যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশ থেকে আজকের উদীয়মান অর্থনীতিতে বাংলাদেশের উত্তরণের পেছনে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বেপজা তাদের অন্যতম। গত ৪৬ বছরে দেশের শিল্পায়ন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। সীমিত জমিতে সর্বোচ্চ উৎপাদন, দ্রুত ওয়ান-স্টপ সেবা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং উন্নত শিল্প সম্পর্কের কারণে বেপজা এখন বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের কাছেও একটি আস্থার ব্র্যান্ড। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বেপজার কার্যক্রমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রয়েছে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বেপজা রেকর্ড ৭১৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ প্রস্তাব পেয়েছে এবং ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পুঞ্জীভূত বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার। মোট পুঞ্জীভূত রপ্তানির পরিমাণ পৌঁছেছে ১২৭ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলারে, যেখানে জাতীয় রপ্তানি আয়ে বেপজার একক অবদান প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেপজার অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে আটটি সচল ইপিজেডে সরাসরি ৫ লাখ ৫১ হাজারের বেশি বাংলাদেশি কর্মরত আছেন, যার ৬৮ শতাংশই নারী। পোশাক খাতের পাশাপাশি ইলেকট্রনিকস, প্রযুক্তিপণ্য, ড্রোন, অটোমোবাইল, মেডিকেল সরঞ্জাম এবং প্রসাধনসামগ্রীর মতো বহুমুখী পণ্য উৎপাদিত হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং পটুয়াখালী, যশোর ও গাইবান্ধায় নতুন তিনটি ইপিজেড স্থাপনের কাজ চলছে, যা দেশের আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, ডিজিটাল সেবা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বেপজা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অগ্রযাত্রায় অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছে।
5:10 am, Friday, 31 July 2026
শিরোনাম :















