প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু

Update Time : 07:06:45 pm, Friday, 31 July 2026

চলতি বছরে জার্মানিতে উচ্চ তাপমাত্রার কারণে প্রায় ১০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৬ সালের পর কোনো পূর্ণ বছরে এটিই সর্বোচ্চ তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বলে জানিয়েছে রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট (আরকেআই)। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করেছে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)। রবার্ট কচ ইনস্টিটিউটের হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরু থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত সময়ে তাপপ্রবাহের কারণে আনুমানিক ৯ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত এক দশকে সর্বোচ্চ তাপজনিত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল ২০১৮ সালে, যখন প্রায় ৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুনের দ্বিতীয়ার্ধে তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে ৫ হাজারের বেশি মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। ওই সময়ে জার্মানির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপারনিকাস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের জুন মাস পশ্চিম ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম জুন মাস ছিল। জার্মানির ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২ শতাংশ বেশি ছিল। রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট ওই সময়ে অন্তত ৫ হাজার ১০০টি মৃত্যুকে তাপপ্রবাহের প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রাকে মৃত্যুর সরাসরি কারণ হিসেবে খুব কম ক্ষেত্রেই উল্লেখ করা হয়, যদি না কেউ হিটস্ট্রোকের মতো সমস্যায় মারা যান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গরম মানুষের আগে থেকে থাকা হৃদরোগ, শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা বা কিডনি রোগকে আরও জটিল করে তোলে। এ কারণে মৃত্যুসনদে অনেক সময় তাপের প্রভাব উল্লেখ থাকে না। তাই তীব্র গরমকে অনেক সময় ‘মৃত্যুর নীরব কারণ’ বলা হয়। রবার্ট কচ ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরু থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত তাপজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ হাজার ৯০০। এরপর ১৩ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত আরও প্রায় ১ হাজার ৯০০টি মৃত্যু তাপপ্রবাহের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে অনুমান করা হয়েছে। তবে গ্রীষ্মকাল শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ বর্তমান হিসাব ১৯ জুলাইয়ের পরের তাপপ্রবাহের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে না। পাশাপাশি, আরও পূর্ণাঙ্গ মৃত্যুর তথ্য পাওয়ার পর এই পরিসংখ্যান সংশোধন করা হতে পারে। বয়সভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, মোট আনুমানিক মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ৯০০ জনের বয়স ছিল ৭৫ বছর বা তার বেশি। এর মধ্যে ৮৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ছিলেন ৫ হাজার ৪২০ জন, ৭৫ থেকে ৮৪ বছর বয়সী ছিলেন ২ হাজার ৪৬০ জন এবং ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী ছিলেন ১ হাজার ২৬০ জন। এ ছাড়া ৬৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৬৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। রবার্ট কচ ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, যেসব সপ্তাহে গড় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি থাকে, সেসব সময়ে সাধারণত মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এই বিশ্লেষণটি জার্মান আবহাওয়া পরিষেবা সংস্থার ৫২টি আবহাওয়া কেন্দ্রের তাপমাত্রা পরিমাপের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।