4:37 am, Thursday, 30 July 2026

এস আলম গ্রুপের ৮২ শতাংশ শেয়ার ধারণ নিয়ে মামলা শুনতে বিব্রত হাইকোর্ট

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:16:11 am, Thursday, 30 July 2026
  • 2
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নিয়ম ভেঙে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেছিল চট্টগ্রামের সমালোচিত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। শেয়ার কেলেঙ্কারির সেই মামলা শুনতে গতকাল বুধবার বিব্রত বোধ করেন হাইকোর্ট। অধিকতর শুনানির জন্য গতকাল দিনটি ধার্য থাকলেও বেঞ্চের একজন বিচারপতি বিব্রত বোধ করায় তা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয় বলে জানান ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। পরে এই মামলা-সংক্রান্ত নথি গতকাল পাঠানো হয়েছে প্রধান বিচারপতির কাছে। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চে মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়েও কোনো একক গ্রুপ ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার নিতে পারে না। তবে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এস আলম গ্রুপ বিভিন্ন নামে-বেনামে ৮০ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনেছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতে রিট করার কথা জানান এই আইনজীবী। তার আগে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। হাইকোর্টে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে জেএমসি বিল্ডার্সের মাধ্যমে ব্যাংকের শেয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষায় তার ভূমিকার অভিযোগ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যে বলা হয়, ২০১৭ সালে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে এস আলম গ্রুপ ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক বিধান লঙ্ঘন করে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই সময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। নিয়ম ভেঙে এস আলম গ্রুপ নামসর্বস্ব ও বেনামি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৮০ শতাংশের বেশি (প্রায় ৮২ শতাংশ) শেয়ার কিনে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্ত ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রুপটি নিজের তহবিল ব্যবহারের বদলে ব্যাংকটি থেকে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে এই শেয়ার কিনেছিল। এস আলম ২৪টির বেশি কাগুজে ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে প্রায় ৮১.৯২% শেয়ার একীভূত করা হয়। ব্যাংকটির ভেতরের টাকাই বিভিন্ন কায়দায় ঋণ হিসেবে বের করে তা দিয়ে শেয়ার কেনার কাজে ব্যবহার করেছিল। তবে এই শেয়ার কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর আদালতের নির্দেশের মাধ্যমে এস আলম ও সংশ্লিষ্টদের শেয়ার অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা হয়েছে এবং বর্তমানে আইনি পদক্ষেপ চলমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারির বিষয়ে তদন্ত শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ)। এ বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বিএফআইইউ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

এস আলম গ্রুপের ৮২ শতাংশ শেয়ার ধারণ নিয়ে মামলা শুনতে বিব্রত হাইকোর্ট

Update Time : 03:16:11 am, Thursday, 30 July 2026

নিয়ম ভেঙে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করেছিল চট্টগ্রামের সমালোচিত ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এস আলম গ্রুপ। শেয়ার কেলেঙ্কারির সেই মামলা শুনতে গতকাল বুধবার বিব্রত বোধ করেন হাইকোর্ট। অধিকতর শুনানির জন্য গতকাল দিনটি ধার্য থাকলেও বেঞ্চের একজন বিচারপতি বিব্রত বোধ করায় তা পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হয় বলে জানান ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন। পরে এই মামলা-সংক্রান্ত নথি গতকাল পাঠানো হয়েছে প্রধান বিচারপতির কাছে। বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের বেঞ্চে মামলার শুনানির দিন ধার্য ছিল। ইসলামী ব্যাংকের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়েও কোনো একক গ্রুপ ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার নিতে পারে না। তবে ইসলামী ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে এস আলম গ্রুপ বিভিন্ন নামে-বেনামে ৮০ শতাংশের বেশি শেয়ার কিনেছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আদালতে রিট করার কথা জানান এই আইনজীবী। তার আগে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে। হাইকোর্টে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে জেএমসি বিল্ডার্সের মাধ্যমে ব্যাংকের শেয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষায় তার ভূমিকার অভিযোগ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্যে বলা হয়, ২০১৭ সালে সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে এস আলম গ্রুপ ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক বিধান লঙ্ঘন করে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই সময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান। নিয়ম ভেঙে এস আলম গ্রুপ নামসর্বস্ব ও বেনামি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৮০ শতাংশের বেশি (প্রায় ৮২ শতাংশ) শেয়ার কিনে এর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) তদন্ত ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রুপটি নিজের তহবিল ব্যবহারের বদলে ব্যাংকটি থেকে এবং নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে এই শেয়ার কিনেছিল। এস আলম ২৪টির বেশি কাগুজে ও সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে প্রায় ৮১.৯২% শেয়ার একীভূত করা হয়। ব্যাংকটির ভেতরের টাকাই বিভিন্ন কায়দায় ঋণ হিসেবে বের করে তা দিয়ে শেয়ার কেনার কাজে ব্যবহার করেছিল। তবে এই শেয়ার কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর আদালতের নির্দেশের মাধ্যমে এস আলম ও সংশ্লিষ্টদের শেয়ার অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা হয়েছে এবং বর্তমানে আইনি পদক্ষেপ চলমান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারির বিষয়ে তদন্ত শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ)। এ বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বিএফআইইউ।