ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রশাসনকে গতিশীল করা এবং জবাবদিহি নিশ্চিতের মাধ্যমে ক্ষমতাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে দিনরাত কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর সেই কাজ হোঁচট খেতে যাচ্ছে সরকারেরই কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে। সরকারের ১৮০ দিনের মাথায় এসে যখন জনকল্যাণমুখী নানা সংস্কার দৃশ্যমান হওয়ার কথা, তখন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মুক্তিযুদ্ধ, স্থানীয় সরকারবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর ক্ষমতার অপব্যবহার এবং লাগামহীন বক্তব্য পুরো সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে। মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে খোদ সরকারপ্রধানকে চরম অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে, যা রাজপথের ত্যাগী নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ফলে একদিকে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর ও জনবান্ধব ভাবমূর্তি, অন্যদিকে কিছু মন্ত্রীর প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা নিয়ে এখন খোদ ক্ষমতাসীন দলের ভেতরেই বড় ধরনের রদবদলের হাওয়া বইছে বলেই আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
চলতি সপ্তাহে হঠাৎ করে ১৮ মন্ত্রীর এসকর্ট প্রত্যাহার করেছে সরকার। গত ২৬ জুলাই এ নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দেয় মন্ত্রিসভায় বড় পরিবর্তনের। যদিও পরে জানা যায়, ব্যয় সংকোচনে ১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার করেছে সরকার। এরই মধ্যে এক প্রতিমন্ত্রীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ভিডিও ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। এর আগে জামায়াতের এক এমপির ভিডিও প্রকাশকে কেন্দ্র করে তোলপাড় হয় সামাজিক মাধ্যম থেকে গণমাধ্যমে। সরকার গঠনের মাত্র ১৮০ দিনের মাথায় বড় ধরনের রদবদলের হাওয়া বইছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক পরিবহন, তথ্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে আসতে পারে নতুন মুখ। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার আকার আরও বাড়ানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের বিগত ছয় মাসের কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন এবং বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও অতিকথনে খোদ প্রধানমন্ত্রী বিব্রত। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলেও জানা গেছে। সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই এই পরিবর্তন দৃশ্যমান হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। আগস্টে সেই পরিবর্তন হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে রাজনীতির মাঠে।








