6:39 pm, Thursday, 30 July 2026

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আধুনিক পূর্বাভাস মডেলের কার্যক্রম শুরু

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:15:46 pm, Thursday, 30 July 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) উচ্চ-রেজোলিউশনের জলবায়ু প্রক্ষেপণ (Climate Projection) তথ্য এবং একটি উন্নত জলোচ্ছ্বাস (Storm Surge) পূর্বাভাস মডেল সফলভাবে তৈরি করেছে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে “বাংলাদেশে কার্যকর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জলবায়ু প্রক্ষেপণ ও জলোচ্ছ্বাস মডেলিং” শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. আশরাফ উদ্দিন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাইকা বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি মিস তাকাহাশি জুনকো এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উইং-৩ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে পরিচালিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প (TAPP) “Strengthening the Capacity of Weather and Climate Services”-এর আওতায় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে যৌথভাবে একাধিক সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ওই প্রশিক্ষণে জাপান আবহাওয়া সংস্থার (JMA) মেটিওরোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (MRI) প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. আকিহিকো মুরাতা ও ড. নাদাও কোহ্নো অংশগ্রহণ করে বিএমডির কর্মকর্তাদের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। গবেষণা ও নতুন পূর্বাভাসের মূল দিকসমূহ: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পরও তীব্র ও ঘন ঘন তাপপ্রবাহ দেখা যেতে পারে। শীতকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ঘন কুয়াশার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। নতুন মডেলের মাধ্যমে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা, পরিবর্তনের ধারা এবং সম্ভাব্য প্লাবিত এলাকার আগাম নিখুঁত তথ্য পাওয়া যাবে। সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা প্রতিদিন আরও সঠিকভাবে পূর্বাভাস প্রদান করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, নতুন এই জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস মডেলটি ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং এর পূর্বাভাস বিএমডির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। এ উদ্যোগটি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) “Early Warnings for All (EW4All)” বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেমিনারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, সশস্ত্র বাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে জাইকার সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

গাকৃবি উপাচার্যের সঙ্গে অবার্ন ও পারদু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আধুনিক পূর্বাভাস মডেলের কার্যক্রম শুরু

Update Time : 05:15:46 pm, Thursday, 30 July 2026

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) উচ্চ-রেজোলিউশনের জলবায়ু প্রক্ষেপণ (Climate Projection) তথ্য এবং একটি উন্নত জলোচ্ছ্বাস (Storm Surge) পূর্বাভাস মডেল সফলভাবে তৈরি করেছে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনে “বাংলাদেশে কার্যকর দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে জলবায়ু প্রক্ষেপণ ও জলোচ্ছ্বাস মডেলিং” শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মো. আশরাফ উদ্দিন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাইকা বাংলাদেশ অফিসের প্রধান প্রতিনিধি মিস তাকাহাশি জুনকো এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উইং-৩ প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম। জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে পরিচালিত কারিগরি সহায়তা প্রকল্প (TAPP) “Strengthening the Capacity of Weather and Climate Services”-এর আওতায় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে যৌথভাবে একাধিক সক্ষমতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। ওই প্রশিক্ষণে জাপান আবহাওয়া সংস্থার (JMA) মেটিওরোলজিক্যাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (MRI) প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ড. আকিহিকো মুরাতা ও ড. নাদাও কোহ্নো অংশগ্রহণ করে বিএমডির কর্মকর্তাদের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। গবেষণা ও নতুন পূর্বাভাসের মূল দিকসমূহ: দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়বে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পরও তীব্র ও ঘন ঘন তাপপ্রবাহ দেখা যেতে পারে। শীতকাল ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে ঘন কুয়াশার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। নতুন মডেলের মাধ্যমে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা, পরিবর্তনের ধারা এবং সম্ভাব্য প্লাবিত এলাকার আগাম নিখুঁত তথ্য পাওয়া যাবে। সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতা প্রতিদিন আরও সঠিকভাবে পূর্বাভাস প্রদান করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, নতুন এই জলোচ্ছ্বাস পূর্বাভাস মডেলটি ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে এবং এর পূর্বাভাস বিএমডির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। এ উদ্যোগটি বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (WMO) “Early Warnings for All (EW4All)” বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেমিনারে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর, সশস্ত্র বাহিনী, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে জাইকার সহযোগিতার প্রশংসা করেন এবং আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি থেকে জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।