3:42 pm, Friday, 31 July 2026

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ঢাকার অনুরোধ খতিয়ে দেখছে দিল্লি

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:40:45 pm, Friday, 31 July 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত। দেশটির পার্লামেন্ট তথা লোকসভায় দেয়া এক রিপোর্টে স্থায়ী কমিটিকে এ কথা জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে সরকার দাবি করেছে, ভারতে অবস্থান করলেও শেখ হাসিনাকে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেয়া হয়নি। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে গঠিত পররাষ্ট্রবিষয়ক পার্লামেন্টারি স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ওপর সরকারের নেয়া পদক্ষেপসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের করা অনুরোধ ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে’। কমিটি জানায়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারকে নিয়মিত কমিটিকে অবহিত রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটি আরও বলেছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দেশটির ‘সভ্যতাগত মূল্যবোধ ও মানবিক ঐতিহ্যের’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গুরুতর সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়ার দীর্ঘদিনের নীতির অংশ হিসেবেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার স্পষ্ট করেছে যে শেখ হাসিনাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেয়া হয়নি। কমিটির মতে, ভারত বরাবরই এই নীতি অনুসরণ করে যে দেশটির ভূখণ্ড অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। এ কারণে সরকারকে মানবিক ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি যথাযথ সংবেদনশীলতা ও ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে কমিটি। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ঢাকার অনুরোধ খতিয়ে দেখছে দিল্লি

Update Time : 02:40:45 pm, Friday, 31 July 2026

বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত। দেশটির পার্লামেন্ট তথা লোকসভায় দেয়া এক রিপোর্টে স্থায়ী কমিটিকে এ কথা জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। একই সঙ্গে সরকার দাবি করেছে, ভারতে অবস্থান করলেও শেখ হাসিনাকে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেয়া হয়নি। সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের সভাপতিত্বে গঠিত পররাষ্ট্রবিষয়ক পার্লামেন্টারি স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ওপর সরকারের নেয়া পদক্ষেপসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক কমিটির নবম প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে তৈরি প্রতিবেদনটি বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রযোজ্য আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসারে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের করা অনুরোধ ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে’। কমিটি জানায়, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে সরকারকে নিয়মিত কমিটিকে অবহিত রাখারও আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটি আরও বলেছে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দেশটির ‘সভ্যতাগত মূল্যবোধ ও মানবিক ঐতিহ্যের’ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গুরুতর সংকট বা অস্তিত্বের হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেয়ার দীর্ঘদিনের নীতির অংশ হিসেবেই তিনি ভারতে অবস্থান করছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার স্পষ্ট করেছে যে শেখ হাসিনাকে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনও ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য কোনও রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ দেয়া হয়নি। কমিটির মতে, ভারত বরাবরই এই নীতি অনুসরণ করে যে দেশটির ভূখণ্ড অন্য কোনও দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতে দেয়া হবে না। এ কারণে সরকারকে মানবিক ও নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি এ ধরনের পরিস্থিতি যথাযথ সংবেদনশীলতা ও ভারতের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মোকাবিলার সুপারিশ করেছে কমিটি। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি ঘটে। পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।