9:18 pm, Friday, 31 July 2026

শিক্ষক বহিষ্কার আদেশের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:12:39 pm, Friday, 31 July 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সিন্ডিকেট কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে স্থায়ী বহিষ্কার এবং ছয়জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাবি শিক্ষক সমিতি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কার আদেশের নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ ব্যক্ত করে সংগঠনটি। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত ঐ প্রতিবাদ পত্রে স্বাক্ষর করেন। এতে ঢাবি শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো নির্দেশনা অনুযায়ী নয়, বরং ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩’-এর আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। উল্লিখিত আইন অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অপরাধ অনুসন্ধান কমিটি ও ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সম্পূর্ণভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কোনো শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা রাখে না। ইতোপূর্বে ২২ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তিনজন শিক্ষককে একইভাবে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। ১৯৭৩-এর আইন অনুযায়ী তথ্যানুসন্ধান কমিটি, তদন্ত কমিটি এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে এসব শিক্ষককে আত্মপক্ষ সমর্থন, স্বীয় বক্তব্য প্রদান এবং অভিযোগ উত্থাপনকারীদের মুখোমুখি বা সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বক্তব্য খণ্ডন করার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি পরিষ্কারভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও দীর্ঘ ঐতিহ্যের লঙ্ঘন, মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং সমান অধিকার প্রাপ্তির চরম লঙ্ঘন। প্রতিবাদ পত্রে সংগঠনটি আরও জানায় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী অনির্বাচিত প্রশাসন মব সৃষ্টির মাধ্যমে একটি একপাক্ষিক নীতি অনুসরণ করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধিমালা উপেক্ষা করে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে তাদের সামাজিকভাবে অসম্মানিত করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যা মূলত মানসিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের নামান্তর। পূর্ববর্তী প্রশাসন নির্বাচিত সিনেট, সিন্ডিকেট ও শিক্ষক সমিতিকে অকার্যকর করার মাধ্যমে এ ধরনের আইনবহির্ভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিদের জোরপূর্বক বিরত রেখে একতরফাভাবে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে, তা কখনোই সুবিচার নিশ্চিত করবে না। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বর্তমান প্রশাসন দুই বছর আগে শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষককে পুনরায় শাস্তি প্রদান করে শাস্তির মাত্রা দ্বিগুণ করেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ভিন্নমত দমন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয় যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ভিন্নমত দমন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচনের নীতি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষকসমাজের মধ্যে যে আতঙ্ক, ভীতি ও অনিরাপত্তার সংস্কৃতি সৃষ্টি করা হলো, ভবিষ্যতের জন্য তা একটি অশুভ দৃষ্টান্ত হিসেবে থেকে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন অক্ষুন্ন রাখতে এবং দল, মত, লিঙ্গ ও ধর্মভেদে শিক্ষকদের পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এ যাবৎ যে ১০ জন শিক্ষকের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে একটি সুশৃঙ্খল ও মেধাভিত্তিক একাডেমিক পরিবেশ এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বানও করেছে ঢাবি শিক্ষক সমিতি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা কার্যক্রম সীমিত থাকায় উদ্বেগ ভারতের

শিক্ষক বহিষ্কার আদেশের বিরুদ্ধে ঢাবি শিক্ষক সমিতির প্রতিবাদ

Update Time : 08:12:39 pm, Friday, 31 July 2026

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সিন্ডিকেট কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে স্থায়ী বহিষ্কার এবং ছয়জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদানের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাবি শিক্ষক সমিতি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কার আদেশের নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ ব্যক্ত করে সংগঠনটি। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. নিজামুল হক ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা স্বাক্ষরিত ঐ প্রতিবাদ পত্রে স্বাক্ষর করেন। এতে ঢাবি শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের কোনো নির্দেশনা অনুযায়ী নয়, বরং ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩’-এর আইন অনুযায়ী পরিচালিত হয়। উল্লিখিত আইন অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অপরাধ অনুসন্ধান কমিটি ও ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সম্পূর্ণভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কোনো শাস্তি প্রদানের ক্ষমতা রাখে না। ইতোপূর্বে ২২ জুন ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তিনজন শিক্ষককে একইভাবে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। ১৯৭৩-এর আইন অনুযায়ী তথ্যানুসন্ধান কমিটি, তদন্ত কমিটি এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে এসব শিক্ষককে আত্মপক্ষ সমর্থন, স্বীয় বক্তব্য প্রদান এবং অভিযোগ উত্থাপনকারীদের মুখোমুখি বা সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বক্তব্য খণ্ডন করার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি পরিষ্কারভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও দীর্ঘ ঐতিহ্যের লঙ্ঘন, মানবাধিকারের লঙ্ঘন এবং সমান অধিকার প্রাপ্তির চরম লঙ্ঘন। প্রতিবাদ পত্রে সংগঠনটি আরও জানায় যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী অনির্বাচিত প্রশাসন মব সৃষ্টির মাধ্যমে একটি একপাক্ষিক নীতি অনুসরণ করেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধিমালা উপেক্ষা করে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন ট্যাগিংয়ের মাধ্যমে তাদের সামাজিকভাবে অসম্মানিত করার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে, যা মূলত মানসিক ও অর্থনৈতিক নিপীড়নের নামান্তর। পূর্ববর্তী প্রশাসন নির্বাচিত সিনেট, সিন্ডিকেট ও শিক্ষক সমিতিকে অকার্যকর করার মাধ্যমে এ ধরনের আইনবহির্ভূত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল। নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধিদের জোরপূর্বক বিরত রেখে একতরফাভাবে যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে, তা কখনোই সুবিচার নিশ্চিত করবে না। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বর্তমান প্রশাসন দুই বছর আগে শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষককে পুনরায় শাস্তি প্রদান করে শাস্তির মাত্রা দ্বিগুণ করেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে ভিন্নমত দমন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয় যে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন একটি স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। কিন্তু কেবল রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে ভিন্নমত দমন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকোচনের নীতি এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষকসমাজের মধ্যে যে আতঙ্ক, ভীতি ও অনিরাপত্তার সংস্কৃতি সৃষ্টি করা হলো, ভবিষ্যতের জন্য তা একটি অশুভ দৃষ্টান্ত হিসেবে থেকে যাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন অক্ষুন্ন রাখতে এবং দল, মত, লিঙ্গ ও ধর্মভেদে শিক্ষকদের পারস্পরিক সহাবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এ যাবৎ যে ১০ জন শিক্ষকের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে একটি সুশৃঙ্খল ও মেধাভিত্তিক একাডেমিক পরিবেশ এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বানও করেছে ঢাবি শিক্ষক সমিতি।